সমগ্র বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের অনুমতি
সিএনএম ডেস্কঃ
আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের জন্য পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণে নানা অসংগতি ও নাটকীয়তার অভিযোগ উঠছে। মাঠে-ঘাটে দীর্ঘদিন কাজ করা অভিজ্ঞ সাংবাদিকদের অনেকেই যেখানে কার্ড পাচ্ছেন না, সেখানে যাদের কখনো সক্রিয় সাংবাদিকতা করতে দেখা যায়নি—তাদের নামেও পর্যবেক্ষণ কার্ড ইস্যু করা হচ্ছে । যারা এই সমগ্র বাংলাদেশ পর্যায় ওখানে কার্ড নিচ্ছেন তারা নিজেদের ফেসবুক আইডিতে প্রচারে নেমেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দলীয় সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে বিভিন্ন পত্রিকার পরিচয়পত্র ব্যবহার করে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ কার্ড পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে। আরও বিস্ময়ের বিষয় হলো—অনেককে নির্দিষ্ট এলাকা নয়, বরং “সমগ্র বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের” অনুমতি দিয়ে কার্ড দেওয়া হয়েছে।
প্রশ্ন উঠেছে, বাস্তবিক অর্থে একজন সাংবাদিক কীভাবে সারাদেশে একযোগে পর্যবেক্ষণ করবেন? রাজধানীভিত্তিক, তুলনামূলক কম পরিচিত কোনো পত্রিকার একজন সাংবাদিক যদি সারা দেশের দায়িত্ব পান, তবে তিনি কি প্রতিটি জেলায় বিমানে করে ঘুরবেন, নাকি বাস্তবে সেই দায়িত্ব পালনই সম্ভব হবে না? সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রত্যেক সাংবাদিককে নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হলে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য হতো।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, প্রথম সারির প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যম বাদে অনেক পত্রিকার নামে কার্ড নেওয়া কিছু ব্যক্তির সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের গোপন সমঝোতার কথাও শোনা যাচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দলবেঁধে গাড়ি নিয়ে কেন্দ্রভিত্তিক অবস্থান নেওয়ার পরিকল্পনাও করা হচ্ছে, যা নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর নজরদারি ও সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।