ঢাকা ০৭:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দলে ফেরার চেষ্টায় মোসাদ্দেক

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:৪৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২
  • ২৪৩ বার পড়া হয়েছে
গড় ৫১.৭৮। ৪ সেঞ্চুরির সঙ্গে ৯ হাফসেঞ্চুরিতে ২৪ ম্যাচে রান করেছেন ১ হাজার ৭০৯। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্সের পরও নির্বাচকদের বিরাগভাজন হওয়ায় টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হয়নি মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর। এটা নিয়ে প্রায়শই আক্ষেপ শোনা যায় নিজ সময়ে দেশের সেরা এই ব্যাটারের কণ্ঠে। এই নান্নুই লম্বা সময় ধরে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে আছেন, তারপরও কিনা ৪২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৫৫.৯৮ গড়ে ৩ হাজার ২৪৭ রান করা মোসাদ্দেক হোসেন টেস্ট দলে অপাংক্তেয়!
প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েই ২০১৭ সালের মার্চে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ক্যাপ পান মোসাদ্দেক। অভিষেকেই খেলেন ৭৫ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ১০ মাস অপেক্ষার পর আসে দ্বিতীয় টেস্ট খেলার সুযোগ। সেবার নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বলেই কি না পরবর্তী টেস্টটি খেলার জন্য ২০ মাস অপেক্ষা করতে হয় ২৬ বছর বয়সি ময়মনসিংহের এই ব্যাটারকে। চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওই টেস্ট মন্দ ছিল না মোসাদ্দেকের পারফরম্যান্স, কিন্তু এরপর চতুর্থ টেস্ট খেলার ডাক আর আসেনি। অপেক্ষা কেবলই দীর্ঘ হচ্ছে তার।
টেস্ট আঙিনায় পা দেওয়ার আগের বছরই অবশ্য ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক মোসাদ্দেকের। পরিতাপের বিষয়, এই দুই সংস্করণেও থিতু হতে পারেননি তিনি। অবশ্য ৪০ ওয়ানডেতে ৬২০ রান আর ১৪ উইকেট, ১৬ টি-টোয়েন্টিতে ২০০ রান আর ৫ উইকেট- এমন ম্রিয়মাণ পারফরম্যান্স দিয়ে এখন বাংলাদেশ দলে টিকে থাকাটাও কঠিন। সীমিত ওভারের দুই সংস্করণে তিনি যে জায়গায় ব্যাট করার সুযোগ পেতেন, সেই জায়গায় এখন আফিফ হোসেন থিতু হয়ে গেছেন। নিয়মিতই পারফর্ম করছেন ওই তরুণ, যে কারণে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে মোসাদ্দেকের ফেরার চ্যালেঞ্জটা হয়ে উঠেছে আরও কঠিন।
পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে দুর্বলতা রয়েছে, চোখের সমস্যায় ভুগেছেন অনেকদিন। এরপরও সীমিত ওভারের সংস্করণে গত বছরের জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় দলে ছিলেন মোসাদ্দেক। জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে শেষ ওয়ানডে খেলেন তিনি, পরের মাসে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন শেষ টি-টোয়েন্টি। এরপর ‘গোপন’ এক কারণে দলেই আর ডাক পাননি এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার! গুঞ্জন আছে, কারণটা টেকনিক্যাল নয়, ডিসিপ্লিনারি। আসলে মোসাদ্দেকের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঘটনার প্রভাবও রয়েছে তার দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পেছনে।
মোসাদ্দেক হয়তো এর সবটাই বুঝতে পারছেন। তার জাতীয় দলে ফেরার পথটা যে অনেক বেশি খনাখন্দে ভরা, বুঝতে পারছেন সেটাও। এরপরও চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন ২৬ বছর বয়সি ব্যাটার। নিজের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যেখানেই খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, পারফর্ম করছেন। আজ শেষ হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের এবারের আসরেও যেমন আবাহনীর হয়ে ১৪ ম্যাচে ৭ হাফসেঞ্চুরিতে ৫০.৬১ গড়ে করেছেন ৬৫৮ রান। এনামুল হক বিজয় আর নাঈম ইসলামের পেছনে থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি অফস্পিনে নিয়েছেন ১৩ উইকেট।
এমন পারফরম্যান্সের পরও মোসাদ্দেক কেবল বলতে পারলেন, ‘আমি যেখানেই খেলছি, ভালো খেলার চেষ্টা করছি। আলহামদুলিল্লাহ (ভালো হচ্ছে)। সেটা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। এভাবে চালিয়ে যেতে থাকলে আমি আশা করি আমার সুযোগ আসবে।’ ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনীর অধিনায়ক যোগ করলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি জাতীয় দলে ফেরার জন্য। এখন নির্বাচকরা যেখানে আমাকে যোগ্য ভাববেন সেখানেই রাখবেন। আমি আমার কাজটা করছি। প্রিমিয়ার লিগ শেষ হোক, অনুশীলন শুরু করব। এরপর অন্য কোনো খেলা থাকলে সেটা খেলব।’
নির্বাচকরা কী ভাবছেন মোসাদ্দেককে নিয়ে? কদিন আগে আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, যারা যারা পারফর্ম করেছেন, তারা নির্বাচকদের রাডারে আছেন। যখন যাকে দলে প্রয়োজন হবে, তাকে নেওয়া হবে। একই সুরে কথা বলেছেন আরেক নির্বাচক হাবিবুল বাশারও। প্রধান নির্বাচক নান্নুও বললেন, ‘যারা পারফর্ম করছেন, প্রত্যেকেই আমাদের বিবেচনায় আছেন।’
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

দলে ফেরার চেষ্টায় মোসাদ্দেক

আপডেট সময় ১০:৪৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ এপ্রিল ২০২২
গড় ৫১.৭৮। ৪ সেঞ্চুরির সঙ্গে ৯ হাফসেঞ্চুরিতে ২৪ ম্যাচে রান করেছেন ১ হাজার ৭০৯। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এমন পারফরম্যান্সের পরও নির্বাচকদের বিরাগভাজন হওয়ায় টেস্ট খেলার সৌভাগ্য হয়নি মিনহাজুল আবেদীন নান্নুর। এটা নিয়ে প্রায়শই আক্ষেপ শোনা যায় নিজ সময়ে দেশের সেরা এই ব্যাটারের কণ্ঠে। এই নান্নুই লম্বা সময় ধরে জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের দায়িত্বে আছেন, তারপরও কিনা ৪২টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৫৫.৯৮ গড়ে ৩ হাজার ২৪৭ রান করা মোসাদ্দেক হোসেন টেস্ট দলে অপাংক্তেয়!
প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটিয়েই ২০১৭ সালের মার্চে কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট ক্যাপ পান মোসাদ্দেক। অভিষেকেই খেলেন ৭৫ রানের অসাধারণ এক ইনিংস। ১০ মাস অপেক্ষার পর আসে দ্বিতীয় টেস্ট খেলার সুযোগ। সেবার নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি বলেই কি না পরবর্তী টেস্টটি খেলার জন্য ২০ মাস অপেক্ষা করতে হয় ২৬ বছর বয়সি ময়মনসিংহের এই ব্যাটারকে। চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওই টেস্ট মন্দ ছিল না মোসাদ্দেকের পারফরম্যান্স, কিন্তু এরপর চতুর্থ টেস্ট খেলার ডাক আর আসেনি। অপেক্ষা কেবলই দীর্ঘ হচ্ছে তার।
টেস্ট আঙিনায় পা দেওয়ার আগের বছরই অবশ্য ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক মোসাদ্দেকের। পরিতাপের বিষয়, এই দুই সংস্করণেও থিতু হতে পারেননি তিনি। অবশ্য ৪০ ওয়ানডেতে ৬২০ রান আর ১৪ উইকেট, ১৬ টি-টোয়েন্টিতে ২০০ রান আর ৫ উইকেট- এমন ম্রিয়মাণ পারফরম্যান্স দিয়ে এখন বাংলাদেশ দলে টিকে থাকাটাও কঠিন। সীমিত ওভারের দুই সংস্করণে তিনি যে জায়গায় ব্যাট করার সুযোগ পেতেন, সেই জায়গায় এখন আফিফ হোসেন থিতু হয়ে গেছেন। নিয়মিতই পারফর্ম করছেন ওই তরুণ, যে কারণে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টিতে মোসাদ্দেকের ফেরার চ্যালেঞ্জটা হয়ে উঠেছে আরও কঠিন।
পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে দুর্বলতা রয়েছে, চোখের সমস্যায় ভুগেছেন অনেকদিন। এরপরও সীমিত ওভারের সংস্করণে গত বছরের জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত জাতীয় দলে ছিলেন মোসাদ্দেক। জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে শেষ ওয়ানডে খেলেন তিনি, পরের মাসে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন শেষ টি-টোয়েন্টি। এরপর ‘গোপন’ এক কারণে দলেই আর ডাক পাননি এই ব্যাটিং অলরাউন্ডার! গুঞ্জন আছে, কারণটা টেকনিক্যাল নয়, ডিসিপ্লিনারি। আসলে মোসাদ্দেকের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ঘটনার প্রভাবও রয়েছে তার দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পেছনে।
মোসাদ্দেক হয়তো এর সবটাই বুঝতে পারছেন। তার জাতীয় দলে ফেরার পথটা যে অনেক বেশি খনাখন্দে ভরা, বুঝতে পারছেন সেটাও। এরপরও চ্যালেঞ্জটা নিচ্ছেন ২৬ বছর বয়সি ব্যাটার। নিজের সবটুকু নিংড়ে দিয়ে ফেরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। যেখানেই খেলার সুযোগ পাচ্ছেন, পারফর্ম করছেন। আজ শেষ হতে যাওয়া ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের এবারের আসরেও যেমন আবাহনীর হয়ে ১৪ ম্যাচে ৭ হাফসেঞ্চুরিতে ৫০.৬১ গড়ে করেছেন ৬৫৮ রান। এনামুল হক বিজয় আর নাঈম ইসলামের পেছনে থেকে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হওয়ার পাশাপাশি অফস্পিনে নিয়েছেন ১৩ উইকেট।
এমন পারফরম্যান্সের পরও মোসাদ্দেক কেবল বলতে পারলেন, ‘আমি যেখানেই খেলছি, ভালো খেলার চেষ্টা করছি। আলহামদুলিল্লাহ (ভালো হচ্ছে)। সেটা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করব। এভাবে চালিয়ে যেতে থাকলে আমি আশা করি আমার সুযোগ আসবে।’ ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনীর অধিনায়ক যোগ করলেন, ‘আমি চেষ্টা করছি জাতীয় দলে ফেরার জন্য। এখন নির্বাচকরা যেখানে আমাকে যোগ্য ভাববেন সেখানেই রাখবেন। আমি আমার কাজটা করছি। প্রিমিয়ার লিগ শেষ হোক, অনুশীলন শুরু করব। এরপর অন্য কোনো খেলা থাকলে সেটা খেলব।’
নির্বাচকরা কী ভাবছেন মোসাদ্দেককে নিয়ে? কদিন আগে আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, যারা যারা পারফর্ম করেছেন, তারা নির্বাচকদের রাডারে আছেন। যখন যাকে দলে প্রয়োজন হবে, তাকে নেওয়া হবে। একই সুরে কথা বলেছেন আরেক নির্বাচক হাবিবুল বাশারও। প্রধান নির্বাচক নান্নুও বললেন, ‘যারা পারফর্ম করছেন, প্রত্যেকেই আমাদের বিবেচনায় আছেন।’