ঢাকা ০৫:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষোভে ফুঁসছে ৭ কলেজ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০২২
  • ২৯৬ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে একে একে সড়কে নামছে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সরব হচ্ছেন। ক্ষোভ ঝাড়ছেন সড়কে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর চলমান মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা পুরো ঢাকা শহর অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের ধারাবাহিক সংঘর্ষে বেশ হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এর জেরে ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েও রাস টানা যায়নি আন্দোলনে। এই ঘোষণায় শিক্ষার্থীরা ফের সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা কলেজের দিকে যেতে চাইলে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে তারা নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন। প্রায় শখানেক শিক্ষার্থী এ বিক্ষোভে অংশ নেন। বেলা ৩টার কিছু পরে ইডেন কলেজ থেকে মিছিল নিয়ে সড়কে বের হন একদল শিক্ষার্থী। মিছিলটি নীলক্ষেত মোড় হয়ে ঢাকা কলেজের দিকে যাচ্ছিল।
এ সময় নিউমার্কেটের ফটকের সামনে ব্যবসায়ী ও দোকানকর্মীরা মিছিলটির সামনে দাঁড়িয়ে যান। দুপক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডা চলে। এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে এসে অবস্থান নেন। নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার চান তারা। পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেও তারা স্লোগান দেন।
ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘স্ট্যান্ড উইথ ঢাকা কলেজ’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘ঢাকা কলেজের ভাইদের কিছু হলে ইডেন কন্যারা জ্বালাবে আগুন ঘরে ঘরে’ প্রভৃতি লেখা ছিল। বিকাল ৪টার দিকে ইডেনের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় থেকে সরে যান।
নিউমার্কেটে সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। বুধবারের মধ্যে দাবি মানা না হলে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলেজের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ মিছিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে একাত্মতা পোষণ করেন তিতুমীর কলেজের শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলেন, নীলক্ষেত-নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও হকাররা শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা চালিয়েছে তার কঠোর প্রতিবাদ জানাই। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ এমন ঘটনা মেনে নেবে না। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে আমাদের ওপর হামলা। ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় আছে। আমরা হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানাই।
এদিকে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে কবি নজরুল সরকারি কলেজের মূল ফটকে এক মানববন্ধনে তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার ভাই মেডিকেলে কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘হামলাকারীর কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এসব স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বলা হয়, ঢাকা কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তাদের সাহস হয় কীভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার? পুলিশও রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর এমন বর্বর হামলার প্রতিবাদ জানাই। দ্রুত বিচার না হলে আমরা সাত কলেজ পুরো ঢাকা শহর অচল করে দেব।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্ষোভে ফুঁসছে ৭ কলেজ

আপডেট সময় ১১:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০২২
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সমর্থনে একে একে সড়কে নামছে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে সরব হচ্ছেন। ক্ষোভ ঝাড়ছেন সড়কে। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর চলমান মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা পুরো ঢাকা শহর অচল করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের ধারাবাহিক সংঘর্ষে বেশ হতাহতের ঘটনা ঘটছে। এর জেরে ঢাকা কলেজের ছাত্রাবাস বন্ধের ঘোষণা দিয়েও রাস টানা যায়নি আন্দোলনে। এই ঘোষণায় শিক্ষার্থীরা ফের সড়কে নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার সড়কে নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। ইডেন মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ঢাকা কলেজের দিকে যেতে চাইলে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা বাধা দেন। ব্যবসায়ীদের বাধার মুখে তারা নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নেন। প্রায় শখানেক শিক্ষার্থী এ বিক্ষোভে অংশ নেন। বেলা ৩টার কিছু পরে ইডেন কলেজ থেকে মিছিল নিয়ে সড়কে বের হন একদল শিক্ষার্থী। মিছিলটি নীলক্ষেত মোড় হয়ে ঢাকা কলেজের দিকে যাচ্ছিল।
এ সময় নিউমার্কেটের ফটকের সামনে ব্যবসায়ী ও দোকানকর্মীরা মিছিলটির সামনে দাঁড়িয়ে যান। দুপক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ বাকবিতণ্ডা চলে। এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে নীলক্ষেত মোড়ে এসে অবস্থান নেন। নীলক্ষেত মোড়ে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচার চান তারা। পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করেও তারা স্লোগান দেন।
ইডেন কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘স্ট্যান্ড উইথ ঢাকা কলেজ’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না’, ‘ঢাকা কলেজের ভাইদের কিছু হলে ইডেন কন্যারা জ্বালাবে আগুন ঘরে ঘরে’ প্রভৃতি লেখা ছিল। বিকাল ৪টার দিকে ইডেনের শিক্ষার্থীরা নীলক্ষেত মোড় থেকে সরে যান।
নিউমার্কেটে সংঘর্ষের ঘটনায় সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। ব্যবসায়ীদের শাস্তির আওতায় আনার জন্য দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। বুধবারের মধ্যে দাবি মানা না হলে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বিক্ষোভকারীরা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কলেজের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ মিছিলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে একাত্মতা পোষণ করেন তিতুমীর কলেজের শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলেন, নীলক্ষেত-নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও হকাররা শিক্ষার্থীদের ওপর যে হামলা চালিয়েছে তার কঠোর প্রতিবাদ জানাই। বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ এমন ঘটনা মেনে নেবে না। ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা মানে আমাদের ওপর হামলা। ঢাকা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সবসময় আছে। আমরা হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচারের দাবি জানাই।
এদিকে কবি নজরুল সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা কলেজের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মঙ্গলবার সকালে কবি নজরুল সরকারি কলেজের মূল ফটকে এক মানববন্ধনে তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমার ভাই মেডিকেলে কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘হামলাকারীর কালো হাত ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এসব স্লোগান দেন।
মানববন্ধনে বলা হয়, ঢাকা কলেজে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীরা। তাদের সাহস হয় কীভাবে সাধারণ শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলার? পুলিশও রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল ছুড়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর এমন বর্বর হামলার প্রতিবাদ জানাই। দ্রুত বিচার না হলে আমরা সাত কলেজ পুরো ঢাকা শহর অচল করে দেব।