ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৪১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গৃহবধূ হালিমা আক্তার মুন্নিকে (২১) আত্মহত্যায় প্ররোচনায় দায়ের করা মামলার আসামি মো. মিজানুর রহমানকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মো. মিজানুর রহমান নিহত হালিমা আক্তার মুন্নর স্বামী ও উপজেলার আব্দুল নবী মেম্বারের ছেলে।

গতকাল সোমবার (১১ মে) রাত পৌনে ৯টায় নগরীর চকবাজার থানাধীন আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নিহত গৃহবধূ হালিমা আক্তারের সাথে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া গ্রামের হাফেজ মো. মিজানুর রহমানের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মিশকাতুল জান্নাত নামে দেড় বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের দাম্পত্যজীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। এ বিষয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠকও হয়েছে।

তবে মুন্নীর পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায় সময় তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মুন্নী ও তার স্বামী কিছুদিন ভাড়াবাসায় ছিলেন। সম্প্রতি শ্বশুরের অসুস্থতার কথা বলে হালিমাকে শ্বশুর বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। গত ১০ মে ভোরে মিজানুর রহমান মুন্নী আত্মহত্যা করেছে বলে তার পরিবারকে ফোনে জানায়। খবর পেয়ে মুন্নীর বাবার বাড়ির লোকজন ছুটে যায়। তারা সেখানে গিয়ে শয়ন কক্ষের টিনের চালের বিমের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। এসময় তারা মুন্নীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও লক্ষ্য করেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

মুন্নীর পরিবারের অভিযোগ, তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহত মুন্নীর পিতা আনোয়ারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকবাজার থানাধীন আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে থেকে মুন্নীর স্বামী ও মামলার ১ নম্বর আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছেও বলে জানান এই কর্মকর্তা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার

গৃহবধূকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০১:৫৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

সিএনএমঃ

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় গৃহবধূ হালিমা আক্তার মুন্নিকে (২১) আত্মহত্যায় প্ররোচনায় দায়ের করা মামলার আসামি মো. মিজানুর রহমানকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার মো. মিজানুর রহমান নিহত হালিমা আক্তার মুন্নর স্বামী ও উপজেলার আব্দুল নবী মেম্বারের ছেলে।

গতকাল সোমবার (১১ মে) রাত পৌনে ৯টায় নগরীর চকবাজার থানাধীন আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর নিহত গৃহবধূ হালিমা আক্তারের সাথে উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের বরৈয়া গ্রামের হাফেজ মো. মিজানুর রহমানের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে মিশকাতুল জান্নাত নামে দেড় বছরের এক কন্যা সন্তান রয়েছে। তাদের দাম্পত্যজীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকতো। এ বিষয়ে একাধিকবার সামাজিক বৈঠকও হয়েছে।

তবে মুন্নীর পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন প্রায় সময় তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মুন্নী ও তার স্বামী কিছুদিন ভাড়াবাসায় ছিলেন। সম্প্রতি শ্বশুরের অসুস্থতার কথা বলে হালিমাকে শ্বশুর বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। গত ১০ মে ভোরে মিজানুর রহমান মুন্নী আত্মহত্যা করেছে বলে তার পরিবারকে ফোনে জানায়। খবর পেয়ে মুন্নীর বাবার বাড়ির লোকজন ছুটে যায়। তারা সেখানে গিয়ে শয়ন কক্ষের টিনের চালের বিমের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান। এসময় তারা মুন্নীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্নও লক্ষ্য করেন। পরে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।

মুন্নীর পরিবারের অভিযোগ, তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এ ঘটনায় নিহত মুন্নীর পিতা আনোয়ারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গতকাল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকবাজার থানাধীন আধুনিক চক সুপার মার্কেটের সামনে থেকে মুন্নীর স্বামী ও মামলার ১ নম্বর আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছেও বলে জানান এই কর্মকর্তা।