ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরআন ও সহিহ হাদিসে জুমার দিনের ইবাদত, দোয়া

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

কোরআন ও সহিহ হাদিসে জুমার দিনের ইবাদত, দোয়া এবং বিভিন্ন সুন্নাহ আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ দিনে সঠিক আদব মেনে চললে একজন মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অধিক সওয়াব লাভের সুযোগ পান।
মুসলিম উম্মাহর জন্য শুক্রবার (জুমার দিন) সপ্তাহের সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় দিন। ইসলাম ধর্মে এ দিনের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
নিচে কোরআন-হাদিসের আলোকে জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৩৮টি আদব ও সুন্নাহ তুলে ধরা হলো—

১। জুমার দিন গোসল করা। যাদের উপর জুমার নামাজ ফরজ তাদের জন্য এ দিনে গোসল করাকে রাসুল (সা.) ওয়াজিব করেছেন (বুখারীঃ- ৮৭৭, ৮৭৮, ৮৮০, ৮৯৭, ৮৯৮)। পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসাবে সেদিন নখ ও চুল কাটা একটি ভাল কাজ।

২। জুমার সালাতের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা। (বুখারীঃ ৮৮০)

৩। মিস্ওয়াক করা। (ইবনে মাজাহঃ ১০৯৮, বুখারীঃ ৮৮৭, ইঃফাঃ ৮৪৩)

৪। গায়ে তেল ব্যবহার করা। (বুখারীঃ ৮৮৩)

৫। উত্তম পোশাক পরিধান করে জুমা আদায় করা। (ইবনে মাজাহঃ ১০৯৭)

৬। মুসুল্লীদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা। (তিরমিযীঃ ৫০৯, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৬)

৭। মনোযোগসহ খুৎবা শোনা ও চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব। (বুখারীঃ ৯৩৪, মুসলিমঃ ৮৫৭, আবু দাউদঃ ১১১৩, আহমাদঃ ১/২৩০)

৮। আগে ভাগে মসজিদে যাওয়া। (বুখারীঃ ৮৮১, মুসলিমঃ ৮৫০)

৯। পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন। (আবু দাউদঃ ৩৪৫)

১০। জুমার দিন ফজরের নামাজে প্রথম রাকাআতে সূরা সাজদা (সূরা নং-৩২) আর দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ইনসান (দাহর)(সূরা নং-৭৬) পড়া। (বুখারীঃ ৮৯১, মুসলিমঃ ৮৭৯)

১১। সূরা জুম’আ ও সূরা মুনাফিকুন দিয়ে জুমার সালাত আদায় করা। অথবা সূরা আলা ও সূরা গাশিয়া দিয়ে জুমা আদায় করা। (মুসলিমঃ ৮৭৭, ৮৭৮)

১২। জুমার দিন ও রাতে বেশি বেশি দুরুদ পাঠ। (আবু দাউদঃ ১০৪৭)

১৩। এদিন বেশি বেশি দোয়া করা। (বুখারীঃ ৯৩৫)

১৪। বসে থাকা মুসুল্লীদের ঠেলে বা সরিয়ে মসজিদে সামনের দিকে এগিয়ে না যাওয়া। (বুখারীঃ ৯১০, ৮৮৩)

১৫। মুসুল্লীদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনের কাতারে আগানোর চেষ্টা না করা। (আবু দাউদঃ ৩৪৩, ৩৪৭)

১৬। কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসার চেষ্টা না করা। (বুখারীঃ ৯১১, মুসলিমঃ ২১৭৭, ২১৭৮)

১৭। খুৎবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে তখনও দুই রাকাআত ‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’ সালাত আদায় করা ছাড়া না বসা। (বুখারীঃ ৯৩০)

১৮। জুমার দিন জুমার পূর্বে মসজিদে জিকর বা কোনো শিক্ষামূলক হালকা না করা। অর্থাৎ ভাগ ভাগ হয়ে, গোল গোল হয়ে না বসা, যদিও এটা কোনো শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান হোক না কেন। (আবু দাউদঃ ১০৮৯)

১৯। কেউ কথা বললে ‘চুপ করুন’ এটুকুও না বলা। (নাসায়ীঃ ৭১৪, বুখারীঃ ৯৩৪)

২০। মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেয়াজ, রসুন না খাওয়া ও ধুমপান না করা। (বুখারীঃ ৮৫৩)

২১। ঘুমের ভাব বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বসার জায়গা বদল করে বসা। (আবু দাউদঃ ১১১৯)

২২। ইমামের খুৎবা দেওয়া অবস্থায় দুই হাঁটু উঠিয়ে না বসা। (আবু দাউদঃ ১১১০, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৪)

২৩। খুৎবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা। জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হলেও ইমাম থেকে দূরে উপবেশনকারীরা বিলম্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদঃ ১১০৮)

২৪। জুমার দিন সূরা কাহফ পড়া। এতে পাঠকের জন্য আল্লাহ তায়ালা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেন। (হাকেমঃ ২/৩৬৮, বায়হাকীঃ ৩/২৪৯)

২৫। জুমার আযান দেওয়া। অর্থাৎ ইমাম মিম্বরে বসার পর যে আযান দেওয়া হয় তা। (বুখারীঃ ৯১২)

২৬। জুমার ফরজ নামাজ আদায়ের পর মসজিদে চার রাকাআত সুন্নাত সালাত আদায় করা। (বুখারীঃ ১৮২, মুসলিমঃ ৮৮১, আবু দাউদঃ ১১৩০)

২৭। উযর ছাড়া একই গ্রাম ও মহল্লায় একাধিক জুমা চালু না করা। আর উযর হলো এলাকাটি খুব বড় হওয়া, বা প্রচুর জনবসতি থাকা, বা মসজিদ দূরে হওয়া, বা মসজিদে জায়গা না পাওয়া, বা কোনো ফিতনা ফাসাদের ভয় থাকা। (মুগনি লিবনি কুদামাঃ ৩/২১২, ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহঃ ২৪/২০৮)

২৮। ওজু ভেঙ্গে গেলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া। অতঃপর আবার ওজু করে মসজিদে প্রবেশ করা। (আবু দাউদঃ ১১১৪)

২৯। একান্ত উযর না থাকলে দুই পিলারের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় সালাত আদায় না করা। (হাকেমঃ ১/১২৮)

৩০। সালাতের জন্য কোনো একটা জায়গাকে নির্দিষ্ট করে না রাখা, যেখানে যখন জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই সালাত আদায় করা (আবু দাউদঃ৮৬২)। অর্থাৎ আগে থেকেই নামাজের বিছানা বিছিয়ে জায়গা দখল করে না রাখা বরং যে আগে আসবে সেই আগে বসবে।

৩১। কোনো নামাজীর সামনে দিয়ে না হাঁটা অর্থাৎ মুসুল্লী ও সুতরার মধ্যবর্তী জায়গা দিয়ে না হাঁটা। (বুখারীঃ৫১০)

৩২। এতটুকু জোরে আওয়াজ করে কোনো কিছু না পড়া, যাতে অন্যের সালাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে। (আবু দাউদঃ ১৩৩২)

৩৩। পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফযীলত অন্তরে জাগরূক রাখা।

৩৪। হাঁটার আদব মেনে মসজিদে গমন করা।

৩৫। খুৎবার সময় খতীবের কোনো কথার সাড়া দেওয়া বা তার প্রশ্নের জবাব দানে শরীক হওয়া জায়েজ। (বুখারীঃ ১০২৯, মুসলিমঃ ৮৯৭)

৩৬। হানাফী আলেমগণ বলেছেন যে, ভিড় প্রচণ্ড হলে সামনের মুসুল্লীর পিঠের উপর সিজদা দেওয়া জায়েজ (আহমাদঃ১/৩২)। দরকার হলে পায়ের উপরও দিতে পারে (আর রাউদুল মুরবী)

৩৭। যেখানে জুমার ফরজ আদায় করেছে, উত্তম হলো ওই একই স্থানে সুন্নাত না পড়া। অথবা কোনো কথা না বলে এখান থেকে গিয়ে পরবর্তী সুন্নাত সালাত আদায় করা। (মুসলিমঃ ৭১০, বুখারীঃ ৮৪৮)

৩৮। ইমাম সাহেব মিম্বরে এসে হাজির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা- ইস্তিগফার ও কুরআন তিলাওয়াতে রত থাকা।

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ রহমত, বরকত ও ইবাদতের দিন। এ দিনের সুন্নাহ ও আদবগুলো যথাযথভাবে পালন করলে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি আখিরাতের জন্যও অশেষ সওয়াব লাভের আশা করা যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের আদবগুলো শেখা, বোঝা এবং আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সংগৃহীত

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

কোরআন ও সহিহ হাদিসে জুমার দিনের ইবাদত, দোয়া

আপডেট সময় ০১:২৯:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬

সিএনএমঃ

কোরআন ও সহিহ হাদিসে জুমার দিনের ইবাদত, দোয়া এবং বিভিন্ন সুন্নাহ আমলের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এ দিনে সঠিক আদব মেনে চললে একজন মুসলমান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অধিক সওয়াব লাভের সুযোগ পান।
মুসলিম উম্মাহর জন্য শুক্রবার (জুমার দিন) সপ্তাহের সর্বশ্রেষ্ঠ ও বরকতময় দিন। ইসলাম ধর্মে এ দিনের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
নিচে কোরআন-হাদিসের আলোকে জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ ৩৮টি আদব ও সুন্নাহ তুলে ধরা হলো—

১। জুমার দিন গোসল করা। যাদের উপর জুমার নামাজ ফরজ তাদের জন্য এ দিনে গোসল করাকে রাসুল (সা.) ওয়াজিব করেছেন (বুখারীঃ- ৮৭৭, ৮৭৮, ৮৮০, ৮৯৭, ৮৯৮)। পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসাবে সেদিন নখ ও চুল কাটা একটি ভাল কাজ।

২। জুমার সালাতের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার করা। (বুখারীঃ ৮৮০)

৩। মিস্ওয়াক করা। (ইবনে মাজাহঃ ১০৯৮, বুখারীঃ ৮৮৭, ইঃফাঃ ৮৪৩)

৪। গায়ে তেল ব্যবহার করা। (বুখারীঃ ৮৮৩)

৫। উত্তম পোশাক পরিধান করে জুমা আদায় করা। (ইবনে মাজাহঃ ১০৯৭)

৬। মুসুল্লীদের ইমামের দিকে মুখ করে বসা। (তিরমিযীঃ ৫০৯, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৬)

৭। মনোযোগসহ খুৎবা শোনা ও চুপ থাকা- এটা ওয়াজিব। (বুখারীঃ ৯৩৪, মুসলিমঃ ৮৫৭, আবু দাউদঃ ১১১৩, আহমাদঃ ১/২৩০)

৮। আগে ভাগে মসজিদে যাওয়া। (বুখারীঃ ৮৮১, মুসলিমঃ ৮৫০)

৯। পায়ে হেঁটে মসজিদে গমন। (আবু দাউদঃ ৩৪৫)

১০। জুমার দিন ফজরের নামাজে প্রথম রাকাআতে সূরা সাজদা (সূরা নং-৩২) আর দ্বিতীয় রাকাআতে সূরা ইনসান (দাহর)(সূরা নং-৭৬) পড়া। (বুখারীঃ ৮৯১, মুসলিমঃ ৮৭৯)

১১। সূরা জুম’আ ও সূরা মুনাফিকুন দিয়ে জুমার সালাত আদায় করা। অথবা সূরা আলা ও সূরা গাশিয়া দিয়ে জুমা আদায় করা। (মুসলিমঃ ৮৭৭, ৮৭৮)

১২। জুমার দিন ও রাতে বেশি বেশি দুরুদ পাঠ। (আবু দাউদঃ ১০৪৭)

১৩। এদিন বেশি বেশি দোয়া করা। (বুখারীঃ ৯৩৫)

১৪। বসে থাকা মুসুল্লীদের ঠেলে বা সরিয়ে মসজিদে সামনের দিকে এগিয়ে না যাওয়া। (বুখারীঃ ৯১০, ৮৮৩)

১৫। মুসুল্লীদের ঘাড় ডিঙ্গিয়ে সামনের কাতারে আগানোর চেষ্টা না করা। (আবু দাউদঃ ৩৪৩, ৩৪৭)

১৬। কাউকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে বসার চেষ্টা না করা। (বুখারীঃ ৯১১, মুসলিমঃ ২১৭৭, ২১৭৮)

১৭। খুৎবা চলাকালীন সময়ে মসজিদে প্রবেশ করলে তখনও দুই রাকাআত ‘তাহিয়্যাতুল মাসজিদ’ সালাত আদায় করা ছাড়া না বসা। (বুখারীঃ ৯৩০)

১৮। জুমার দিন জুমার পূর্বে মসজিদে জিকর বা কোনো শিক্ষামূলক হালকা না করা। অর্থাৎ ভাগ ভাগ হয়ে, গোল গোল হয়ে না বসা, যদিও এটা কোনো শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান হোক না কেন। (আবু দাউদঃ ১০৮৯)

১৯। কেউ কথা বললে ‘চুপ করুন’ এটুকুও না বলা। (নাসায়ীঃ ৭১৪, বুখারীঃ ৯৩৪)

২০। মসজিদে যাওয়ার আগে কাঁচা পেয়াজ, রসুন না খাওয়া ও ধুমপান না করা। (বুখারীঃ ৮৫৩)

২১। ঘুমের ভাব বা তন্দ্রাচ্ছন্ন হলে বসার জায়গা বদল করে বসা। (আবু দাউদঃ ১১১৯)

২২। ইমামের খুৎবা দেওয়া অবস্থায় দুই হাঁটু উঠিয়ে না বসা। (আবু দাউদঃ ১১১০, ইবনে মাজাহঃ ১১৩৪)

২৩। খুৎবার সময় ইমামের কাছাকাছি বসা। জান্নাতে প্রবেশের উপযুক্ত হলেও ইমাম থেকে দূরে উপবেশনকারীরা বিলম্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আবু দাউদঃ ১১০৮)

২৪। জুমার দিন সূরা কাহফ পড়া। এতে পাঠকের জন্য আল্লাহ তায়ালা দুই জুমার মধ্যবর্তী সময়কে আলোকিত করে দেন। (হাকেমঃ ২/৩৬৮, বায়হাকীঃ ৩/২৪৯)

২৫। জুমার আযান দেওয়া। অর্থাৎ ইমাম মিম্বরে বসার পর যে আযান দেওয়া হয় তা। (বুখারীঃ ৯১২)

২৬। জুমার ফরজ নামাজ আদায়ের পর মসজিদে চার রাকাআত সুন্নাত সালাত আদায় করা। (বুখারীঃ ১৮২, মুসলিমঃ ৮৮১, আবু দাউদঃ ১১৩০)

২৭। উযর ছাড়া একই গ্রাম ও মহল্লায় একাধিক জুমা চালু না করা। আর উযর হলো এলাকাটি খুব বড় হওয়া, বা প্রচুর জনবসতি থাকা, বা মসজিদ দূরে হওয়া, বা মসজিদে জায়গা না পাওয়া, বা কোনো ফিতনা ফাসাদের ভয় থাকা। (মুগনি লিবনি কুদামাঃ ৩/২১২, ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়্যাহঃ ২৪/২০৮)

২৮। ওজু ভেঙ্গে গেলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যাওয়া। অতঃপর আবার ওজু করে মসজিদে প্রবেশ করা। (আবু দাউদঃ ১১১৪)

২৯। একান্ত উযর না থাকলে দুই পিলারের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় সালাত আদায় না করা। (হাকেমঃ ১/১২৮)

৩০। সালাতের জন্য কোনো একটা জায়গাকে নির্দিষ্ট করে না রাখা, যেখানে যখন জায়গা পাওয়া যায় সেখানেই সালাত আদায় করা (আবু দাউদঃ৮৬২)। অর্থাৎ আগে থেকেই নামাজের বিছানা বিছিয়ে জায়গা দখল করে না রাখা বরং যে আগে আসবে সেই আগে বসবে।

৩১। কোনো নামাজীর সামনে দিয়ে না হাঁটা অর্থাৎ মুসুল্লী ও সুতরার মধ্যবর্তী জায়গা দিয়ে না হাঁটা। (বুখারীঃ৫১০)

৩২। এতটুকু জোরে আওয়াজ করে কোনো কিছু না পড়া, যাতে অন্যের সালাত ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা মনোযোগে বিঘ্ন ঘটে। (আবু দাউদঃ ১৩৩২)

৩৩। পায়ে হেঁটে মসজিদে যাওয়ার ফযীলত অন্তরে জাগরূক রাখা।

৩৪। হাঁটার আদব মেনে মসজিদে গমন করা।

৩৫। খুৎবার সময় খতীবের কোনো কথার সাড়া দেওয়া বা তার প্রশ্নের জবাব দানে শরীক হওয়া জায়েজ। (বুখারীঃ ১০২৯, মুসলিমঃ ৮৯৭)

৩৬। হানাফী আলেমগণ বলেছেন যে, ভিড় প্রচণ্ড হলে সামনের মুসুল্লীর পিঠের উপর সিজদা দেওয়া জায়েজ (আহমাদঃ১/৩২)। দরকার হলে পায়ের উপরও দিতে পারে (আর রাউদুল মুরবী)

৩৭। যেখানে জুমার ফরজ আদায় করেছে, উত্তম হলো ওই একই স্থানে সুন্নাত না পড়া। অথবা কোনো কথা না বলে এখান থেকে গিয়ে পরবর্তী সুন্নাত সালাত আদায় করা। (মুসলিমঃ ৭১০, বুখারীঃ ৮৪৮)

৩৮। ইমাম সাহেব মিম্বরে এসে হাজির হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তাসবীহ-তাহলীল, তাওবা- ইস্তিগফার ও কুরআন তিলাওয়াতে রত থাকা।

জুমার দিন মুসলমানদের জন্য বিশেষ রহমত, বরকত ও ইবাদতের দিন। এ দিনের সুন্নাহ ও আদবগুলো যথাযথভাবে পালন করলে আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জনের পাশাপাশি আখিরাতের জন্যও অশেষ সওয়াব লাভের আশা করা যায়।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে জুমার দিনের আদবগুলো শেখা, বোঝা এবং আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
সংগৃহীত