ঢাকা ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ কেন আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না, প্রশ্ন গয়েশ্বরের

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২
  • ৩০৩ বার পড়া হয়েছে

মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশকে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী এখনও কেন আমেরিকাকে বাংলাদেশ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না?

মঙ্গলবার(২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে এক দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ অসুস্থ নেতাদের রোগমুক্তি কামনা এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে কৃষক দল।

আমেরিকার গণতান্ত্রিক সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ না পাওয়ার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটা ভালো যুক্তি দিয়েছেন, তিনি বলেছেন- উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে পরে ডাকবেন। দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে নিয়ে আগে বসেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিবেশী ভারত। তাদের আমরা পছন্দ করি বা না করি, সেখানে (আমেরিকার গণতান্ত্রিক সম্মেলন) আমন্ত্রিত হয়েছে তারা। আর বাংলাদেশ উন্নত গণতান্ত্রিক চর্চায় অভ্যস্ত বলে তারা ভিআইপি মর্যাদায় পরে দাওয়াত পাবে। আমরা কোন দেশে আছি। এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার মাধ্যমে বিদেশিরা আমাদের কীভাবে পরিমাপ করবে, আমরা কতটুকু নির্বোধ।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশে যা কিছু হয়, এটা কিছুই না। অর্থাৎ এ যে নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ, গুম, খুন। এগুলো নিয়ে তো কথাবার্তা। মন্ত্রী বলেছেন, আমেরিকায় আরও বেশি হয়। বছরে লক্ষাধিক লোক হয়। তার মানে হচ্ছে মন্ত্রী পক্ষান্তরে স্বীকার করল অন্য দেশে বেশি হয়, আমাদের দেশে কম হয়। বাংলাদেশে হয় না, এটা অস্বীকার করার সুযোগ পেল না।’

তিনি বলেন, ‘আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আগেও বলেছি, আজও বলছি, আমেরিকা যদি গুম, খুন ও মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। তাহলে বাংলাদেশে কেন এখনও আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আমেরিকা তো সিঙ্গেল দেশ না, তার মিত্র দেশ আছে। তার মিত্র দেশের তালিকায় ৮০টির বেশি দেশ আছে। অর্থাৎ আমেরিকার মনোভাব আর অন্য ৮০টি দেশের মনোভাব এক। তাহলে আমেরিকার বাধা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ৮০টি দেশে আমাদের অবস্থা একই রকম হবে। যাদের নাম আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় নেই তাদের ফেরত আসার মাধ্যমে বোঝা যায় এ তালিকা অনেক দীর্ঘ। এটা আমাদের আনন্দ বা পুলকিত হওয়ার নয়, এটা লজ্জার। দেশের নাগরিক হিসেবে অপমানের।’

সরকার বিভিন্ন অত্যাচার করে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করে রেখেছে দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, ‘তারা আমাদের ভাবতে পারে অন্ধ। বিশ্ব কিন্তু অন্ধ না। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর চোখ খোলা। কারণ আমরা কিছু বলি বা না বলি তারা বাংলাদেশর কুকীর্তিগুলো বুঝতে সক্ষম। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সরকারের কুকীর্তিগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।’

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

বাংলাদেশ কেন আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না, প্রশ্ন গয়েশ্বরের

আপডেট সময় ০৩:১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২২

মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশকে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী এখনও কেন আমেরিকাকে বাংলাদেশ নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না?

মঙ্গলবার(২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে এক দোয়া মাহফিলে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও কৃষক দলের সাবেক আহ্বায়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদুসহ অসুস্থ নেতাদের রোগমুক্তি কামনা এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে কৃষক দল।

আমেরিকার গণতান্ত্রিক সম্মেলনে বাংলাদেশের আমন্ত্রণ না পাওয়ার প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটা ভালো যুক্তি দিয়েছেন, তিনি বলেছেন- উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে পরে ডাকবেন। দুর্বল গণতান্ত্রিক দেশগুলোকে নিয়ে আগে বসেছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ প্রতিবেশী ভারত। তাদের আমরা পছন্দ করি বা না করি, সেখানে (আমেরিকার গণতান্ত্রিক সম্মেলন) আমন্ত্রিত হয়েছে তারা। আর বাংলাদেশ উন্নত গণতান্ত্রিক চর্চায় অভ্যস্ত বলে তারা ভিআইপি মর্যাদায় পরে দাওয়াত পাবে। আমরা কোন দেশে আছি। এই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথার মাধ্যমে বিদেশিরা আমাদের কীভাবে পরিমাপ করবে, আমরা কতটুকু নির্বোধ।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘আবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন বাংলাদেশে যা কিছু হয়, এটা কিছুই না। অর্থাৎ এ যে নারী-শিশু নির্যাতন, অপহরণ, গুম, খুন। এগুলো নিয়ে তো কথাবার্তা। মন্ত্রী বলেছেন, আমেরিকায় আরও বেশি হয়। বছরে লক্ষাধিক লোক হয়। তার মানে হচ্ছে মন্ত্রী পক্ষান্তরে স্বীকার করল অন্য দেশে বেশি হয়, আমাদের দেশে কম হয়। বাংলাদেশে হয় না, এটা অস্বীকার করার সুযোগ পেল না।’

তিনি বলেন, ‘আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আগেও বলেছি, আজও বলছি, আমেরিকা যদি গুম, খুন ও মানবাধিকার বিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে। তাহলে বাংলাদেশে কেন এখনও আমেরিকাকে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না?’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘আমেরিকা তো সিঙ্গেল দেশ না, তার মিত্র দেশ আছে। তার মিত্র দেশের তালিকায় ৮০টির বেশি দেশ আছে। অর্থাৎ আমেরিকার মনোভাব আর অন্য ৮০টি দেশের মনোভাব এক। তাহলে আমেরিকার বাধা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্য ৮০টি দেশে আমাদের অবস্থা একই রকম হবে। যাদের নাম আমেরিকার নিষেধাজ্ঞায় নেই তাদের ফেরত আসার মাধ্যমে বোঝা যায় এ তালিকা অনেক দীর্ঘ। এটা আমাদের আনন্দ বা পুলকিত হওয়ার নয়, এটা লজ্জার। দেশের নাগরিক হিসেবে অপমানের।’

সরকার বিভিন্ন অত্যাচার করে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করে রেখেছে দাবি করে গয়েশ্বর বলেন, ‘তারা আমাদের ভাবতে পারে অন্ধ। বিশ্ব কিন্তু অন্ধ না। বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর চোখ খোলা। কারণ আমরা কিছু বলি বা না বলি তারা বাংলাদেশর কুকীর্তিগুলো বুঝতে সক্ষম। আজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় সরকারের কুকীর্তিগুলো প্রকাশ পাচ্ছে।’