ঢাকা ১০:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশি পাহারার সভায় যা সিদ্ধান্ত নিল জয়পুরহাট জেলা আ.লীগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৪৪:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মে ২০২২
  • ২৩৩ বার পড়া হয়েছে

জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এই সভার জন্য কয়েকটি দোকান বন্ধসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জয়পুরহাট শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে জেলা আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ে রোববার (১৫ মে) বিকেল ৩টায় সভা শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে।

দলীয় এই সভায় বিবাদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় দলীয় কার্যালয় ও তার আশপাশে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দলটির নেতাকর্মীরা জানান, বিকেল ৩টায় জয়পুরহাট জেলা আ.লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান ওরফে রকেটের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. সামছুল আলম দুদু, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মন্ডলসহ জেলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গত ১১ মে জয়পুরহাট পৌর কমিউনিটি সেন্টারে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. সামছুল আলম দুদুর আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে নিয়ে অশোভন বক্তব্য দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় হুইপের নির্বাচনী এলাকা আক্কেলপুর-কালাই-ক্ষেতলাল উপজেলা আ.লীগ জরুরি সভা ডেকে গোলাম মাহফুজ চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায়।

রোববারের সভায় গোলাম মাহফুজ চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে এমন আশঙ্কা করছিলেন নেতাকর্মীরা। এ কারণে দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের দলবল নিয়ে সভায় যোগদান করেন।

এ নিয়ে জেলা আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে  উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুই গ্রুপের মধ্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটের বেশিরভাগ দোকানপাট ও পেছনের কিছু দোকানপাট বন্ধ করা হয়। সভা শুরুর আগ থেকেই দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান বলেন, দলীয় সভাকে ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে একারণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সভায় উপস্থিত থাকা কয়েকজন সদস্য জানান, আজকের সভায় বিবিধসহ ছয়টি আলোচ্যসূচি ছিল। বিবিধ আলোচনায় বেশিভাগ সদস্য জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী ওরফে অবসর হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন সর্ম্পকে অশোভন বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। তারা দল থেকে গোলাম মাহফুজ চৌধুরীকে বহিষ্কারের দাবি জানান। গোলাম মাহফুজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জয়পুরহাট জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, যা সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বলার মতো নয়। তবে সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট রাতে মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে বলেন, সভার সিদ্ধান্ত তাকে শোকজ করা হবে এবং দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

পুলিশি পাহারার সভায় যা সিদ্ধান্ত নিল জয়পুরহাট জেলা আ.লীগ

আপডেট সময় ১১:৪৪:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ মে ২০২২

জয়পুরহাট জেলা আওয়ামী লীগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আর এই সভার জন্য কয়েকটি দোকান বন্ধসহ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। জয়পুরহাট শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানের সামনে জেলা আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ে রোববার (১৫ মে) বিকেল ৩টায় সভা শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলে।

দলীয় এই সভায় বিবাদমান দুটি গ্রুপের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় দলীয় কার্যালয় ও তার আশপাশে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও দলটির নেতাকর্মীরা জানান, বিকেল ৩টায় জয়পুরহাট জেলা আ.লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান ওরফে রকেটের সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. সামছুল আলম দুদু, জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মন্ডলসহ জেলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। গত ১১ মে জয়পুরহাট পৌর কমিউনিটি সেন্টারে জয়পুরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. সামছুল আলম দুদুর আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী জয়পুরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনকে নিয়ে অশোভন বক্তব্য দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় হুইপের নির্বাচনী এলাকা আক্কেলপুর-কালাই-ক্ষেতলাল উপজেলা আ.লীগ জরুরি সভা ডেকে গোলাম মাহফুজ চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কারের দাবি জানায়।

রোববারের সভায় গোলাম মাহফুজ চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে এমন আশঙ্কা করছিলেন নেতাকর্মীরা। এ কারণে দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীরা তাদের দলবল নিয়ে সভায় যোগদান করেন।

এ নিয়ে জেলা আ.লীগের দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে  উত্তেজনা বিরাজ করছিল। দুই গ্রুপের মধ্য অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে কেন্দ্রীয় মসজিদ মার্কেটের বেশিরভাগ দোকানপাট ও পেছনের কিছু দোকানপাট বন্ধ করা হয়। সভা শুরুর আগ থেকেই দলীয় কার্যালয়ের আশপাশে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল।

জয়পুরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম আলমগীর জাহান বলেন, দলীয় সভাকে ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে একারণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শেষ পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

সভায় উপস্থিত থাকা কয়েকজন সদস্য জানান, আজকের সভায় বিবিধসহ ছয়টি আলোচ্যসূচি ছিল। বিবিধ আলোচনায় বেশিভাগ সদস্য জেলা আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী ওরফে অবসর হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন সর্ম্পকে অশোভন বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি উঠে আসে। তারা দল থেকে গোলাম মাহফুজ চৌধুরীকে বহিষ্কারের দাবি জানান। গোলাম মাহফুজ চৌধুরীর বিরুদ্ধে গঠনতন্ত্র মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

জয়পুরহাট জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, যা সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বলার মতো নয়। তবে সভাপতি আরিফুর রহমান রকেট রাতে মুঠোফোনে ঢাকা পোস্টকে বলেন, সভার সিদ্ধান্ত তাকে শোকজ করা হবে এবং দল থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে সুপারিশ করা হবে।