ঢাকা ০৯:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নানা কৌশলে প্রতারণার আশ্রয় নিতেন তিনি

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:৫৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২
  • ৩০৯ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ
নিজের পরিচয় পাল্টে দীর্ঘদিন প্রতারণা করে আসছিলেন আরিয়ান আহম্মেদ (৩৭) নামের এক ব্যক্তি। সেই বহুরূপী প্রতারককে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তি কখনো কম্পিউটার ব্যবসায়ী, স্বর্ণ ব্যবসায়ী, কানাডাভিত্তিক এনজিওর কান্ট্রি ডিরেক্টর, মিডিয়া মালিক, আবার কখনোবা নিজেকে পরিচয় দিতেন প্রবাসী ব্যবসায়ী হিসেবে। এছাড়াও প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ থাকা, বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে মেজর, ইউএনও, পুলিশ সুপার বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়াসহ নানা কৌশলে প্রতারণার আশ্রয় নিতেন তিনি।
বুধবার (১৬ নভেম্বর) গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়েছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে মিরপুর জনতা হাউজিং এলাকা থেকে আরিয়ান নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়। সে ইতালি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তার আগেই তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরও বলেন, আরিয়ান মিজান নামে এক প্রবাসীর কাছ থেকে কম্পিউটার ব্যবসায় বিনিয়োগ করার নামে এক লাখ টাকা নেন। এরপর মেজরের জন্য সোনার বার কিনবেন বলে ৯ লাখ টাকা দামের সোনার বার নেন। এ ১০ লাখ টাকা পরিশোধের নাম করে তাকে চেক দেন। কিন্তু সেই অ্যাকাউন্টে এক টাকাও ছিল না।
মোহাম্মদ মহসীন জানান, মিঠুন সরকার নামে আরেক ব্যক্তির কাছে নিজেকে কানাডাভিত্তিক একটি এনজিওর কান্ট্রি ডিরেক্টর পরিচয় দেন আরিয়ান। এই এনজিওর উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে দেন বলে জানান তিনি। পরে সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কানাডায় নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানান তিনি। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার নামে মিঠুনের কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মাত্র এসএসসি পাস করা প্রতারক আরিয়ান।

পরবর্তী সময়ে মিজান ও মিঠুন এ ব্যাপারে অভিযোগ জানালে গতকাল মিরপুর জনতা হাউজিং এলাকা থেকে আরিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আরিয়ান ঢাকার দক্ষিণখানের পূর্ব আজমপুরের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এর আগেও আটটি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

নানা কৌশলে প্রতারণার আশ্রয় নিতেন তিনি

আপডেট সময় ০৩:৫৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ নভেম্বর ২০২২

সিএনএমঃ
নিজের পরিচয় পাল্টে দীর্ঘদিন প্রতারণা করে আসছিলেন আরিয়ান আহম্মেদ (৩৭) নামের এক ব্যক্তি। সেই বহুরূপী প্রতারককে রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার ব্যক্তি কখনো কম্পিউটার ব্যবসায়ী, স্বর্ণ ব্যবসায়ী, কানাডাভিত্তিক এনজিওর কান্ট্রি ডিরেক্টর, মিডিয়া মালিক, আবার কখনোবা নিজেকে পরিচয় দিতেন প্রবাসী ব্যবসায়ী হিসেবে। এছাড়াও প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ থাকা, বিভিন্ন সময় তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে মেজর, ইউএনও, পুলিশ সুপার বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়াসহ নানা কৌশলে প্রতারণার আশ্রয় নিতেন তিনি।
বুধবার (১৬ নভেম্বর) গ্রেফতারের বিষয়টি জানিয়েছেন উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) বিকেলে মিরপুর জনতা হাউজিং এলাকা থেকে আরিয়ান নামের এক প্রতারককে গ্রেফতার করা হয়। সে ইতালি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তার আগেই তাকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
তিনি আরও বলেন, আরিয়ান মিজান নামে এক প্রবাসীর কাছ থেকে কম্পিউটার ব্যবসায় বিনিয়োগ করার নামে এক লাখ টাকা নেন। এরপর মেজরের জন্য সোনার বার কিনবেন বলে ৯ লাখ টাকা দামের সোনার বার নেন। এ ১০ লাখ টাকা পরিশোধের নাম করে তাকে চেক দেন। কিন্তু সেই অ্যাকাউন্টে এক টাকাও ছিল না।
মোহাম্মদ মহসীন জানান, মিঠুন সরকার নামে আরেক ব্যক্তির কাছে নিজেকে কানাডাভিত্তিক একটি এনজিওর কান্ট্রি ডিরেক্টর পরিচয় দেন আরিয়ান। এই এনজিওর উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে দেন বলে জানান তিনি। পরে সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কানাডায় নিয়ে যাওয়া হয় বলেও জানান তিনি। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার নামে মিঠুনের কাছ থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন মাত্র এসএসসি পাস করা প্রতারক আরিয়ান।

পরবর্তী সময়ে মিজান ও মিঠুন এ ব্যাপারে অভিযোগ জানালে গতকাল মিরপুর জনতা হাউজিং এলাকা থেকে আরিয়ানকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আরিয়ান ঢাকার দক্ষিণখানের পূর্ব আজমপুরের গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় এর আগেও আটটি মামলা রয়েছে বলে জানায় পুলিশ।