সিএনএমঃ
দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে কাঁধে পত্রিকার বোঝা নিয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে সংবাদ পৌঁছে দিয়েছেন নিতাই চন্দ্র সাহা (৬৫)। পত্রিকা বিক্রিই ছিল তাঁর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন।
জীবনের দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে কাটানো এই পত্রিকা বিক্রেতা আর নেই। সোমবার দিবাগত মধ্যরাতে নিজ বাড়িতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিতাই চন্দ্র সাহা কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রহিমপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম উপেন্দ্র চন্দ্র সাহা। জীবিকার তাগিদে টানা ৩২ বছর ধরে পত্রিকা বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতিদিন মানুষের হাতে সংবাদপত্র পৌঁছে দিয়ে যে সামান্য অর্থ উপার্জন করতেন, তা দিয়েই চলত তাঁর সংসার।
দীর্ঘ কর্মজীবনে পত্রিকা বিক্রিই ছিল তাঁর আয়ের একমাত্র উৎস। বছরের পর বছর রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে মানুষের কাছে সংবাদপত্র পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। সাধারণ জীবনযাপন ও পরিশ্রমনির্ভর জীবনের অধিকারী নিতাই সাহা স্থানীয়ভাবে একজন ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে স্বজন, পরিচিতজন ও দীর্ঘদিনের পেশাগত পরিচিতদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন রেখে গেছেন। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে রহিমপুর গ্রামে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন তিনি।
নিতাই চন্দ্র সাহার বড় ভাই সুভাষচন্দ্র সাহাও পত্রিকা বিক্রির সঙ্গে যুক্ত। উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ এলাকার বাসস্টেশন-সংলগ্ন তাঁর একটি পত্রিকার স্টল রয়েছে।
দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে অন্যের হাতে সংবাদ তুলে দেওয়া নিতাই সাহার নিজের জীবনসংগ্রামের গল্প হয়তো অনেকের কাছেই অজানা থেকে গেছে। পত্রিকা বিক্রির সামান্য আয়ে সংসার চালানো এই পরিশ্রমী মানুষের বিদায়ে তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
Reporter Name 























