ঢাকা ০৮:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কবি নজরুল কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

কবি নজরুল সরকারি কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ, গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে কলেজের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আবু জাফর। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শিরিন সুলতানা।

চার শহীদ পরিবারের সদস্যসহ কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন জুলাই যোদ্ধারা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ইকরাম হোসেন কাউসারের বাবা বলেন, ‘আমরা যদি বিভাজন করি, তাহলে আবার স্বৈরাচার ফিরে আসবে। আমরা সবাই একসঙ্গে মিলে আমাদের সুজলা-সুফলা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা বেশি কঠিন।’

কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, জুলাই জাদুঘরে কবি নজরুল কলেজের শহীদদের স্মৃতি ছাড়া প্রায় সবকিছু স্থান পেয়েছে। এটি দুঃখজনক।’‘ক্যাম্পাসে ছাত্র অধিকার পরিষদ থাকবে, ছাত্রদল থাকবে, ছাত্রশিবির থাকবে, ছাত্রশক্তি থাকবে; কিন্তু কোনো গুপ্ত রাজনীতি চলবে না। রাজনীতি করতে হলে প্রকাশ্যে করতে হবে।’

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা যারা ছাত্রদল করতাম, তারা বাসাবাড়িতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারতাম না। মামলা-হামলা করে স্বৈরাচার আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এ আন্দোলনে ছাত্রদলসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছিল।’

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমেদ ফাহিম শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শিক্ষার্থীদের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। তারেক রহমানের সরকার যেভাবে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জুলাইকে ধারণ করে এবং ছাত্রদল জুলাইকে নিয়ে ব্যবসা করবে না।’

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শহীদ পরিবারের সদস্যরা ক্যাম্পাসে আসায় আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। শহীদ কাওছারের বাবার কথা শুনে আমি আবেগাপ্লুত হয়েছি। শহীদ পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাই এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের হাতে জুলাই ক্রেস্ট তুলে দিতে পেরে আমি আনন্দিত।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবি নজরুল সরকারি কলেজের আহত শিক্ষার্থীদের হাতে জুলাই যোদ্ধা সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

কবি নজরুল কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত

আপডেট সময় ০৮:০৪:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সিএনএমঃ

কবি নজরুল সরকারি কলেজে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, স্মৃতিচারণ, গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা প্রদান এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে কলেজের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সভাপতিত্ব করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক ও শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আবু জাফর। অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. শিরিন সুলতানা।

চার শহীদ পরিবারের সদস্যসহ কলেজের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন জুলাই যোদ্ধারা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ইকরাম হোসেন কাউসারের বাবা বলেন, ‘আমরা যদি বিভাজন করি, তাহলে আবার স্বৈরাচার ফিরে আসবে। আমরা সবাই একসঙ্গে মিলে আমাদের সুজলা-সুফলা দেশকে এগিয়ে নিতে চাই। দেশে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে তা রক্ষা করা বেশি কঠিন।’

কলেজ শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি নাহিদ হাসান বলেন, ‘আমি দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি, জুলাই জাদুঘরে কবি নজরুল কলেজের শহীদদের স্মৃতি ছাড়া প্রায় সবকিছু স্থান পেয়েছে। এটি দুঃখজনক।’‘ক্যাম্পাসে ছাত্র অধিকার পরিষদ থাকবে, ছাত্রদল থাকবে, ছাত্রশিবির থাকবে, ছাত্রশক্তি থাকবে; কিন্তু কোনো গুপ্ত রাজনীতি চলবে না। রাজনীতি করতে হলে প্রকাশ্যে করতে হবে।’

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা যারা ছাত্রদল করতাম, তারা বাসাবাড়িতে ঠিকমতো ঘুমাতে পারতাম না। মামলা-হামলা করে স্বৈরাচার আমাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছিল। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতন হয়েছে। এ আন্দোলনে ছাত্রদলসহ সর্বস্তরের মানুষ অংশ নিয়েছিল।’

কবি নজরুল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ইরফান আহমেদ ফাহিম শুরুতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ শিক্ষার্থীদের মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করব। তারেক রহমানের সরকার যেভাবে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করবে। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জুলাইকে ধারণ করে এবং ছাত্রদল জুলাইকে নিয়ে ব্যবসা করবে না।’

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শহীদ পরিবারের সদস্যরা ক্যাম্পাসে আসায় আমরা তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। শহীদ কাওছারের বাবার কথা শুনে আমি আবেগাপ্লুত হয়েছি। শহীদ পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানাই এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। একই সঙ্গে জুলাই যোদ্ধাদের হাতে জুলাই ক্রেস্ট তুলে দিতে পেরে আমি আনন্দিত।’

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কবি নজরুল সরকারি কলেজের আহত শিক্ষার্থীদের হাতে জুলাই যোদ্ধা সম্মাননা স্মারক তুলে দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা।