ঢাকা ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৬:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৪৮ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

মুন্সীগঞ্জে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ও চোরাই সন্দেহে মোট পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

একই অভিযানে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্র এলাকা থেকে ১১০০ পিস ইয়াবা ও ২ কেজি গাঁজাও উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পদ্মা সেতু উত্তর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান , শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার আহাদি মাদবর কান্দি গ্রামের আফজাল মুন্সীর ছেলে মো. সজিব (২৯) গত ৯ জুলাই পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন পশ্চিম কুমারভোগ নুরানী জামে মসজিদের সামনে থেকে তার কালো রঙের সুজুকি ২৫০ সিসি এসএফ এফআই এবিএস ৬০৫ মোটরসাইকেল (রেজিস্ট্রেশন: ঢাকা মেট্রো-ল-৭৪-০৮৯২) চুরি হওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের সার্বিক তদারকিতে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) অর্জুন দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়।
অভিযানে গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার নিতাইগঞ্জ বাপ্পী চত্বর এলাকা থেকে মো. সুমন (২৫), পিতা- মো. মনির হোসেন, মাতা- মোছা. শিল্পী বেগম, সাং- নিতাইগঞ্জ বাপ্পী চত্বর, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে বাদীর চুরি যাওয়া সুজুকি মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা বাজার এলাকা থেকে হৃদয় দেওয়ান (৩০), পিতা- আবু তাহের দেওয়ান, মাতা- শিউলি বেগম, সাং- দক্ষিণ বেতকা, থানা- টঙ্গীবাড়ী, জেলা- মুন্সীগঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো রঙের ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

হৃদয় দেওয়ানের তথ্য অনুযায়ী টঙ্গীবাড়ীর আমতলী এলাকা থেকে সজীব পাইক (২৪), পিতা- মৃত উজ্জ্বল পাইক, মাতা- জোসনা পাইক, সাং- আমতলী, থানা- টঙ্গীবাড়ী, জেলা- মুন্সীগঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ঢাকা মেট্রো-ল-৪৭-০৮৬৪ নম্বরযুক্ত কালো রঙের একটি হাংক ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল চোরাই সন্দেহে জব্দ করা হয়।

হৃদয় দেওয়ানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্র এলাকার একটি দর্জি দোকানের পেছন থেকে ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর ঘষামাজা করা অবস্থায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন দুটি পুরাতন পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি লাল এবং অন্যটি কালো রঙের। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তে তদন্ত চলছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল চুরি করে নম্বর প্লেট ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে বিক্রি করে আসছিলেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, একই অভিযানে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকার মর্জিনা বেগমের দর্জি দোকানের ভেতর থেকে আলাল ওরফে আলা উদ্দিন, পিতা- পাগল চান, সাং- গোয়ালীমান্দ্রা, থানা- লৌহজং, জেলা- মুন্সীগঞ্জের ফেলে যাওয়া ১১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৬:৩৭:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

সিএনএমঃ

মুন্সীগঞ্জে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে চুরি হওয়া ও চোরাই সন্দেহে মোট পাঁচটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

একই অভিযানে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্র এলাকা থেকে ১১০০ পিস ইয়াবা ও ২ কেজি গাঁজাও উদ্ধার করা হয়েছে।

সোমবার মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম পদ্মা সেতু উত্তর থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার জানান , শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার আহাদি মাদবর কান্দি গ্রামের আফজাল মুন্সীর ছেলে মো. সজিব (২৯) গত ৯ জুলাই পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন পশ্চিম কুমারভোগ নুরানী জামে মসজিদের সামনে থেকে তার কালো রঙের সুজুকি ২৫০ সিসি এসএফ এফআই এবিএস ৬০৫ মোটরসাইকেল (রেজিস্ট্রেশন: ঢাকা মেট্রো-ল-৭৪-০৮৯২) চুরি হওয়ার ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, পিপিএম-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেনের তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জের সার্বিক তদারকিতে পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) অর্জুন দাসের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল অভিযান চালায়।
অভিযানে গত ১২ জুলাই রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানার নিতাইগঞ্জ বাপ্পী চত্বর এলাকা থেকে মো. সুমন (২৫), পিতা- মো. মনির হোসেন, মাতা- মোছা. শিল্পী বেগম, সাং- নিতাইগঞ্জ বাপ্পী চত্বর, থানা- নারায়ণগঞ্জ সদর, জেলা- নারায়ণগঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে বাদীর চুরি যাওয়া সুজুকি মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার বেতকা বাজার এলাকা থেকে হৃদয় দেওয়ান (৩০), পিতা- আবু তাহের দেওয়ান, মাতা- শিউলি বেগম, সাং- দক্ষিণ বেতকা, থানা- টঙ্গীবাড়ী, জেলা- মুন্সীগঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন কালো রঙের ডিসকভার ১২৫ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

হৃদয় দেওয়ানের তথ্য অনুযায়ী টঙ্গীবাড়ীর আমতলী এলাকা থেকে সজীব পাইক (২৪), পিতা- মৃত উজ্জ্বল পাইক, মাতা- জোসনা পাইক, সাং- আমতলী, থানা- টঙ্গীবাড়ী, জেলা- মুন্সীগঞ্জকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ঢাকা মেট্রো-ল-৪৭-০৮৬৪ নম্বরযুক্ত কালো রঙের একটি হাংক ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল চোরাই সন্দেহে জব্দ করা হয়।

হৃদয় দেওয়ানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্র এলাকার একটি দর্জি দোকানের পেছন থেকে ইঞ্জিন ও চেসিস নম্বর ঘষামাজা করা অবস্থায় রেজিস্ট্রেশনবিহীন দুটি পুরাতন পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একটি লাল এবং অন্যটি কালো রঙের। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর প্রকৃত মালিক শনাক্তে তদন্ত চলছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে মুন্সীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলায় সংঘবদ্ধভাবে মোটরসাইকেল চুরি করে নম্বর প্লেট ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশ পরিবর্তন করে বিক্রি করে আসছিলেন।

ডিবি পুলিশ জানায়, একই অভিযানে লৌহজং উপজেলার গোয়ালীমান্দ্রা এলাকার মর্জিনা বেগমের দর্জি দোকানের ভেতর থেকে আলাল ওরফে আলা উদ্দিন, পিতা- পাগল চান, সাং- গোয়ালীমান্দ্রা, থানা- লৌহজং, জেলা- মুন্সীগঞ্জের ফেলে যাওয়া ১১০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও ২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।