ঢাকা ০৮:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:০৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. নুরুল চৌধুরী (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-রমনা বিভাগ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ভূইয়াবাড়ি বাঁশতলা সড়কের সানডে-সোসাইটি আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালিয়ে মো. নুরুল চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত থেকে দুটি ওয়াকিটকি, দুই সেট ওয়াকিটকির চার্জার, একটি ভুয়া পাসপোর্ট, সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়যুক্ত একটি ভুয়া আইডি কার্ড, র‍্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার ডেপুটি ডিরেক্টর পরিচয়যুক্ত একটি ভুয়া আইডি কার্ড, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ১০টি পোশাক, সেনাবাহিনীর চিকিৎসা বইসহ বিভিন্ন ফর্ম ও প্যাড, সেনাবাহিনীর মেজর ও পুলিশ সুপার পরিচয়যুক্ত পোশাক পরিহিত পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং চাকরির আবেদন ফরম উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত নুরুল চৌধুরী তার সহযোগীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে ‘মেজর আল মামুন, ‘কর্নেল নাজিম’ ও ‘মেজর তানভীর’ পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক, রাঁধুনি, পিয়ন ও বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন।

চাকরি প্রত্যাশী বেকার যুবক, রিকশাচালক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ ছিল এই চক্রটির অন্যতম লক্ষ্য। প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফরম, পরিচয়পত্র, সেনাবাহিনীর পোশাক ও বিভিন্ন বাহিনীর পোশাক পরিহিত ছবি ব্যবহার করত। এছাড়া কখনো এসবি-ডিবির সদস্য এবং কখনো ‘পুলিশ সুপার তারিকুর রহমান’ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করার তথ্যও পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে গ্রেফতারকৃত নুরুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রতারণা সংক্রান্ত শাহআলী থানায় মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

এদিকে গ্রেফতারকৃতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, উদ্ধারকৃত ভুয়া পরিচয়পত্র, নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র, পোশাক ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার

আপডেট সময় ০৮:০৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সিএনএমঃ

সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. নুরুল চৌধুরী (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা-রমনা বিভাগ।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

গোয়েন্দা বিভাগ জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ডিএমপির উত্তরা বিভাগের ভূইয়াবাড়ি বাঁশতলা সড়কের সানডে-সোসাইটি আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযান চালিয়ে মো. নুরুল চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারের সময় তার হেফাজত থেকে দুটি ওয়াকিটকি, দুই সেট ওয়াকিটকির চার্জার, একটি ভুয়া পাসপোর্ট, সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়যুক্ত একটি ভুয়া আইডি কার্ড, র‍্যাবের কর্নেল পদমর্যাদার ডেপুটি ডিরেক্টর পরিচয়যুক্ত একটি ভুয়া আইডি কার্ড, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ধরনের ১০টি পোশাক, সেনাবাহিনীর চিকিৎসা বইসহ বিভিন্ন ফর্ম ও প্যাড, সেনাবাহিনীর মেজর ও পুলিশ সুপার পরিচয়যুক্ত পোশাক পরিহিত পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সেনাবাহিনীর ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং চাকরির আবেদন ফরম উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত নুরুল চৌধুরী তার সহযোগীদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজেকে ‘মেজর আল মামুন, ‘কর্নেল নাজিম’ ও ‘মেজর তানভীর’ পরিচয় দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক, রাঁধুনি, পিয়ন ও বাবুর্চি পদে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখাতেন।

চাকরি প্রত্যাশী বেকার যুবক, রিকশাচালক, শ্রমিক, দিনমজুরসহ নিম্নআয়ের মানুষ ছিল এই চক্রটির অন্যতম লক্ষ্য। প্রতারণার মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য তারা ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন ফরম, পরিচয়পত্র, সেনাবাহিনীর পোশাক ও বিভিন্ন বাহিনীর পোশাক পরিহিত ছবি ব্যবহার করত। এছাড়া কখনো এসবি-ডিবির সদস্য এবং কখনো ‘পুলিশ সুপার তারিকুর রহমান’ পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করার তথ্যও পাওয়া গেছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে গ্রেফতারকৃত নুরুল চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

তার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রতারণা সংক্রান্ত শাহআলী থানায় মামলা রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।

এদিকে গ্রেফতারকৃতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, উদ্ধারকৃত ভুয়া পরিচয়পত্র, নিয়োগ সংক্রান্ত কাগজপত্র, পোশাক ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্তে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের পাশাপাশি প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।