ঢাকা ০২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাবাগান এলাকায় পুলিশের নাকের ডগায় নারী ও মাদক ব্যবসা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:২৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
  • ৩২ বার পড়া হয়েছে
কলাবাগান এলাকায় পুলিশের নাকের ডগায় নারী ও মাদক ব্যবসা
সিএনএম প্রতিবেদনঃ
দেশব্যাপী দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে সেই মুহূর্তে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাগণ অপরাধীদের অপরাধ কর্ম করতে গোপনে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এরি মধ্যে কলাবাগান থানা এলাকার আইন শৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে একটি মানবাধিকার সংস্থা কলা বাগান থানা এলাকার বেশ কিছু আবাসিক হোটেলে চলা মাদক ও নারী ব্যবসার তালিকা তৈরি পূর্বক প্রতিবেদন আইজিপি সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ আকারে পাঠিয়েছেন। উক্ত প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিষয়ঃ

আবাসিক হোটেলের অর্ন্তরালে আইন বর্হিভুত নারী ঘটিত ব্যবসায়ী এবং পাঁচারকারী যারাঃ
১। মোঃ রাসেল (৪০)  ২। মোঃ ইউসুফ ওরফে রিপন (৩৫) ৩। মোঃ মিজান (৫০) ৪। মোঃ রনি (৪২) ৫। মোঃ আজাহার (৪৮) ৬। মোঃ মামুন (৪৫)  ৭। মোঃ জুলহাস (৫০) ৮। মোঃ রুবেল (৪০) ৯। মোঃ আবুল হোসেন সবুজ (৩৮) ১০। অজ্ঞাতনামা আরো শতাধিক।

ভিজিটিং কার্ড বিলি করে খদ্দের সংগ্রহ করে যারা তারাই নারী সংগ্রহকারী এরা হলোঃ

(১) কাইয়ুম ভাই, মোবাইলঃ ০১৩১৪১৮৭১৫১,   (২) আসিফ ভাই, ০১৭২৪-২৯২৩৪৪
(৩) জনি ভাই, মোবাইল-০১৭৮৯৯৯৩৯৮৫, (৪) সরোয়ার ভাই, মোবাইল নং-০১৭৪০২৮৫০২৩,
যাদের সঠিক নাম জানা যায় নি তাদের শুধু মোবাইল নাম্বার
(৫) হোটেল জমজম ০১৮১১-৯৯৬৫৫৫, ০১৩০৩-৩০৫০৮০  (৬) হোটেল শাহনিবাস মোবাইলঃ ০১৯১২-০৩৫১৫১ (৭) হোটেল গ্রিন গার্ডেন মোবাইলঃ ০১৮১০-৫২৬৬৬৬, ০১৮১৪-২৫৬৬৬৬ (৮) হোটেল ঢাকা নিবাস আবাসিক, মোবাইলঃ ০১৮৫৯-২৬৩৮৬৪ (৯) হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, মোবাইলঃ ০১৩৫০-১৩৭২৫১ (১০) হোটেল রিলাক্স আবাসিক, মোবাইল ঃ ০১৭৯৮-০০৩৬৬৭  (১১) রেডিয়ান আবাসিক হোটেল, মোবাইল ঃ ০১৪০১-২১০০৯৯ (১২) হোটেল রোজ হ্যাভেন, মোবাইল ঃ ০১৭৩৫৬৫৩৫৮৫ (১৩) হোটেল তাজ, মোবাইলঃ ০১৩২৩৭০৮৮৬০ (১৪) হোটেল পান্থপথ মোবাইলঃ ০১৩১২০৬৯৯৭১  (১৫) হোটেল ইমেজ, মোবাইলঃ ০১৯৪৭৭০৯০৬০ (১৬) হোটেল ওলিও আবাসিক মোবাইলঃ ০১৬৪১-৮৯৫৪৩১ (১৭) হোটেল স্বপ্ন নিবাস, মোবাইলঃ ০১৭১২৫৭৫৭২৬ (১৮) রোজ ভ্যালি, (১৯) হোটেল সানফ্লাওয়ার, (২০) নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, মোবাইলঃ ০১৭১২-৫৭৫৭২৬ (২১) মোঃ মিরাজ, মোবাইলঃ ০১৯৪২-৭৭৩১২৯
পাঁচারকারীদের খপ্পরে পরে যে সকল ভুক্তভোগী নারী দালালদের জিম্মি দশায় আটক রয়েছেঃ

ক) সোনালী খ) নাসরিন গ) আসমা ঘ) পপি ঙ) বৃষ্টি চ) রুনা  ছ) কাজল জ) আঁখি যে সকল আটক নারীদের সাথে কথা বলে তাদের নাম ঠিকানা জানা যায় নি এ রকম শিশু-কিশোরী মেয়ে হোটেল গুলোতে জিম্মি রয়েছে প্রায় ৭-৮ জন। যাদের বয়স ১৫-১৬ এর মধ্যে। তাদের সাথে সব সময় পাহারায় লোক থাকে। দালালদের চিহ্নিত খদ্দের ছাড়া কারো সাথে কথা বলতে দেওয়া হয় না।
ঘটনাস্থলের নাম ও ঠিকানা
১। হোটেল জমজম আবাসিক, সাং-৬৭/১/৬৭/১-৩, গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা।
২। হোটেল শাহনিবাস, সাং-৬৭/১/৬৭/১-বি, গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা।
৩। হোটেল গ্রীন গার্ডেন আবাসিক, সাং-৬৭/১, গ্রীন রোড, জমজম টাওয়ার, থোনা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা।
৪। হোটেল ঢাকা নিবাস, সাং-২৩১,  গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা-১২০৫।
৫। হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনার, সাং-৩৪, নওয়াব ম্যানসন, গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা-১২০৫।
৬। হোটেল রিলাক্স আবাসিক, সাং-৬১/১, গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা।
৭। রেডিয়ান আবাসিক হোটেল, সাং- এ কে কমপ্লেক্স, ১৯নং গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা।
৮। হোটেল মুনা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, সাং-৩৭/৩৮, আহামেদ প্লাজা, গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
৯। হোটেল গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল আবিসক, সাং-৩৭/৩৮, আহামেদ প্লাজা, (৪র্থ তলা)  গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা (গ্রীন লাইফ হসপিটালের উত্তর পাশের্^)।
১০।  হোটেল রোজ হ্যাভেন, সাং-সিএনএল টাওয়ার, ৪৩/আর-৫/এ, পান্থপথ, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১১।  হোটেল তাজ সাং-২০/৫, উত্তর ধানমন্ডী, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১২।  হোটেল পান্থপথ সাং-২০/৫, রশিদ স্কয়ার, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৩। হোটেল ইমেজ, সাং-১৮/এ, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৪। হোটেল ওলিও আবাসিক সাং-৪৭/১-সি, পান্থপথ থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৫। হোটেল স্বপ্ন নিবাস সাং-হোল্ডিং অজ্ঞাত, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৬। রোজ ভ্যালি, সাং- ফি স্কুল সংলগ্ন, হাতিরপুল, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৭। হোটেল সানফ্লাওয়ার, সাং- ফি স্কুল সংলগ্ন, হাতিরপুল, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৮। নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, সাং- থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা-১২০৫
ঘটনাস্থল থানার নাম
কলাবাগান থানা এলাকা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ
উক্ত হোটেলে কারা বোর্ডারঃ
অসামাজিক কর্মকান্ড চলা হোটেলগুলোতে স্থানীয় পুলিশের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ইন্সপেক্টর তদন্ত এবং ইন্সপেক্টর অপারেশন সহ অজ্ঞাতনামা অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে অপরাধীদের সখ্যতা থাকায় হোটেলে পুলিশের সন্দেহ ভাজন তল্লাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আনাগোনা কম থাকে। সেখানে চলা অপরাধ কর্ম স্থানীয় থানা পুলিশের ঝামেলা মুক্ত থাকায় নানাবিধ অপরাধীরা ঐ হোটেলগুলো নিরাপদ মনে করেন। সেখানে অপরাধীরা আস্তানা বানায়। বিভিন্ন থানার মামলার দাগী দোষী ফেরারি আসামীরা ও মাদক কারবারী এবং দেশদ্রোহী দেশে অরাজকতা সৃষ্টিকারী ও পরিকল্পনাকারী ব্যক্তিবর্গ সহ নানাবিধ অপরাধীরা হোটেলগুলোতে বোর্ডার সেজে নিয়মিত বসবাস করে। কখনো পুলিশের কোন বিশেষ অভিযানে কেউ গ্রেফতার হলে তাদেরকে হোটেল স্টাফ বা বোর্ডার দেখিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়।  বেশিভাগ ক্ষেত্রেই যারা দালাল ও নারী পাচারকারী তারাই বোর্ডার। ঐ সকল অপরাধী নারী ঘটিত অপরাধ কর্ম পরিচালনা করার জন্য হোল্ডিং মালিকদের মোটা অংকের সালামি দিয়ে সবকিছু জানিয়ে শুনিয়ে সেখানে নারী ঘটিত ও মাদক ব্যবসার আস্তানা বানাতে হোল্ডিং ভাড়াটিয়া ও পাচারকারীদের যাবতীয় সহযোগিতা করে। সেখানে যে ধরনের অপরাধ হয় উহা হোল্ডিং মালিকদের সহযোগিতাই হয়।
(১) বিভিন্ন মেয়েদের প্রথমে পাচারকারী দালালরা নারীদের সাথে প্রেম করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হোটেলগুলোতে এনে কৌশলগত ভাবে বোর্ডার সেজে রুম নেয়। আগত মেয়েরা বুঝতেই পারে না এই হোটেলেই তার সর্বনাশ হবে। এক পর্যায়ে প্রেমিক বেশে দালালরা নিজেরা তাদের বিয়ে না করে বিয়ে করার ছলনায় মেয়েদের সাথে দৈহিক মেলামেশা করে এরপর হোটেল ভাড়াটিয়া মালিকদের বন্ধু বান্ধব সাজিয়ে ঐ সকল মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গণধর্ষণ করায় এরপর হোটেলে আটক করিয়া বহিরাগত বিভিন্ন পুরুষ দিয়ে ধর্ষণ করায় এক পর্যায় দেহজীবী বানিয়ে হোটেলগুলোর রুমগুলোকে পতিতালয় বানিয়ে সংগ্রহ করা মেয়েদের ঐ হোটেলের হল রুমে বসিয়ে রেখে বহিরাগত পুরুষ খদ্দের দ্বারা দেহ ব্যবসা করায়।
দালালরা খদ্দের জোগাতে রাজধানী সহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ভিজিটিং কার্ড বিলি করে। পথে ঘাটে চোখ পরলেই দেখা যায় বিভিন্ন হোটেলের ভিজিটিং কার্ড। ঐ কার্ডে দালালদের মোবাইল নাম্বার সংযুক্ত করে দিয়ে খদ্দেরদের আহ্বান করার লক্ষ্যে ঐ সকল ভিজিটিং কার্ড  বিলি করে। হোটেলে আটক মেয়েরা কেউ পালানোর চেষ্টা করলে দালালদের নিয়োজিত নারী দালালও রয়েছে। যারা নিজেরা দেহ ব্যবসা করে এবং হোটেলে আগত নবাগত মেয়েদের খদ্দেরের মাঝে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত করে। আর যাতে নবাগত মেয়েরা পালাতে না পারে সে বিষয়ে পাহারাদার হিসেবে কাজ করে। ঐ সকল পাহারাদার মেয়েরা পাচারকারী দালালদের অনেকেরই বিয়ে করা স্ত্রী। টাকা কামানোর লালসায় পাচারকাজে ব্যস্ত হয়ে পরেন।
যেভাবে নারী সংগ্রহ করে পাঁচারকারীরা
অ) এক শ্রেণির দালালরা শুধু প্রেম করে মেয়েদের সংগ্রহ করে হোটেলে এনে হোটেল মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়।
ই) দ্বিতীয় শ্রেনির দালালরা বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালতে কাজ দেওয়ার কথা বলে মেয়েদের এনে হোটেলগুলোতে রেখে যায়।
ঈ) একাধিক মেয়েকে তাদের নির্ধারিত ঘটকের মাধ্যমে বিয়ে করে কিছুদিন সংসার করে এরপর কৌশলে হোটেলে এনে দেহজীবী বানায়।
উ) চতুর্থ শ্রেণির দালালরা মেয়েদের ইউটিউবার বা টেলিভিশন বা সিনেমার পর্দায় দেখানো আকর্ষণীয় নাটকের নায়িকা বা সাইট নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের সংগ্রহ করিয়া কৌশলে হোটেলগুলোতে এনে তাদের দেহজীবী বানায়।
ঊ) পঞ্চম শ্রেণির দালালরা সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে হোটেল গুলোতে এনে নানা ধরনের শারীরিক নির্যাতনের ফলে তাদের দেহজীবী বানায়।
ঋ) ষষ্ঠ শ্রেণির দালালরা হোটেলে মেয়েদের ক্লিনার সাজাইয়া রুমে রুমে বসাইয়া রাখিয়া দেহ ব্যবসা করায়। কিছু কিছু খদ্দেরদের বুঝায় ঐ সকল মেয়েরা ক্লিনারের চাকরী করে দেহজীবী নয়। তাই চড়া দাম হেকে তাদের পুরুষ খদ্দেরদের কাছে দেহ বিক্রি করে।
এ) সপ্তম শ্রেণির দালালরা বিভিন্ন কৌশলে মেয়েদের সংগ্রহ করিয়া নানা ফন্দি ফিকির করে দেশের পতিতালয়গুলোতে নিয়ে চড়া দামে মেয়েদের বিক্রি করে দিয়ে আসে। পতিতালয়ের সর্দারনিরা ঐ সকল মেয়েদের আটক বা জিম্মি করে দেহ জীবী বানায়।
অনুসন্ধানকালে মানবাধিকার কর্মীরা যেভাবে বাধা বিপত্তির শিকার হয়ে ও বিভিন্ন ঘটনা জানতে পারেঃ
হোটেলগুলোতে পৃথক ভাবে অনুসন্ধানকালে আমরা মানবাধিকার কর্মী এক পর্যায়ে আমাদের পরিচয় দালাল চক্ররা পাওয়ায় আমাদের নানা ধরনের হুমকি দিয়ে হোটেলগুলোর এলাকা হতে সরে যেতে বলে। আমরা পুলিশকে খবর দিব বললে পাচারকারী দালালরা বলে, পুলিশকে খবর দিয়ে কোন লাভ নেই। আমরা হোটেলগুলোতে যা ইনকাম করি তার সিংহভাগ স্থানীয় কলাবাগান থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সেপেক্টর তদন্ত, ইন্সেপেক্টর অপারেশন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) কে দিয়ে থাকি। পুলিশ আমাদের কেনা।
এরিমধ্যে হোটেল মালিক ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে দালালরা বলে, কলাবাগান থানা এলাকার আবাসিক হোটেল গুলোতে যে ধরনের অপরাধ কর্ম হয় তাহা স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নলেজে দিয়ে হয়। আপনাদের কিছু বলার থাকলে থানায় গিয়ে ওসিকে বলেন, আমরা এখানে কি ধরনের অপকর্ম করি যা আপনারা দেখেছেন তাই বলেন, দেখি কি করতে পারেন।
কলাবাগান থানা পুলিশের ভূমিকাঃ
স্থানীয় কলাবাগান থানা এলাকার উল্লেখিত আবাসিক হোটেলে চলা অপকর্মের বিরুদ্ধে একাধিকবার পৃথকভাবে পুলিশকে অবগত করে  তার কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই। কলাাবাগান থানার অফিসার ইনচার্জ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চান না হোটেলে চলা নারী, মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ হউক বা হোটেলে নানাবিধ অপরাধীদের আস্তানা চিরতরে নির্মূল হউক। বিভিন্ন মাদক কারবারী, নারী পাচারকারী, ছিনতাইকারী, মলম পার্টি সহ নানা বিধ অপরাধীরা ঐ হোটেলে নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে তাদের সুবিধামতো নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ড করে থাকে। তাদেরকে ফোন দিলে উল্টো খবর চলে আসে হোটেল নারী ব্যবসায়ীদের কাছে। এছাড়া হোটেল অপরাধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে অভিযোগকারীর আর হয়রানির শেষ থাকে না। অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা উল্টো অভিযোগকারী হয়রানির শিকার হয়। এলাকাবাসীর অনেকেই আমাদের কাছে বলেছেন মাঝে মধ্যে পুলিশ লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে কিছু খদ্দের ধরে নিয়ে যায়। নারী পাচারের সাথে জড়িত ভবন মালিক বা হোটেল ভাড়াটিয়া মালিক, স্টাফ পরিচয়ে দালাল চক্রকে কখনোই পুলিশ গ্রেফতার দেখায় না। এভাবেই চলছে কলাবাগান থানা এলাকার আবাসিক হোটেলগুলো।
যে ভাবে অনুসন্ধান করা হয়ঃ
গত ১৫/০৬/২০২৬ইং তারিখ বেলা ৩ ঘটিকার সময় আমি মোঃ আলমগীর অপরাধ অনুসন্ধানকারী ও আমার সহকারী, মাকসুদা ও জারিয়া, সুমন, আব্বাস, সহ কলাবাগান এলাকায় গিয়ে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া  ভিজিটিং কার্ডে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের নাম ও সেখানে নারী পাচারকারী দালালদের নাম ও মোবাইল নাম্বার দেখতে পাই। ঐ নাম্বারে ফোন করে এক পর্যায় পৃথকভাবে তাদের সাথে উল্লেখিত আবাসিক হোটেলগুলোতে পৃথক ভাবে হোটেলগুলোতে আমরা প্রবেশ করি এবং হোটেল ঘুরে ঘুরে খদ্দের বেশে মেয়েদের বাছাই করি। বাছাই পর্বের এক পর্যায় নানা কৌশলে মেয়েদের সাথে কথা বলি। সেখানকার নবাগত মেয়েরা জানায়, ঐ সকল মেয়েদের গার্মেন্টস বাসা-বাড়ি ও বিদেশে পাঠানো সহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ দেওয়ার প্রলোভনে হোটেল দালালরা তাদের সংগ্রহ করিয়া উক্ত হোটেলে আনিয়া প্রথমে একটি রুমে নিয়া আটক রাখিয়া তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক হোটেল মালিক ও ভবন মালিক সহ দালালরা তাদের গণধর্ষণ করে পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন পূর্বক বিভিন্ন পুরুষের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে তাদের বাধ্য করে। ঐ সকল মেয়েরা বিভিন্ন পুরুষের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে না চাইলে তাদের দিয়ে বিভিন্ন পুরুষের সাথে করানো অসামাজিক কার্যকলাপের দালালরা গোপনে ঐ সকল দৃশ্য ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে রেখে আটক মেয়েদের অসামাজিক কার্যকলাপের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে নানা ধরনের ভয়-ভীতি পূর্বক বিভিন্ন পুরুষের সাথে অপকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করে।
একেক দিন একই নারী পাচারকারী চক্রের একেক হোটেলে নিয়ে তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করায়। তারা এখান থেকে পালিয়ে যেতে পারে না। তাদের নির্যাতনের কথা তুলে ধরে বলে, তারা কোন পুরুষের সাথে খারাপ কাজ করতে না চাইলে দালাল চক্র তাদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে যেমন-বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়, এমনকি নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করানো সহ নানা কৌশলের নির্যাতনের ফলে তারা বিভিন্ন পুরুষদের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে বাধ্য হয়। তাদের ভয় দেখানো হয়ে থাকে। কোন মেয়ে যদি খদ্দেরের সাথে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রকাশ করে তাহলে তাদের দিয়ে করানো গোপন ক্যামেরায় করে রাখা ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটের যোগযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের নির্ধারিত দেশ বিদেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে তাদের অন্ন সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হবে। নানাবিধ ভয় দেখিয়ে ঐ সকল মেয়েদের দিনের পর দিন হোটেলগুলোতে আটক রেখে গণধর্ষণ পূর্বক অসামাজিক কার্যকলাপ করানো হচ্ছে। এ রকম বেশ কিছু মেয়ের সাথে কথা বলি। তারা একই ধরনের নির্যাতনের বর্ণনা বলে। অনেকেই হাউ মাউ করে কেঁদে ওঠে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত যেতে চায়। এভাবে উল্লেখিত হোটেলগুলোতে পৃথকভাবে অনুসন্ধান করে প্রায় ১৫-১৬ জন মেয়ে আটকের সন্ধান পাই। তবে কারোই পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা জানতে পারিনি। অনুসন্ধানকালে এলাকাবাসীর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের নাম গোপন রাখা স্বত্ত্বে আমাদের বলেন, হোটেলে অপকর্ম চলে ভবন মালিক ও থানার অফিসার ইনচার্জ, ওসি তদন্ত, ইন্সেপেক্টর অপারেশন ও জোনের এসির সহযোগীতায়। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সহযোগীতা না করলে এ হোটেলগুলোতে মেয়ে মানুষ আটকে রাখা তো দূরের কথা কোন ধরনের অপকর্ম হতো না। এক পর্যায় নারী পাচারকারী হোটেল ভাড়াটিয়া মালিক কয়েকজনের নেতৃত্বে বেশকিছু লোক এসে আমাদের চারদিক ঘিরে ফেলে আমাদের নানা ধরণের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করিয়া এবং সাংবাদিকতার, মানবাধিকারগিরির স্বাদ মিটিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ঐ সকল নারী পাচারকারীদের হুমকি ধমকির শিকার হয়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি এছাড়াও তারা বলে, আপনারা আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন যেখানে খুশি সেখানে অভিযোগ দেন দেখবেন আমাদের কিছুই হবে না বরং আপনারাই ঝামেলায় পরবেন। কলাবাগান থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সেপেক্টর তদন্ত, ইন্সেপেক্টর অপারেশন, সহ এসি আমাদের কেনা। প্রতি মাসেই আমাদের হোটেলগুলো হতে এরা মোটা অংকের মাসোহারা তারা পায়। কলাবাগান থানা এলাকা ছাড়াও ডিএমপি সহ ঢাকা জেলার মধ্যে এরকম আবাসিক হোটেল আমাদের প্রায় ৩০-৩৫ টি রয়েছে।
এ সকল হোটেলের বিরুদ্ধে পত্র পত্রিকা সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে থানার স্যারেরা লোভ দেখানো অভিযান চালিয়ে আমাদের ধরে নিয়ে সামান্য ছোট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। এরপর তারাই আমাদের দিয়ে পুনরায় একই কায়দায় আবাসিক হোটেল এর কর্মকান্ড চলমান অপকর্মে গোপনে সহযোগীতা করে।
সুপারিশমালা
১। হোটেল জমজম আবাসিক,  হোটেল শাহনিবাস, হোটেল গ্রীন গার্ডেন আবাসিক, হোটেল ঢাকা নিবাস,  হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনার,
হোটেল রিলাক্স আবাসিক, রেডিয়ান আবাসিক হোটেল,  হোটেল মুনা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক,  হোটেল গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, হোটেল রোজ হ্যাভেন,হোটেল তাজ,হোটেল পান্থপথ,হোটেল ইমেজ,হোটেল ওলিও আবাসিক,হোটেল স্বপ্ন নিবাস, রোজ ভ্যালি, নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, হোটেল সানফ্লাওয়ার হোটেলের নারী ঘটিত অপরাধ কর্ম বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২। থানা এলাকায় খদ্দের সংগ্রহকারী দালালদের প্রকাশ্যে পথে ঘাটে ভিজিটিং কার্ড বিলিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
৩। নারী পাচারকারীদের জিম্মি দশায় থাকা নারীদের উপর নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের উদ্ধার পূর্বক পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪। হোটেল জমজম আবাসিক,  হোটেল শাহনিবাস, হোটেল গ্রীন গার্ডেন আবাসিক, হোটেল ঢাকা নিবাস,  হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনার,
হোটেল রিলাক্স আবাসিক, রেডিয়ান আবাসিক হোটেল,  হোটেল মুনা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক,  হোটেল গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, হোটেল রোজ হ্যাভেন,হোটেল তাজ,হোটেল পান্থপথ,হোটেল ইমেজ,হোটেল ওলিও আবাসিক,হোটেল স্বপ্ন নিবাস, রোজ ভ্যালি, নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, হোটেল সানফ্লাওয়ার হোটেলের হোটেলের ভাড়াটিয়া মালিক, বাড়ির মালিক ও কেয়ার টেকার সহ সেখানে অপরাধ কর্মে প্রকাশ্যে ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে আইনের আওতায় আনার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৫। হোটেল জমজম আবাসিক, হোটেল শাহনিবাস, হোটেল গ্রীন গার্ডেন আবাসিক, হোটেল ঢাকা নিবাস,  হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনার, হোটেল রিলাক্স আবাসিক, রেডিয়ান আবাসিক হোটেল,  হোটেল মুনা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক,  হোটেল গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, হোটেল রোজ হ্যাভেন,হোটেল তাজ,হোটেল পান্থপথ,হোটেল ইমেজ,হোটেল ওলিও আবাসিক,হোটেল স্বপ্ন নিবাস, রোজ ভ্যালি, নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, হোটেল সানফ্লাওয়ার হোটেলের আবাসিক হোটেলের ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের পর ঐ হোটেলে লাইসেন্স বিরোধী কোন কার্যক্রম হয় কিনা তাহা দেখভাল কারী সিটি কর্পোরেশন জোনের ইন্সেপেক্টর এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৬। যেহেতু হোটেল হোল্ডিং মালিক সবকিছু জানার পরেও ভাড়াটিয়াদের অপরাধ কর্মে গোপনে সহযোগিতা করে তাই মানব পাচার আইন বিধি মোতাবেক বাড়ির মালিক, আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ক) সংস্থার পক্ষে দেশব্যাপী চিহ্নিত নারী পাচারকারীদের আদালতের দারস্থ্য করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
খ) অপরাধীদের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত পূর্বক তালিকা প্রকাশ করা।
গ) হোটেল জমজম আবাসিক,  হোটেল শাহনিবাস, হোটেল গ্রীন গার্ডেন আবাসিক, হোটেল ঢাকা নিবাস,  হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনার,
হোটেল রিলাক্স আবাসিক, রেডিয়ান আবাসিক হোটেল,  হোটেল মুনা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক,  হোটেল গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, হোটেল রোজ হ্যাভেন,হোটেল তাজ,হোটেল পান্থপথ,হোটেল ইমেজ,হোটেল ওলিও আবাসিক,হোটেল স্বপ্ন নিবাস, রোজ ভ্যালি, নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, হোটেল সানফ্লাওয়ার হোটেলের হোটেল সহ দেশব্যাপী যে সকল আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট বাসা সহ পতিতালয়ে আটক ও জিম্মি থাকা নারীদের পরিচয় চিহ্নিতপূর্বক উদ্ধার করে তাদের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা।
ঘ) নারীদের কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় জীবিকা নির্বাহে কর্ম ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ঙ) পথে ঘাটে ভিজিটিং কার্ড বিলি করে খদ্দের সংগ্রহকারী দালালদের চিহ্নিত করে যাবতীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা।
চ) সারাদেশ ব্যাপী নারী পাচারকারী, দালাল, অর্থের যোগানদাতা ও আশ্রয়, প্রশ্রয়দাতাসহ, তাদের সহায়তাকারীদের চিহ্নিত পূর্বক তালিকা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আদালতের দারস্থ্য হওয়া।
ছ) আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর যে সকল অসাধু কর্মকর্তারা অপরাধীদের গোপনে সহায়তা করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করছে ঐ সকল অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত পূর্বক পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন দায়ের করা।
উল্লেখিত প্রতিবেদন পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে দায়েরের পরও অদ্য পর্যন্ত বন্ধ হয় নি হোটেলে চলা অপকর্ম। উপরন্ত দিন দিন আবাসিক হোটেলের অপরাধ কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

কলাবাগান এলাকায় পুলিশের নাকের ডগায় নারী ও মাদক ব্যবসা

আপডেট সময় ০৮:২৯:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
কলাবাগান এলাকায় পুলিশের নাকের ডগায় নারী ও মাদক ব্যবসা
সিএনএম প্রতিবেদনঃ
দেশব্যাপী দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা আইন শৃঙ্খলা উন্নয়নে নিরলস পরিশ্রম করে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে সেই মুহূর্তে কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাগণ অপরাধীদের অপরাধ কর্ম করতে গোপনে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এরি মধ্যে কলাবাগান থানা এলাকার আইন শৃঙ্খলার অবনতির বিষয়ে একটি মানবাধিকার সংস্থা কলা বাগান থানা এলাকার বেশ কিছু আবাসিক হোটেলে চলা মাদক ও নারী ব্যবসার তালিকা তৈরি পূর্বক প্রতিবেদন আইজিপি সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে অভিযোগ আকারে পাঠিয়েছেন। উক্ত প্রতিবেদনে প্রকাশিত বিষয়ঃ

আবাসিক হোটেলের অর্ন্তরালে আইন বর্হিভুত নারী ঘটিত ব্যবসায়ী এবং পাঁচারকারী যারাঃ
১। মোঃ রাসেল (৪০)  ২। মোঃ ইউসুফ ওরফে রিপন (৩৫) ৩। মোঃ মিজান (৫০) ৪। মোঃ রনি (৪২) ৫। মোঃ আজাহার (৪৮) ৬। মোঃ মামুন (৪৫)  ৭। মোঃ জুলহাস (৫০) ৮। মোঃ রুবেল (৪০) ৯। মোঃ আবুল হোসেন সবুজ (৩৮) ১০। অজ্ঞাতনামা আরো শতাধিক।

ভিজিটিং কার্ড বিলি করে খদ্দের সংগ্রহ করে যারা তারাই নারী সংগ্রহকারী এরা হলোঃ

(১) কাইয়ুম ভাই, মোবাইলঃ ০১৩১৪১৮৭১৫১,   (২) আসিফ ভাই, ০১৭২৪-২৯২৩৪৪
(৩) জনি ভাই, মোবাইল-০১৭৮৯৯৯৩৯৮৫, (৪) সরোয়ার ভাই, মোবাইল নং-০১৭৪০২৮৫০২৩,
যাদের সঠিক নাম জানা যায় নি তাদের শুধু মোবাইল নাম্বার
(৫) হোটেল জমজম ০১৮১১-৯৯৬৫৫৫, ০১৩০৩-৩০৫০৮০  (৬) হোটেল শাহনিবাস মোবাইলঃ ০১৯১২-০৩৫১৫১ (৭) হোটেল গ্রিন গার্ডেন মোবাইলঃ ০১৮১০-৫২৬৬৬৬, ০১৮১৪-২৫৬৬৬৬ (৮) হোটেল ঢাকা নিবাস আবাসিক, মোবাইলঃ ০১৮৫৯-২৬৩৮৬৪ (৯) হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, মোবাইলঃ ০১৩৫০-১৩৭২৫১ (১০) হোটেল রিলাক্স আবাসিক, মোবাইল ঃ ০১৭৯৮-০০৩৬৬৭  (১১) রেডিয়ান আবাসিক হোটেল, মোবাইল ঃ ০১৪০১-২১০০৯৯ (১২) হোটেল রোজ হ্যাভেন, মোবাইল ঃ ০১৭৩৫৬৫৩৫৮৫ (১৩) হোটেল তাজ, মোবাইলঃ ০১৩২৩৭০৮৮৬০ (১৪) হোটেল পান্থপথ মোবাইলঃ ০১৩১২০৬৯৯৭১  (১৫) হোটেল ইমেজ, মোবাইলঃ ০১৯৪৭৭০৯০৬০ (১৬) হোটেল ওলিও আবাসিক মোবাইলঃ ০১৬৪১-৮৯৫৪৩১ (১৭) হোটেল স্বপ্ন নিবাস, মোবাইলঃ ০১৭১২৫৭৫৭২৬ (১৮) রোজ ভ্যালি, (১৯) হোটেল সানফ্লাওয়ার, (২০) নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, মোবাইলঃ ০১৭১২-৫৭৫৭২৬ (২১) মোঃ মিরাজ, মোবাইলঃ ০১৯৪২-৭৭৩১২৯
পাঁচারকারীদের খপ্পরে পরে যে সকল ভুক্তভোগী নারী দালালদের জিম্মি দশায় আটক রয়েছেঃ

ক) সোনালী খ) নাসরিন গ) আসমা ঘ) পপি ঙ) বৃষ্টি চ) রুনা  ছ) কাজল জ) আঁখি যে সকল আটক নারীদের সাথে কথা বলে তাদের নাম ঠিকানা জানা যায় নি এ রকম শিশু-কিশোরী মেয়ে হোটেল গুলোতে জিম্মি রয়েছে প্রায় ৭-৮ জন। যাদের বয়স ১৫-১৬ এর মধ্যে। তাদের সাথে সব সময় পাহারায় লোক থাকে। দালালদের চিহ্নিত খদ্দের ছাড়া কারো সাথে কথা বলতে দেওয়া হয় না।
ঘটনাস্থলের নাম ও ঠিকানা
১। হোটেল জমজম আবাসিক, সাং-৬৭/১/৬৭/১-৩, গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা।
২। হোটেল শাহনিবাস, সাং-৬৭/১/৬৭/১-বি, গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা।
৩। হোটেল গ্রীন গার্ডেন আবাসিক, সাং-৬৭/১, গ্রীন রোড, জমজম টাওয়ার, থোনা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা।
৪। হোটেল ঢাকা নিবাস, সাং-২৩১,  গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা-১২০৫।
৫। হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনার, সাং-৩৪, নওয়াব ম্যানসন, গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা-১২০৫।
৬। হোটেল রিলাক্স আবাসিক, সাং-৬১/১, গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা।
৭। রেডিয়ান আবাসিক হোটেল, সাং- এ কে কমপ্লেক্স, ১৯নং গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা।
৮। হোটেল মুনা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, সাং-৩৭/৩৮, আহামেদ প্লাজা, গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
৯। হোটেল গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল আবিসক, সাং-৩৭/৩৮, আহামেদ প্লাজা, (৪র্থ তলা)  গ্রীন রোড, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা (গ্রীন লাইফ হসপিটালের উত্তর পাশের্^)।
১০।  হোটেল রোজ হ্যাভেন, সাং-সিএনএল টাওয়ার, ৪৩/আর-৫/এ, পান্থপথ, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১১।  হোটেল তাজ সাং-২০/৫, উত্তর ধানমন্ডী, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১২।  হোটেল পান্থপথ সাং-২০/৫, রশিদ স্কয়ার, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৩। হোটেল ইমেজ, সাং-১৮/এ, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৪। হোটেল ওলিও আবাসিক সাং-৪৭/১-সি, পান্থপথ থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৫। হোটেল স্বপ্ন নিবাস সাং-হোল্ডিং অজ্ঞাত, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৬। রোজ ভ্যালি, সাং- ফি স্কুল সংলগ্ন, হাতিরপুল, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৭। হোটেল সানফ্লাওয়ার, সাং- ফি স্কুল সংলগ্ন, হাতিরপুল, থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা
১৮। নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, সাং- থানা-কলাবাগান, জেলা-ঢাকা-১২০৫
ঘটনাস্থল থানার নাম
কলাবাগান থানা এলাকা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ
উক্ত হোটেলে কারা বোর্ডারঃ
অসামাজিক কর্মকান্ড চলা হোটেলগুলোতে স্থানীয় পুলিশের থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও ইন্সপেক্টর তদন্ত এবং ইন্সপেক্টর অপারেশন সহ অজ্ঞাতনামা অসাধু পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে অপরাধীদের সখ্যতা থাকায় হোটেলে পুলিশের সন্দেহ ভাজন তল্লাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আনাগোনা কম থাকে। সেখানে চলা অপরাধ কর্ম স্থানীয় থানা পুলিশের ঝামেলা মুক্ত থাকায় নানাবিধ অপরাধীরা ঐ হোটেলগুলো নিরাপদ মনে করেন। সেখানে অপরাধীরা আস্তানা বানায়। বিভিন্ন থানার মামলার দাগী দোষী ফেরারি আসামীরা ও মাদক কারবারী এবং দেশদ্রোহী দেশে অরাজকতা সৃষ্টিকারী ও পরিকল্পনাকারী ব্যক্তিবর্গ সহ নানাবিধ অপরাধীরা হোটেলগুলোতে বোর্ডার সেজে নিয়মিত বসবাস করে। কখনো পুলিশের কোন বিশেষ অভিযানে কেউ গ্রেফতার হলে তাদেরকে হোটেল স্টাফ বা বোর্ডার দেখিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়।  বেশিভাগ ক্ষেত্রেই যারা দালাল ও নারী পাচারকারী তারাই বোর্ডার। ঐ সকল অপরাধী নারী ঘটিত অপরাধ কর্ম পরিচালনা করার জন্য হোল্ডিং মালিকদের মোটা অংকের সালামি দিয়ে সবকিছু জানিয়ে শুনিয়ে সেখানে নারী ঘটিত ও মাদক ব্যবসার আস্তানা বানাতে হোল্ডিং ভাড়াটিয়া ও পাচারকারীদের যাবতীয় সহযোগিতা করে। সেখানে যে ধরনের অপরাধ হয় উহা হোল্ডিং মালিকদের সহযোগিতাই হয়।
(১) বিভিন্ন মেয়েদের প্রথমে পাচারকারী দালালরা নারীদের সাথে প্রেম করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হোটেলগুলোতে এনে কৌশলগত ভাবে বোর্ডার সেজে রুম নেয়। আগত মেয়েরা বুঝতেই পারে না এই হোটেলেই তার সর্বনাশ হবে। এক পর্যায়ে প্রেমিক বেশে দালালরা নিজেরা তাদের বিয়ে না করে বিয়ে করার ছলনায় মেয়েদের সাথে দৈহিক মেলামেশা করে এরপর হোটেল ভাড়াটিয়া মালিকদের বন্ধু বান্ধব সাজিয়ে ঐ সকল মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গণধর্ষণ করায় এরপর হোটেলে আটক করিয়া বহিরাগত বিভিন্ন পুরুষ দিয়ে ধর্ষণ করায় এক পর্যায় দেহজীবী বানিয়ে হোটেলগুলোর রুমগুলোকে পতিতালয় বানিয়ে সংগ্রহ করা মেয়েদের ঐ হোটেলের হল রুমে বসিয়ে রেখে বহিরাগত পুরুষ খদ্দের দ্বারা দেহ ব্যবসা করায়।
দালালরা খদ্দের জোগাতে রাজধানী সহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ভিজিটিং কার্ড বিলি করে। পথে ঘাটে চোখ পরলেই দেখা যায় বিভিন্ন হোটেলের ভিজিটিং কার্ড। ঐ কার্ডে দালালদের মোবাইল নাম্বার সংযুক্ত করে দিয়ে খদ্দেরদের আহ্বান করার লক্ষ্যে ঐ সকল ভিজিটিং কার্ড  বিলি করে। হোটেলে আটক মেয়েরা কেউ পালানোর চেষ্টা করলে দালালদের নিয়োজিত নারী দালালও রয়েছে। যারা নিজেরা দেহ ব্যবসা করে এবং হোটেলে আগত নবাগত মেয়েদের খদ্দেরের মাঝে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত করে। আর যাতে নবাগত মেয়েরা পালাতে না পারে সে বিষয়ে পাহারাদার হিসেবে কাজ করে। ঐ সকল পাহারাদার মেয়েরা পাচারকারী দালালদের অনেকেরই বিয়ে করা স্ত্রী। টাকা কামানোর লালসায় পাচারকাজে ব্যস্ত হয়ে পরেন।
যেভাবে নারী সংগ্রহ করে পাঁচারকারীরা
অ) এক শ্রেণির দালালরা শুধু প্রেম করে মেয়েদের সংগ্রহ করে হোটেলে এনে হোটেল মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়।
ই) দ্বিতীয় শ্রেনির দালালরা বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালতে কাজ দেওয়ার কথা বলে মেয়েদের এনে হোটেলগুলোতে রেখে যায়।
ঈ) একাধিক মেয়েকে তাদের নির্ধারিত ঘটকের মাধ্যমে বিয়ে করে কিছুদিন সংসার করে এরপর কৌশলে হোটেলে এনে দেহজীবী বানায়।
উ) চতুর্থ শ্রেণির দালালরা মেয়েদের ইউটিউবার বা টেলিভিশন বা সিনেমার পর্দায় দেখানো আকর্ষণীয় নাটকের নায়িকা বা সাইট নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের সংগ্রহ করিয়া কৌশলে হোটেলগুলোতে এনে তাদের দেহজীবী বানায়।
ঊ) পঞ্চম শ্রেণির দালালরা সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে হোটেল গুলোতে এনে নানা ধরনের শারীরিক নির্যাতনের ফলে তাদের দেহজীবী বানায়।
ঋ) ষষ্ঠ শ্রেণির দালালরা হোটেলে মেয়েদের ক্লিনার সাজাইয়া রুমে রুমে বসাইয়া রাখিয়া দেহ ব্যবসা করায়। কিছু কিছু খদ্দেরদের বুঝায় ঐ সকল মেয়েরা ক্লিনারের চাকরী করে দেহজীবী নয়। তাই চড়া দাম হেকে তাদের পুরুষ খদ্দেরদের কাছে দেহ বিক্রি করে।
এ) সপ্তম শ্রেণির দালালরা বিভিন্ন কৌশলে মেয়েদের সংগ্রহ করিয়া নানা ফন্দি ফিকির করে দেশের পতিতালয়গুলোতে নিয়ে চড়া দামে মেয়েদের বিক্রি করে দিয়ে আসে। পতিতালয়ের সর্দারনিরা ঐ সকল মেয়েদের আটক বা জিম্মি করে দেহ জীবী বানায়।
অনুসন্ধানকালে মানবাধিকার কর্মীরা যেভাবে বাধা বিপত্তির শিকার হয়ে ও বিভিন্ন ঘটনা জানতে পারেঃ
হোটেলগুলোতে পৃথক ভাবে অনুসন্ধানকালে আমরা মানবাধিকার কর্মী এক পর্যায়ে আমাদের পরিচয় দালাল চক্ররা পাওয়ায় আমাদের নানা ধরনের হুমকি দিয়ে হোটেলগুলোর এলাকা হতে সরে যেতে বলে। আমরা পুলিশকে খবর দিব বললে পাচারকারী দালালরা বলে, পুলিশকে খবর দিয়ে কোন লাভ নেই। আমরা হোটেলগুলোতে যা ইনকাম করি তার সিংহভাগ স্থানীয় কলাবাগান থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সেপেক্টর তদন্ত, ইন্সেপেক্টর অপারেশন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) কে দিয়ে থাকি। পুলিশ আমাদের কেনা।
এরিমধ্যে হোটেল মালিক ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে দালালরা বলে, কলাবাগান থানা এলাকার আবাসিক হোটেল গুলোতে যে ধরনের অপরাধ কর্ম হয় তাহা স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নলেজে দিয়ে হয়। আপনাদের কিছু বলার থাকলে থানায় গিয়ে ওসিকে বলেন, আমরা এখানে কি ধরনের অপকর্ম করি যা আপনারা দেখেছেন তাই বলেন, দেখি কি করতে পারেন।
কলাবাগান থানা পুলিশের ভূমিকাঃ
স্থানীয় কলাবাগান থানা এলাকার উল্লেখিত আবাসিক হোটেলে চলা অপকর্মের বিরুদ্ধে একাধিকবার পৃথকভাবে পুলিশকে অবগত করে  তার কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই। কলাাবাগান থানার অফিসার ইনচার্জ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চান না হোটেলে চলা নারী, মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ হউক বা হোটেলে নানাবিধ অপরাধীদের আস্তানা চিরতরে নির্মূল হউক। বিভিন্ন মাদক কারবারী, নারী পাচারকারী, ছিনতাইকারী, মলম পার্টি সহ নানা বিধ অপরাধীরা ঐ হোটেলে নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে তাদের সুবিধামতো নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ড করে থাকে। তাদেরকে ফোন দিলে উল্টো খবর চলে আসে হোটেল নারী ব্যবসায়ীদের কাছে। এছাড়া হোটেল অপরাধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে অভিযোগকারীর আর হয়রানির শেষ থাকে না। অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা উল্টো অভিযোগকারী হয়রানির শিকার হয়। এলাকাবাসীর অনেকেই আমাদের কাছে বলেছেন মাঝে মধ্যে পুলিশ লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে কিছু খদ্দের ধরে নিয়ে যায়। নারী পাচারের সাথে জড়িত ভবন মালিক বা হোটেল ভাড়াটিয়া মালিক, স্টাফ পরিচয়ে দালাল চক্রকে কখনোই পুলিশ গ্রেফতার দেখায় না। এভাবেই চলছে কলাবাগান থানা এলাকার আবাসিক হোটেলগুলো।
যে ভাবে অনুসন্ধান করা হয়ঃ
গত ১৫/০৬/২০২৬ইং তারিখ বেলা ৩ ঘটিকার সময় আমি মোঃ আলমগীর অপরাধ অনুসন্ধানকারী ও আমার সহকারী, মাকসুদা ও জারিয়া, সুমন, আব্বাস, সহ কলাবাগান এলাকায় গিয়ে রাস্তা থেকে কুড়িয়ে পাওয়া  ভিজিটিং কার্ডে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের নাম ও সেখানে নারী পাচারকারী দালালদের নাম ও মোবাইল নাম্বার দেখতে পাই। ঐ নাম্বারে ফোন করে এক পর্যায় পৃথকভাবে তাদের সাথে উল্লেখিত আবাসিক হোটেলগুলোতে পৃথক ভাবে হোটেলগুলোতে আমরা প্রবেশ করি এবং হোটেল ঘুরে ঘুরে খদ্দের বেশে মেয়েদের বাছাই করি। বাছাই পর্বের এক পর্যায় নানা কৌশলে মেয়েদের সাথে কথা বলি। সেখানকার নবাগত মেয়েরা জানায়, ঐ সকল মেয়েদের গার্মেন্টস বাসা-বাড়ি ও বিদেশে পাঠানো সহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ দেওয়ার প্রলোভনে হোটেল দালালরা তাদের সংগ্রহ করিয়া উক্ত হোটেলে আনিয়া প্রথমে একটি রুমে নিয়া আটক রাখিয়া তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক হোটেল মালিক ও ভবন মালিক সহ দালালরা তাদের গণধর্ষণ করে পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন পূর্বক বিভিন্ন পুরুষের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে তাদের বাধ্য করে। ঐ সকল মেয়েরা বিভিন্ন পুরুষের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে না চাইলে তাদের দিয়ে বিভিন্ন পুরুষের সাথে করানো অসামাজিক কার্যকলাপের দালালরা গোপনে ঐ সকল দৃশ্য ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে রেখে আটক মেয়েদের অসামাজিক কার্যকলাপের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে নানা ধরনের ভয়-ভীতি পূর্বক বিভিন্ন পুরুষের সাথে অপকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করে।
একেক দিন একই নারী পাচারকারী চক্রের একেক হোটেলে নিয়ে তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করায়। তারা এখান থেকে পালিয়ে যেতে পারে না। তাদের নির্যাতনের কথা তুলে ধরে বলে, তারা কোন পুরুষের সাথে খারাপ কাজ করতে না চাইলে দালাল চক্র তাদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে যেমন-বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়, এমনকি নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করানো সহ নানা কৌশলের নির্যাতনের ফলে তারা বিভিন্ন পুরুষদের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে বাধ্য হয়। তাদের ভয় দেখানো হয়ে থাকে। কোন মেয়ে যদি খদ্দেরের সাথে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রকাশ করে তাহলে তাদের দিয়ে করানো গোপন ক্যামেরায় করে রাখা ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটের যোগযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের নির্ধারিত দেশ বিদেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে তাদের অন্ন সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হবে। নানাবিধ ভয় দেখিয়ে ঐ সকল মেয়েদের দিনের পর দিন হোটেলগুলোতে আটক রেখে গণধর্ষণ পূর্বক অসামাজিক কার্যকলাপ করানো হচ্ছে। এ রকম বেশ কিছু মেয়ের সাথে কথা বলি। তারা একই ধরনের নির্যাতনের বর্ণনা বলে। অনেকেই হাউ মাউ করে কেঁদে ওঠে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত যেতে চায়। এভাবে উল্লেখিত হোটেলগুলোতে পৃথকভাবে অনুসন্ধান করে প্রায় ১৫-১৬ জন মেয়ে আটকের সন্ধান পাই। তবে কারোই পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা জানতে পারিনি। অনুসন্ধানকালে এলাকাবাসীর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের নাম গোপন রাখা স্বত্ত্বে আমাদের বলেন, হোটেলে অপকর্ম চলে ভবন মালিক ও থানার অফিসার ইনচার্জ, ওসি তদন্ত, ইন্সেপেক্টর অপারেশন ও জোনের এসির সহযোগীতায়। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সহযোগীতা না করলে এ হোটেলগুলোতে মেয়ে মানুষ আটকে রাখা তো দূরের কথা কোন ধরনের অপকর্ম হতো না। এক পর্যায় নারী পাচারকারী হোটেল ভাড়াটিয়া মালিক কয়েকজনের নেতৃত্বে বেশকিছু লোক এসে আমাদের চারদিক ঘিরে ফেলে আমাদের নানা ধরণের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করিয়া এবং সাংবাদিকতার, মানবাধিকারগিরির স্বাদ মিটিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ঐ সকল নারী পাচারকারীদের হুমকি ধমকির শিকার হয়ে আমরা সেখান থেকে চলে আসি এছাড়াও তারা বলে, আপনারা আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন যেখানে খুশি সেখানে অভিযোগ দেন দেখবেন আমাদের কিছুই হবে না বরং আপনারাই ঝামেলায় পরবেন। কলাবাগান থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সেপেক্টর তদন্ত, ইন্সেপেক্টর অপারেশন, সহ এসি আমাদের কেনা। প্রতি মাসেই আমাদের হোটেলগুলো হতে এরা মোটা অংকের মাসোহারা তারা পায়। কলাবাগান থানা এলাকা ছাড়াও ডিএমপি সহ ঢাকা জেলার মধ্যে এরকম আবাসিক হোটেল আমাদের প্রায় ৩০-৩৫ টি রয়েছে।
এ সকল হোটেলের বিরুদ্ধে পত্র পত্রিকা সহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চাপে থানার স্যারেরা লোভ দেখানো অভিযান চালিয়ে আমাদের ধরে নিয়ে সামান্য ছোট ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। এরপর তারাই আমাদের দিয়ে পুনরায় একই কায়দায় আবাসিক হোটেল এর কর্মকান্ড চলমান অপকর্মে গোপনে সহযোগীতা করে।
সুপারিশমালা
১। হোটেল জমজম আবাসিক,  হোটেল শাহনিবাস, হোটেল গ্রীন গার্ডেন আবাসিক, হোটেল ঢাকা নিবাস,  হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনার,
হোটেল রিলাক্স আবাসিক, রেডিয়ান আবাসিক হোটেল,  হোটেল মুনা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক,  হোটেল গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, হোটেল রোজ হ্যাভেন,হোটেল তাজ,হোটেল পান্থপথ,হোটেল ইমেজ,হোটেল ওলিও আবাসিক,হোটেল স্বপ্ন নিবাস, রোজ ভ্যালি, নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, হোটেল সানফ্লাওয়ার হোটেলের নারী ঘটিত অপরাধ কর্ম বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
২। থানা এলাকায় খদ্দের সংগ্রহকারী দালালদের প্রকাশ্যে পথে ঘাটে ভিজিটিং কার্ড বিলিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
৩। নারী পাচারকারীদের জিম্মি দশায় থাকা নারীদের উপর নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের উদ্ধার পূর্বক পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৪। হোটেল জমজম আবাসিক,  হোটেল শাহনিবাস, হোটেল গ্রীন গার্ডেন আবাসিক, হোটেল ঢাকা নিবাস,  হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনার,
হোটেল রিলাক্স আবাসিক, রেডিয়ান আবাসিক হোটেল,  হোটেল মুনা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক,  হোটেল গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, হোটেল রোজ হ্যাভেন,হোটেল তাজ,হোটেল পান্থপথ,হোটেল ইমেজ,হোটেল ওলিও আবাসিক,হোটেল স্বপ্ন নিবাস, রোজ ভ্যালি, নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, হোটেল সানফ্লাওয়ার হোটেলের হোটেলের ভাড়াটিয়া মালিক, বাড়ির মালিক ও কেয়ার টেকার সহ সেখানে অপরাধ কর্মে প্রকাশ্যে ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে আইনের আওতায় আনার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৫। হোটেল জমজম আবাসিক, হোটেল শাহনিবাস, হোটেল গ্রীন গার্ডেন আবাসিক, হোটেল ঢাকা নিবাস,  হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনার, হোটেল রিলাক্স আবাসিক, রেডিয়ান আবাসিক হোটেল,  হোটেল মুনা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক,  হোটেল গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, হোটেল রোজ হ্যাভেন,হোটেল তাজ,হোটেল পান্থপথ,হোটেল ইমেজ,হোটেল ওলিও আবাসিক,হোটেল স্বপ্ন নিবাস, রোজ ভ্যালি, নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, হোটেল সানফ্লাওয়ার হোটেলের আবাসিক হোটেলের ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের পর ঐ হোটেলে লাইসেন্স বিরোধী কোন কার্যক্রম হয় কিনা তাহা দেখভাল কারী সিটি কর্পোরেশন জোনের ইন্সেপেক্টর এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
৬। যেহেতু হোটেল হোল্ডিং মালিক সবকিছু জানার পরেও ভাড়াটিয়াদের অপরাধ কর্মে গোপনে সহযোগিতা করে তাই মানব পাচার আইন বিধি মোতাবেক বাড়ির মালিক, আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
পরবর্তী পদক্ষেপ
ক) সংস্থার পক্ষে দেশব্যাপী চিহ্নিত নারী পাচারকারীদের আদালতের দারস্থ্য করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
খ) অপরাধীদের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত পূর্বক তালিকা প্রকাশ করা।
গ) হোটেল জমজম আবাসিক,  হোটেল শাহনিবাস, হোটেল গ্রীন গার্ডেন আবাসিক, হোটেল ঢাকা নিবাস,  হোটেল সিটি ইন্টারন্যাশনার,
হোটেল রিলাক্স আবাসিক, রেডিয়ান আবাসিক হোটেল,  হোটেল মুনা ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক,  হোটেল গ্রীন ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক, হোটেল রোজ হ্যাভেন,হোটেল তাজ,হোটেল পান্থপথ,হোটেল ইমেজ,হোটেল ওলিও আবাসিক,হোটেল স্বপ্ন নিবাস, রোজ ভ্যালি, নিউ ক্যাপিটাল আবাসিক হোটেল, হোটেল সানফ্লাওয়ার হোটেলের হোটেল সহ দেশব্যাপী যে সকল আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট বাসা সহ পতিতালয়ে আটক ও জিম্মি থাকা নারীদের পরিচয় চিহ্নিতপূর্বক উদ্ধার করে তাদের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা।
ঘ) নারীদের কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় জীবিকা নির্বাহে কর্ম ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
ঙ) পথে ঘাটে ভিজিটিং কার্ড বিলি করে খদ্দের সংগ্রহকারী দালালদের চিহ্নিত করে যাবতীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা।
চ) সারাদেশ ব্যাপী নারী পাচারকারী, দালাল, অর্থের যোগানদাতা ও আশ্রয়, প্রশ্রয়দাতাসহ, তাদের সহায়তাকারীদের চিহ্নিত পূর্বক তালিকা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আদালতের দারস্থ্য হওয়া।
ছ) আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর যে সকল অসাধু কর্মকর্তারা অপরাধীদের গোপনে সহায়তা করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করছে ঐ সকল অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত পূর্বক পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন দায়ের করা।
উল্লেখিত প্রতিবেদন পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে দায়েরের পরও অদ্য পর্যন্ত বন্ধ হয় নি হোটেলে চলা অপকর্ম। উপরন্ত দিন দিন আবাসিক হোটেলের অপরাধ কর্মকান্ড বেড়েই চলেছে।