সিএনএম প্রতিনিধিঃ
চুরি হওয়ার পর চেহারা বিকৃত করা এক শিশুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১ মে) রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কদমতলী এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুইজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে বংশাল থানা পুলিশ।
পুলিশ বলছে, একটি চক্র চকলেট খাওয়ানোর কথা বলে কৌশলে শিশুটিকে অপহরণ করে। পরে ওই শিশুদের দিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করানো হয়। মারধরে কখনও কখনও চেহারা বিকৃত করে ভিক্ষায় বাধ্য করা হচ্ছে।
বংশাল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা সুমা (২৫) রাস্তায় ভাঙারি ও কাগজ টুকিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ২৫ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসা থেকে বেরিয়ে কাগজ ও ভাঙারি কুড়াতে বংশালে যান। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পুরাতন বংশাল রোডের মাথায় মেয়ে রাশিদা আক্তারকে (২) বসিয়ে রেখে কাগজ কুড়াচ্ছিলেন সুমা। কিছুক্ষণ পরে দেখতে পান তার মেয়ে আর সেখানে নেই।
আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে বংশাল থানায় একটি নিখোঁজ জিডি (নং-১১৬১) করেন সুমা। ওই জিডির পর শিশু রাশিদাকে খুঁজে পেতে চার সদস্যের টিম গঠন করে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দুজন শিশু চোরকে শনাক্ত করা হয়।
জানা যায়, আসলে শিশু রাশিদা হারিয়ে যায়নি। তাকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে অপহরণ করা হয়েছে। ভিক্ষায় ব্যবহারের জন্য আটকে রেখে মারধরে বিকৃত করে দেয় শিশুটির চেহারা।
বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত বিশ্লেষণ করে শনিবার (১ মে) রাত সাড়ে আটটার দিকে কদমতলীর শহিদনগর এলাকা থেকে শিশু রাশিদাকে উদ্ধারসহ দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়।
বংশাল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীন ফকির জানান, আসামি নীলা বেগম ও আরেকজন শিশু রাশিদা আক্তারকে চকলেট খাইয়ে কথাবার্তার মাধ্যমে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল শিশু রাশিদাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করা। আর সেজন্য মারধর করে শিশুটির চেহারা বিকৃত করে দেওয়া হয়।
ওসি বলেন, উদ্ধার হওয়া শিশুর শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পুলিশের তৎপরতায় অবশেষে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় মায়ের কোলে।
ঘটনায় জড়িত দুইজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।