সিএনএমঃ
রাজধানীর কদমতলীতে দোকানে ঢুকে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আসলাম খানকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, জমির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।
এ ঘটনায় জড়িত আরও দুজন এবং জমি নিয়ে বিরোধের মূল ব্যক্তি জলিল মণ্ডলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মনজুরুল ইসলাম, ইকবাল, কালু, আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিন।
উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া ৮টার দিকে কদমতলী থানার জিয়া সরণির মেসার্স লাকি ক্রোকারিজে ঢুকে আসলাম খানকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন মনজুরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।
গুলিতে আসলাম খানের মুখের ডান পাশ ও বাম হাতের কনুইতে আঘাত লাগে। পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। গুলি চালানোর পর স্থানীয়দের সহায়তায় মনজুরুলকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মনজুরুলের কাছ থেকে একটি রিভলভার, নয় রাউন্ড তাজা গুলি, একটি পিস্তল ও একটি পিস্তলের ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা এবং একটি মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
উপকমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, মনজুরুলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার রাতেই কদমতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইকবাল ও কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দক্ষিণখান এলাকায় অভিযান চালিয়ে আকলিমা আক্তার রুনিয়া ও সোনিয়া ইয়াসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলার সময় সেখানে ছয়জনের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার সোনিয়া ইয়াসমিন ও রুনিয়া হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র বহনের দায়িত্বে ছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা ভ্যানিটি ব্যাগে করে অস্ত্র ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, হামলার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বৈঠক করেন। পরে উত্তরখান এলাকা থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে নির্ধারিত একটি স্থানে সবাই একত্রিত হন। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলা চালান।
পুলিশের তদন্তে হামলার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে বলেও জানান তিনি।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আসলাম খান ও তাঁর সহযোগীরা যে জমি কিনেছিলেন, সেটি দীর্ঘদিন ধরে জলিল মণ্ডলের দখলে ছিল। এ নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা চলার পর আদালতের রায় পান আসলাম খান।
গত ১৭ আগস্ট ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জলিল মণ্ডলকে ওই জমি থেকে উচ্ছেদ করা হয় এবং জমির দখল আসলাম খানকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের ধারণা, জমির দখল হারানোর ক্ষোভ থেকেই আসলাম খানকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়ে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় কদমতলী থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কার মাধ্যমে সেগুলো হামলাকারীদের কাছে পৌঁছেছে এবং ঘটনার নেপথ্যে আরও কারা জড়িত—এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Reporter Name 






















