ঢাকা ০৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্যক্তি পর্যায়ে ৬০ বিঘার বেশি জমি হলে নিয়ে নেবে সরকার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:২৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মে ২০২২
  • ২২৩ বার পড়া হয়েছে

ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৬০ বিঘা কৃষিজমির মালিকানা থাকতে পারবে। এর বেশি হলে তা সরকার নিয়ে নেবে। এমন বিধান রেখে ভূমি সংস্কার আইনের (২০২২) খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ব্যক্তি মালিকানায় ৬০ বিঘার বেশি নিতে পারবে না। ২৫ বিঘা পর্যন্ত খাজনা মাফ। আর সর্বোচ্চ রাখতে পারবে একজন ৬০ বিঘা। একজনের নামে ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমি থাকলে সরকার তা নিয়ে নেবে।

তবে কৃষি শিল্পের ক্ষেত্রে ৬০ বিঘার বেশি জমির মালিকানা লাভের সুযোগ থাকছে বলেও জানান খন্দকার আনোয়ারুল।

তিনি বলেন, কিন্তু সে যদি ইন্ডাস্ট্রি করে কৃষিপণ্যজাতের- যেটা এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড, তাহলে সেক্ষেত্রে এ ৬০ বিঘার সিলিং তার জন্য প্রযোজ্য না। সে ইন্ডাস্ট্রির জন্য অ্যাপ্রুভাল রিপোর্টে যেটা আছে, ব্যাংক যেটাকে জাস্টিফাই করবে- সেটা পর্যন্ত রাখতে পারবে।

খাসজমির বন্দোবস্ত সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পল্লী এলাকাতে বাস্তুভিটা হিসেবে ব্যবহারের জন্য কোনো খাস জমি যদি পাওয়া যায়, তাহলে সরকার ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা বা তার পরিবার বা ভূমিহীন কৃষক বা শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লিজ দেবে।

তবে কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তিকে ৫ শতাংশের বেশি লিজ দেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, ভূমি সংস্কার আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে কৃষিজমি অর্জন সীমিতকরণ বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আইনের ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, যিনি বা যার পরিবার ৬০ প্রমিত বিঘা (৩৩ শতকে এক বিঘাকে প্রমিত বিঘা বোঝায়) অপেক্ষা অধিক কৃষিজমির মালিক, তিনি নতুন করে হস্তান্তর, উত্তরাধিকার, দান বা অন্য যে কোনো উপায়ে নতুন কোনো কৃষিজমি অর্জন করতে পারবেন না। তবে কোনো সংস্থা জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এর ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করতে পারবে।

আইনের ৪(৩) ধারায় বলা আছে, যিনি বা যার পরিবার ৬০ বিঘা অপেক্ষা কম কৃষিজমির মালিক, তিনি যে কোনো উপায়ে নতুন কৃষিজমি অর্জন করতে পারবেন। কিন্তু ওইরূপ নতুন জমি তার মালিকানায় থাকা কৃষিজমিসহ একত্রে ৬০ বিঘার বেশি হবে না।  ৪(৪) ধারায় বলা হয়েছে, ক্রয়সূত্রে যদি কোনো জমির মালিক এ ধারার বিধানাবলি লঙ্ঘন করে কোনো নতুন কৃষিজমি অর্জন করেন, তাহলে যে পরিমাণ জমি ৬০ প্রমিত বিঘার বেশি হবে, তা সরকারের অনুকূলে সমর্পিত হবে। এই সমর্পিত জমির জন্য সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ পাওয়া কিংবা আদায় করা যাবে না। তবে সেটি যদি উত্তরাধিকার, দান বা উইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়, তাহলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

৪(৫) ধারায় বলা আছে, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি ৬০ প্রমিত বিঘার বেশি হলে জমির মালিক তার পছন্দমতো ৬০ বিঘা জমি নিজের অনুকূলে রাখতে পারবেন। অবশিষ্ট জমি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত মৌজামূল্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরকার খাস করতে পারবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসি সরকারের পক্ষে এ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যক্তি পর্যায়ে ৬০ বিঘার বেশি জমি হলে নিয়ে নেবে সরকার

আপডেট সময় ১০:২৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মে ২০২২

ব্যক্তি পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৬০ বিঘা কৃষিজমির মালিকানা থাকতে পারবে। এর বেশি হলে তা সরকার নিয়ে নেবে। এমন বিধান রেখে ভূমি সংস্কার আইনের (২০২২) খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, ব্যক্তি মালিকানায় ৬০ বিঘার বেশি নিতে পারবে না। ২৫ বিঘা পর্যন্ত খাজনা মাফ। আর সর্বোচ্চ রাখতে পারবে একজন ৬০ বিঘা। একজনের নামে ৬০ বিঘার বেশি কৃষিজমি থাকলে সরকার তা নিয়ে নেবে।

তবে কৃষি শিল্পের ক্ষেত্রে ৬০ বিঘার বেশি জমির মালিকানা লাভের সুযোগ থাকছে বলেও জানান খন্দকার আনোয়ারুল।

তিনি বলেন, কিন্তু সে যদি ইন্ডাস্ট্রি করে কৃষিপণ্যজাতের- যেটা এক্সপোর্ট ওরিয়েন্টেড, তাহলে সেক্ষেত্রে এ ৬০ বিঘার সিলিং তার জন্য প্রযোজ্য না। সে ইন্ডাস্ট্রির জন্য অ্যাপ্রুভাল রিপোর্টে যেটা আছে, ব্যাংক যেটাকে জাস্টিফাই করবে- সেটা পর্যন্ত রাখতে পারবে।

খাসজমির বন্দোবস্ত সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, পল্লী এলাকাতে বাস্তুভিটা হিসেবে ব্যবহারের জন্য কোনো খাস জমি যদি পাওয়া যায়, তাহলে সরকার ভূমিহীন মুক্তিযোদ্ধা বা তার পরিবার বা ভূমিহীন কৃষক বা শ্রমিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে লিজ দেবে।

তবে কোনো অবস্থাতেই কোনো ব্যক্তিকে ৫ শতাংশের বেশি লিজ দেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।

জানা গেছে, ভূমি সংস্কার আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে কৃষিজমি অর্জন সীমিতকরণ বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। আইনের ৪(১) ধারায় বলা হয়েছে, যিনি বা যার পরিবার ৬০ প্রমিত বিঘা (৩৩ শতকে এক বিঘাকে প্রমিত বিঘা বোঝায়) অপেক্ষা অধিক কৃষিজমির মালিক, তিনি নতুন করে হস্তান্তর, উত্তরাধিকার, দান বা অন্য যে কোনো উপায়ে নতুন কোনো কৃষিজমি অর্জন করতে পারবেন না। তবে কোনো সংস্থা জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে এর ঊর্ধ্বসীমা অতিক্রম করতে পারবে।

আইনের ৪(৩) ধারায় বলা আছে, যিনি বা যার পরিবার ৬০ বিঘা অপেক্ষা কম কৃষিজমির মালিক, তিনি যে কোনো উপায়ে নতুন কৃষিজমি অর্জন করতে পারবেন। কিন্তু ওইরূপ নতুন জমি তার মালিকানায় থাকা কৃষিজমিসহ একত্রে ৬০ বিঘার বেশি হবে না।  ৪(৪) ধারায় বলা হয়েছে, ক্রয়সূত্রে যদি কোনো জমির মালিক এ ধারার বিধানাবলি লঙ্ঘন করে কোনো নতুন কৃষিজমি অর্জন করেন, তাহলে যে পরিমাণ জমি ৬০ প্রমিত বিঘার বেশি হবে, তা সরকারের অনুকূলে সমর্পিত হবে। এই সমর্পিত জমির জন্য সরকারের কাছ থেকে কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ পাওয়া কিংবা আদায় করা যাবে না। তবে সেটি যদি উত্তরাধিকার, দান বা উইলের মাধ্যমে প্রাপ্ত হয়, তাহলে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।

৪(৫) ধারায় বলা আছে, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি ৬০ প্রমিত বিঘার বেশি হলে জমির মালিক তার পছন্দমতো ৬০ বিঘা জমি নিজের অনুকূলে রাখতে পারবেন। অবশিষ্ট জমি উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত মৌজামূল্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ দিয়ে সরকার খাস করতে পারবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসি সরকারের পক্ষে এ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।