ঢাকা ০৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী ও কন্যারা যেন আর অবহেলা, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার না হন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:১৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

ঘরে ও বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নেওয়া নীতিমালার সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক-নারী ও কন্যারা যেন আর অবহেলা, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার না হন। তারা যেন সমান সুযোগ ও মর্যাদা পান।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠবে, স্বাবলম্বী হবে এবং নেতৃত্ব দেবে। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে ‘গণতন্ত্রের অগ্রগতিতে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকার নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
নারীর অগ্রগতিকে দেশের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরুষশাসিত সমাজে এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। এ সময় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নারী উন্নয়ন উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন এবং বলেন, তার প্রতিষ্ঠিত ভিত্তিকে খালেদা জিয়ার সরকার আরও শক্তিশালী করেছে।
রাষ্ট্রপতি জানান, মেয়েদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং শিক্ষা উপবৃত্তি চালুর মতো উদ্যোগ নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ চালুর পরিকল্পনাও নিয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারকে সহায়তা করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আগামী ১০ মার্চ চালু হবে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, মজুরি বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, সামাজিক কুসংস্কার এবং অনলাইনে সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা, গণমাধ্যম ও তরুণ প্রজন্মকে নারীর প্রতি সমতা ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাজনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রশাসন, শান্তিরক্ষা ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা আজ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছেন।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, স্টেফান লিলার এবং মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা। অনুষ্ঠানে ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীকালের ন্যায়বিচার : নারী ও মেয়েদের অধিকার সুরক্ষিত থাকুক’ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

নারী ও কন্যারা যেন আর অবহেলা, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার না হন

আপডেট সময় ০৭:১৮:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

ঘরে ও বাইরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে তাদের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নেওয়া নীতিমালার সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
রোববার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস-২০২৬ উপলক্ষে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হোক-নারী ও কন্যারা যেন আর অবহেলা, নির্যাতন ও বৈষম্যের শিকার না হন। তারা যেন সমান সুযোগ ও মর্যাদা পান।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে যেখানে প্রতিটি নারী নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠবে, স্বাবলম্বী হবে এবং নেতৃত্ব দেবে। প্রতিটি কন্যাশিশু যেন স্বপ্ন দেখার এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পায়।
অনুষ্ঠানে ‘গণতন্ত্রের অগ্রগতিতে শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত করা হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। তার পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকার নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল।
নারীর অগ্রগতিকে দেশের অগ্রগতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরুষশাসিত সমাজে এই বাস্তবতাকে স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। এ সময় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নারী উন্নয়ন উদ্যোগের কথাও স্মরণ করেন এবং বলেন, তার প্রতিষ্ঠিত ভিত্তিকে খালেদা জিয়ার সরকার আরও শক্তিশালী করেছে।
রাষ্ট্রপতি জানান, মেয়েদের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং শিক্ষা উপবৃত্তি চালুর মতো উদ্যোগ নারী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সরকার স্নাতকোত্তর স্তর পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার সুযোগ চালুর পরিকল্পনাও নিয়েছে।
অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারকে সহায়তা করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি আগামী ১০ মার্চ চালু হবে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি।
তিনি বলেন, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, মজুরি বৈষম্য, বাল্যবিবাহ, সামাজিক কুসংস্কার এবং অনলাইনে সাইবার বুলিংসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এখনও বিদ্যমান। এসব সমস্যা মোকাবিলায় কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতা, গণমাধ্যম ও তরুণ প্রজন্মকে নারীর প্রতি সমতা ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত নারীদের দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাজনীতি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রশাসন, শান্তিরক্ষা ও ক্রীড়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীরা আজ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছেন।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, স্টেফান লিলার এবং মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা। অনুষ্ঠানে ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীকালের ন্যায়বিচার : নারী ও মেয়েদের অধিকার সুরক্ষিত থাকুক’ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্রও প্রদর্শন করা হয়।