ঢাকা ০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মমতার ‘বাংলা আকাদেমি’ পুরস্কার পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মে ২০২২
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাংলা আকাদেমি’ পুরস্কার দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। প্রতিবাদ হিসেবে ‘অন্নদাশঙ্কর’ সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের খাগড়াগড়ের লেখিকা ও গবেষক রত্না রশিদ বন্দোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিকে চিঠি পাঠিয়ে লেখিকা তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েও দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০১৯ সালে পাওয়া ‘অন্নদাশঙ্কর’ সম্মানও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। লেখিকার এই সিদ্ধান্তে কবি ও সাহিত্যিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

এই বছর প্রথম বাংলা আকাদেমির নামাঙ্কিত ‘রিট্রিভার্সিপ’ পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি যারা নিরলস সাহিত্য সাধনা করে চলেছেন তাদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা আকাদেমি। তারা বাংলার বেশ কিছু প্রখ্যাত সাহিত্যিকের মতামত নিয়ে ‘কবিতা বিতান’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ’রিট্রিভার্সিপ’ পুরস্কার দেওয়ায় জন্য মনোনীত করেন।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়ার বিষটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না লেখিকা ও গবেষক রত্না রশিদ বন্দোপাধ্যায়। তিনি ২০০৯ সালে ও ২০১৯ সালে আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন। মুসলিম বিয়ের গানসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা রয়েছে তার। অজস্র প্রবন্ধ ও গল্প লেখিকা রত্নাদেবীর ঝুলিতে রয়েছে ৩০টি পুরস্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমির পুরস্কার পাওয়া নিয়ে মঙ্গলবার তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছেও ক্ষোভ উগড়ে দেন ।

তিনি বলেন, ‘যেভাবে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে তার একটা প্রতিবাদ দরকার।’ পাশাপাশি রত্নাদেবী আরও জানান, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের লেখাগুলিকে তিনি সাহিত্য পদবাচ্য বলেই মনে করেন না। যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেন তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এই লেখিকা। এরপরেই তিনি জানিয়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আকাদেমি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে ২০১৯ সালে পাওয়া আকাদেমি পুরস্কারটি তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে একই কারণে সাহিত্য অকাদেমির বাংলা উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন লেখক এবং সম্পাদক অনাদিরঞ্জন বিশ্বাস। বিবৃতি প্রকাশ করে অনাদি জানিয়েছেন, কলকাতায় রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন কবিতাকে যে ভাবে অসম্মান করা হয়েছে, তাতে তিনি ‘বিরক্ত’। সেই কারণেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

মমতার ‘বাংলা আকাদেমি’ পুরস্কার পাওয়া নিয়ে ক্ষোভ

আপডেট সময় ১১:১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মে ২০২২

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘বাংলা আকাদেমি’ পুরস্কার দেওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। প্রতিবাদ হিসেবে ‘অন্নদাশঙ্কর’ সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের খাগড়াগড়ের লেখিকা ও গবেষক রত্না রশিদ বন্দোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমিকে চিঠি পাঠিয়ে লেখিকা তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েও দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০১৯ সালে পাওয়া ‘অন্নদাশঙ্কর’ সম্মানও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। লেখিকার এই সিদ্ধান্তে কবি ও সাহিত্যিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

এই বছর প্রথম বাংলা আকাদেমির নামাঙ্কিত ‘রিট্রিভার্সিপ’ পুরস্কার দেওয়া চালু হয়। সমাজের অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি যারা নিরলস সাহিত্য সাধনা করে চলেছেন তাদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলা আকাদেমি। তারা বাংলার বেশ কিছু প্রখ্যাত সাহিত্যিকের মতামত নিয়ে ‘কবিতা বিতান’ কাব্যগ্রন্থের জন্য প্রথম বছর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ’রিট্রিভার্সিপ’ পুরস্কার দেওয়ায় জন্য মনোনীত করেন।

কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমি পুরস্কার পাওয়ার বিষটি কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না লেখিকা ও গবেষক রত্না রশিদ বন্দোপাধ্যায়। তিনি ২০০৯ সালে ও ২০১৯ সালে আকাদেমি পুরস্কার পেয়েছেন। মুসলিম বিয়ের গানসহ বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা রয়েছে তার। অজস্র প্রবন্ধ ও গল্প লেখিকা রত্নাদেবীর ঝুলিতে রয়েছে ৩০টি পুরস্কার। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাংলা আকাদেমির পুরস্কার পাওয়া নিয়ে মঙ্গলবার তিনি সংবাদ মাধ্যমের কাছেও ক্ষোভ উগড়ে দেন ।

তিনি বলেন, ‘যেভাবে এই পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে তার একটা প্রতিবাদ দরকার।’ পাশাপাশি রত্নাদেবী আরও জানান, মমতা বন্দোপাধ্যায়ের লেখাগুলিকে তিনি সাহিত্য পদবাচ্য বলেই মনে করেন না। যারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেন তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন এই লেখিকা। এরপরেই তিনি জানিয়ে দেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আকাদেমি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে ২০১৯ সালে পাওয়া আকাদেমি পুরস্কারটি তিনি ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

অন্যদিকে একই কারণে সাহিত্য অকাদেমির বাংলা উপদেষ্টা পরিষদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন লেখক এবং সম্পাদক অনাদিরঞ্জন বিশ্বাস। বিবৃতি প্রকাশ করে অনাদি জানিয়েছেন, কলকাতায় রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর দিন কবিতাকে যে ভাবে অসম্মান করা হয়েছে, তাতে তিনি ‘বিরক্ত’। সেই কারণেই তিনি ইস্তফা দিয়েছেন।

সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, আনন্দবাজার