ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

২১ ঘণ্টার আলোচনায় ব্যর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতেই পৌঁছাতে পারেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলো মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা। ভ্যান্সের মতে, এই আলোচনায় চুক্তি না হওয়াটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি দুঃসংবাদ বয়ে আনবে। দীর্ঘ সময়ের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কোনো ইতিবাচক ফলাফল ছাড়া শেষ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

জেডি ভ্যান্স তার বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, ‘আমরা এখানে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক আলোচনা করেছি, যা ছিলো ইতিবাচক। তবে খারাপ খবর হচ্ছে যে, আমরা কোনো চুক্তিতেই পৌঁছাতে পারিনি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব কিংবা ‘ফাইনাল অ্যান্ড বেস্ট অফার’ দিয়ে আলোচনার টেবিল ত্যাগ করছে। এখন এই প্রস্তাব ইরান গ্রহণ করবে কি-না, তা সম্পূর্ণ তাদের ওপরে নির্ভর করছে। ভ্যান্সের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর নতুন কোনো শর্ত কিংবা ছাড় দিতে মোটেও প্রস্তুত নয়।

বিবৃতিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘সরল সত্যটি হলো, আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে হবে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না ও এমন কোনো প্রযুক্তিও অর্জন করবে না যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও দেয়।’

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর বিষয়ে তাদের মৌলিক সদিচ্ছা প্রমাণ করতে পারবে কি-না। কেবল দুই কিংবা তিন বছরের জন্য নয়, বরং স্থায়ীভাবে এই প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করাই ছিল ওয়াশিংটনের প্রধানতম লক্ষ্য।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ সময় ধরেই দরকষাকষি করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। জেডি ভ্যান্সের এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে যখন পারস্য উপসাগরে ড্রোন নিখোঁজ হওয়া ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে, তখন এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া মানেই সংঘাত আবারও তীব্রতর হতে পারে। বিশ্বনেতারা বর্তমানে তেহরানের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই ‘শেষ প্রস্তাব’ নিয়ে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত দেয় কি-না।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

২১ ঘণ্টার আলোচনায় ব্যর্থ হলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

আপডেট সময় ১২:৩৪:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে টানা ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতেই পৌঁছাতে পারেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানিয়েছেন, তেহরান ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্তগুলো মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, যা শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় ধরনের ধাক্কা। ভ্যান্সের মতে, এই আলোচনায় চুক্তি না হওয়াটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইরানের জন্যই বেশি দুঃসংবাদ বয়ে আনবে। দীর্ঘ সময়ের এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কোনো ইতিবাচক ফলাফল ছাড়া শেষ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

জেডি ভ্যান্স তার বিবৃতিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে, ‘আমরা এখানে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও গঠনমূলক আলোচনা করেছি, যা ছিলো ইতিবাচক। তবে খারাপ খবর হচ্ছে যে, আমরা কোনো চুক্তিতেই পৌঁছাতে পারিনি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি চূড়ান্ত ও সেরা প্রস্তাব কিংবা ‘ফাইনাল অ্যান্ড বেস্ট অফার’ দিয়ে আলোচনার টেবিল ত্যাগ করছে। এখন এই প্রস্তাব ইরান গ্রহণ করবে কি-না, তা সম্পূর্ণ তাদের ওপরে নির্ভর করছে। ভ্যান্সের এই কঠোর অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আর নতুন কোনো শর্ত কিংবা ছাড় দিতে মোটেও প্রস্তুত নয়।

বিবৃতিতে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, ‘সরল সত্যটি হলো, আমাদের একটি সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে হবে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না ও এমন কোনো প্রযুক্তিও অর্জন করবে না যা তাদের দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতাও দেয়।’

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র না বানানোর বিষয়ে তাদের মৌলিক সদিচ্ছা প্রমাণ করতে পারবে কি-না। কেবল দুই কিংবা তিন বছরের জন্য নয়, বরং স্থায়ীভাবে এই প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করাই ছিল ওয়াশিংটনের প্রধানতম লক্ষ্য।

ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা দীর্ঘ সময় ধরেই দরকষাকষি করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। জেডি ভ্যান্সের এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে।

বিশেষ করে যখন পারস্য উপসাগরে ড্রোন নিখোঁজ হওয়া ও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে, তখন এই শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া মানেই সংঘাত আবারও তীব্রতর হতে পারে। বিশ্বনেতারা বর্তমানে তেহরানের পরবর্তী প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন যে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া এই ‘শেষ প্রস্তাব’ নিয়ে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত দেয় কি-না।