ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আলোচিত ৩ হত্যা মামলার চার আসামি ভোটের মাঠে

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২
  • ২৩৩ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর তিনটি হত্যা মামলার চার আসামি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে একজন আছেন দুই হত্যা মামলার আসামি। এসব মামলায় তারা দীর্ঘদিন কারাবরণ করে এখন জামিনে এসে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। ইতোমধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২৭ মে প্রতীক পাওয়ার পর পুরোদমে প্রচারণায় নামবেন তারা।
অভিযুক্ত চারজনই কুসিকের সাবেক কাউন্সিলর। তারা হচ্ছেন- ২৩নং ওয়ার্ডের আলমগীর হোসেন, ২৫নং ওয়ার্ডের খলিলুর রহমান, ২৬নং ওয়ার্ডের আবদুস সাত্তার এবং ২৭নং ওয়ার্ডের আবুল হাসান। এর মধ্যে খলিলুর রহমান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বাকি তিনজন আওয়ামী লীগের অনুসারী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর সকালে কুমিল্লা নগরীর চৌয়ারা এলাকায় যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান জিলানীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার ছোট ভাই ইমরান হোসেন বাদী হয়ে ২৪ জনকে আসামি করে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলাটি করেন। ওই মামলায় ২৭নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর আবুল হাসানকে ১ নম্বর ও ২৬নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর আবদুস সাত্তারকে  ২ নম্বর আসামি করা হয়। এ ছাড়াও একই মামলার আসামি ২৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান।
অন্যদিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে একই বছরের ১০ জুলাই জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে কুমিল্লা নগরীর চাঙ্গিনী এলাকায় শত শত মানুষের সামনে কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন ও তার ভাইয়েরা আক্তার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। তাদের হামলায় আহত হয়েছিল আরও ছয়জন। এ ঘটনার পর দিন নিহত আকতার হোসেনের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সদ্যবিদায়ি কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এর আগে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে কুমিল্লা নগরীর বল্লভপুর এলাকায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই মামলারও আসামি সদ্যবিদায়ি কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সত্তার। গ্রেফতার হওয়া এক আসামির জবানবন্দিতে দেলোয়ার হত্যায় সাত্তারের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
দেশজুড়ে আলোচিত কুমিল্লা শহরের চাঞ্চল্যকর এই তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছিলেন সাবেক কাউন্সিলর ওই চার আসামি। আসন্ন সিটি নির্বাচন সামনে রেখে নিজ নিজ ওয়ার্ড থেকে আবারও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন তারা। বলছেন, ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক কারণেই তাদেরকে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে। আর আগামী নির্বাচনেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তারা।
২৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান বলেন, ‘জিল্লুর রহমানের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে এ হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।’
গ্রুপিংয়ের রাজনীতির কারণে দুটি হত্যা মামলায় আসামি হয়ে জেল খাটতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ২৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আগামী নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সত্তার।
তিনি বলেন, ‘দেলোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল গুরু-শিষ্যের মতো। একই কথা বলেছেন ২৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবু হাসান।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মতবিরোধ থেকে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

আলোচিত ৩ হত্যা মামলার চার আসামি ভোটের মাঠে

আপডেট সময় ০৪:৩৭:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২
কুমিল্লার আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর তিনটি হত্যা মামলার চার আসামি কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে একজন আছেন দুই হত্যা মামলার আসামি। এসব মামলায় তারা দীর্ঘদিন কারাবরণ করে এখন জামিনে এসে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছেন। ইতোমধ্যে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২৭ মে প্রতীক পাওয়ার পর পুরোদমে প্রচারণায় নামবেন তারা।
অভিযুক্ত চারজনই কুসিকের সাবেক কাউন্সিলর। তারা হচ্ছেন- ২৩নং ওয়ার্ডের আলমগীর হোসেন, ২৫নং ওয়ার্ডের খলিলুর রহমান, ২৬নং ওয়ার্ডের আবদুস সাত্তার এবং ২৭নং ওয়ার্ডের আবুল হাসান। এর মধ্যে খলিলুর রহমান বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বাকি তিনজন আওয়ামী লীগের অনুসারী।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২০ সালের ১১ নভেম্বর সকালে কুমিল্লা নগরীর চৌয়ারা এলাকায় যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান জিলানীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার ছোট ভাই ইমরান হোসেন বাদী হয়ে ২৪ জনকে আসামি করে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানায় একটি মামলাটি করেন। ওই মামলায় ২৭নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর আবুল হাসানকে ১ নম্বর ও ২৬নং ওয়ার্ডের তৎকালীন কাউন্সিলর আবদুস সাত্তারকে  ২ নম্বর আসামি করা হয়। এ ছাড়াও একই মামলার আসামি ২৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান।
অন্যদিকে পূর্বশত্রুতার জের ধরে একই বছরের ১০ জুলাই জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে কুমিল্লা নগরীর চাঙ্গিনী এলাকায় শত শত মানুষের সামনে কাউন্সিলর আলমগীর হোসেন ও তার ভাইয়েরা আক্তার হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে রড দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে। তাদের হামলায় আহত হয়েছিল আরও ছয়জন। এ ঘটনার পর দিন নিহত আকতার হোসেনের স্ত্রী রেখা বেগম বাদী হয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় সদ্যবিদায়ি কাউন্সিলর আলমগীর হোসেনকে প্রধান আসামি করে ১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
এর আগে ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর রাতে কুমিল্লা নগরীর বল্লভপুর এলাকায় কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই মামলারও আসামি সদ্যবিদায়ি কাউন্সিলর ও কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সত্তার। গ্রেফতার হওয়া এক আসামির জবানবন্দিতে দেলোয়ার হত্যায় সাত্তারের জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে বলে জানিয়েছিল পুলিশ।
দেশজুড়ে আলোচিত কুমিল্লা শহরের চাঞ্চল্যকর এই তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার হয়ে কারাভোগ করেছিলেন সাবেক কাউন্সিলর ওই চার আসামি। আসন্ন সিটি নির্বাচন সামনে রেখে নিজ নিজ ওয়ার্ড থেকে আবারও কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হয়েছেন তারা। বিষয়টি নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন তারা। বলছেন, ষড়যন্ত্র ও রাজনৈতিক কারণেই তাদেরকে এসব মামলায় জড়ানো হয়েছে। আর আগামী নির্বাচনেও জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তারা।
২৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও সাবেক কাউন্সিলর খলিলুর রহমান বলেন, ‘জিল্লুর রহমানের সঙ্গে আমার কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না। কোনো কারণ ছাড়াই আমাকে এ হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে।’
গ্রুপিংয়ের রাজনীতির কারণে দুটি হত্যা মামলায় আসামি হয়ে জেল খাটতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন ২৬নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও আগামী নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুস সত্তার।
তিনি বলেন, ‘দেলোয়ার ভাইয়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল গুরু-শিষ্যের মতো। একই কথা বলেছেন ২৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবু হাসান।
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক মতবিরোধ থেকে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আগামী ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।