ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

জুলাই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ‘ভিত্তিহীন’, তথ্য প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ‘শেখ হাসিনার চিঠি’

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৬:০৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়কহাইকমিশনারের কার্যালয় ‘ওএইচসিএইচআর’ যে তথ্য প্রকাশ করেছিল, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘অত্যন্ত ভুল’ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই নিহতের সংখ্যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে এবং বিভ্রান্তিকর এই তথ্যটি জনসমক্ষে প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক আইনি উপদেষ্টা।

এনডিটিভি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৮ মে লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের প্রখ্যাত আইনি পরামর্শক স্টিভেন পাউলেস কেসি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘের ওএইচসিএইচআর কর্তৃক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভ সংক্রান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপব্যবহার’ শীর্ষক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের মূল নিহতের সংখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

চিঠিতে শেখ হাসিনার আইনি উপদেষ্টা স্টিভেন পাউলেস উল্লেখ করেছেন, ‘এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিজস্ব সরকারি নথির ওপর ভিত্তি করে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ওই সময় ১ হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার যে দাবি জাতিসংঘ করেছে, তা অত্যন্ত ভুল ছিল। শেখ হাসিনার সরকারকে সহিংসভাবে উৎখাত করার বিষয়টিকে বৈধতা দিতেই মূলত এই ধরনের মিথ্যা ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানো হয়েছিল।’

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে মাত্র ৪৬ দিনে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যার সিংহভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন। ওই প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে শেখ হাসিনার ওপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন।

শেখ হাসিনার আইনি দল তাদের যুক্তির পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গত বছরের ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত বাংলাদেশের নিজস্ব ‘অফিসিয়াল গেজেট’ এর তথ্য তুলে ধরেছেন। ওই গেজেটে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত বা ‘শহীদ’ হিসেবে মোট ৮৩৪ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, যা জাতিসংঘের দাবিকৃত সংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব হিসেবেও নিহতের সংখ্যা ছিল ৬৫০ জন। ফলে কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ উৎসের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক কম হবে বলে আইনি উপদেষ্টা দাবি করেছেন।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এই অতিরঞ্জিত নিহতের সংখ্যাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শান্তিকামী আন্দোলনকারীদের ওপর ‘গণহত্যার’ আদেশদাতা হিসেবে চিত্রিত করতে এবং তার সরকার পতনের আন্দোলনকে বেগবান করতেই এই কাল্পনিক সংখ্যাটি প্রচার করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনার আইনি দল জাতিসংঘের এই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে, কারণ এই তদন্তটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে করা হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ‘আইসিসি’ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে অনুচ্ছেদ ১৫ অনুযায়ী যোগাযোগ করা হয়েছে।

আইনি চিঠির এই সময়কালকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন, কারণ গত বছরের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। শেখ হাসিনার আইনি দল শুরু থেকেই সেই বিচারিক প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

চিঠির শেষাংশে স্টিভেন পাউলেস ওএইচসিএইচআর-এর কাছে অবিলম্বে জনসমক্ষে এই ১ হাজার ৪০০ নিহতের ভুল তথ্যটি প্রত্যাহার ও সংশোধন করার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে জাতিসংঘ কোনো অসত্য বিবরণী বা ‘ফলস ন্যারেটিভ’ প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত না হয়। এই চিঠির বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই আন্দোলনে নিহতের সংখ্যা ‘ভিত্তিহীন’, তথ্য প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ‘শেখ হাসিনার চিঠি’

আপডেট সময় ০৬:০৬:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়কহাইকমিশনারের কার্যালয় ‘ওএইচসিএইচআর’ যে তথ্য প্রকাশ করেছিল, তাকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ‘অত্যন্ত ভুল’ বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এই নিহতের সংখ্যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে এবং বিভ্রান্তিকর এই তথ্যটি জনসমক্ষে প্রত্যাহার করার জোর দাবি জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন শেখ হাসিনার আন্তর্জাতিক আইনি উপদেষ্টা।

এনডিটিভি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত ২৮ মে লন্ডনের ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের প্রখ্যাত আইনি পরামর্শক স্টিভেন পাউলেস কেসি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে এই চিঠিটি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জাতিসংঘের ওএইচসিএইচআর কর্তৃক প্রকাশিত ‘বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্টের বিক্ষোভ সংক্রান্ত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপব্যবহার’ শীর্ষক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের মূল নিহতের সংখ্যাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

চিঠিতে শেখ হাসিনার আইনি উপদেষ্টা স্টিভেন পাউলেস উল্লেখ করেছেন, ‘এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিজস্ব সরকারি নথির ওপর ভিত্তি করে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে, ওই সময় ১ হাজার ৪০০ বিক্ষোভকারী নিহত হওয়ার যে দাবি জাতিসংঘ করেছে, তা অত্যন্ত ভুল ছিল। শেখ হাসিনার সরকারকে সহিংসভাবে উৎখাত করার বিষয়টিকে বৈধতা দিতেই মূলত এই ধরনের মিথ্যা ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়ানো হয়েছিল।’

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে মাত্র ৪৬ দিনে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হয়েছেন, যার সিংহভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে মারা গেছেন। ওই প্রতিবেদনটি বিশ্বজুড়ে শেখ হাসিনার ওপর ব্যাপক আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের আগস্টে তিনি দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন।

শেখ হাসিনার আইনি দল তাদের যুক্তির পক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক গত বছরের ১৫ জানুয়ারি প্রকাশিত বাংলাদেশের নিজস্ব ‘অফিসিয়াল গেজেট’ এর তথ্য তুলে ধরেছেন। ওই গেজেটে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে নিহত বা ‘শহীদ’ হিসেবে মোট ৮৩৪ জনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, যা জাতিসংঘের দাবিকৃত সংখ্যার প্রায় অর্ধেক।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নিজস্ব হিসেবেও নিহতের সংখ্যা ছিল ৬৫০ জন। ফলে কোনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষ উৎসের মাধ্যমে সুষ্ঠু তদন্ত করা হলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়েও অনেক কম হবে বলে আইনি উপদেষ্টা দাবি করেছেন।

চিঠিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, এই অতিরঞ্জিত নিহতের সংখ্যাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শান্তিকামী আন্দোলনকারীদের ওপর ‘গণহত্যার’ আদেশদাতা হিসেবে চিত্রিত করতে এবং তার সরকার পতনের আন্দোলনকে বেগবান করতেই এই কাল্পনিক সংখ্যাটি প্রচার করা হয়েছিল।

শেখ হাসিনার আইনি দল জাতিসংঘের এই তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে, কারণ এই তদন্তটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমন্ত্রণে করা হয়েছিল, যাদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ‘আইসিসি’ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে অনুচ্ছেদ ১৫ অনুযায়ী যোগাযোগ করা হয়েছে।

আইনি চিঠির এই সময়কালকে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন, কারণ গত বছরের নভেম্বর মাসে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিক্ষোভ দমনে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। শেখ হাসিনার আইনি দল শুরু থেকেই সেই বিচারিক প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

চিঠির শেষাংশে স্টিভেন পাউলেস ওএইচসিএইচআর-এর কাছে অবিলম্বে জনসমক্ষে এই ১ হাজার ৪০০ নিহতের ভুল তথ্যটি প্রত্যাহার ও সংশোধন করার অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে জাতিসংঘ কোনো অসত্য বিবরণী বা ‘ফলস ন্যারেটিভ’ প্রচারের হাতিয়ারে পরিণত না হয়। এই চিঠির বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কার্যালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।