ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নির্বাচন করব : মনিরুল হক

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৫:২৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মে ২০২২
  • ২০৬ বার পড়া হয়েছে

মনিরুল হক সাক্কু

বিএনপি থেকে অব্যাহতি নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাককু। 

তিনি বলেন, আমি যতটুকু জেনেছি বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। আমি চিন্তা করেছি দলের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করব। জনগণের স্বার্থে আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় উপস্থিত না থাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে  মনিরুল হক সাককুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১২ সালে কুসিক নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। সেই সময় সাককু দল থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক কমিটির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মেয়র পদে জয়ী হন। পরবর্তীতে তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে পুনরায় তাকে বিএনপিতে নেওয়া হয়। ২০১৭ সালের দ্বিতীয়বারের কুসিক নির্বাচনে মনিরুল হক সাককু বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে মেয়র পদে জয়ী হন। তবে এবার বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানা গেছে।

এবারের কুসিক নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মেয়রপ্রার্থী মনিরুল হক সাককু।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। দুপুর ১২টার পর কোনো মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমার পক্ষে গণজোয়ার থাকায় বিপুল ভোটে পাস করেছিলাম। ইভিএমে যদি কারচুপি হয়, তাহলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন আছে, সরকারকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।  আমি তো আর সিস্টেম পাল্টাতে পারব না। নির্বাচনে আরও প্রার্থী থাকবে, তারাও আশা করি সুষ্ঠু ভোট দাবি করবেন। জনগণ যে রায় দেবে তা মেনে নেব।

আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহারের অনুসারী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত।

এই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে আপনি কতটুকু প্রস্তুত- এমন প্রশ্নে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সদ্য প্রয়াত আফজল খাঁনকে হারিয়ে জয় লাভ করেছি।  এখানে ভয়ভীতি কিছু নাই। জনগণ আমাকে চেয়েছে, আমি নির্বাচিত হয়েছি। সুতরাং আওয়ামী লীগের যতই হেভিওয়েট প্রার্থী আসুক আমার সমস্যা হবে না। আমার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য জনগণের ইচ্ছায় শেষ বারের মতো মেয়র নির্বাচন করব।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুন ইভিএমের মাধ্যমে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে ১৭ মে পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যলয়ে নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা নেওয়া হবে। ১৯ মে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে যাচাই-বাছাই হবে। ২৭ মে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। ভোটগ্রহণ শেষে ১৫ জুন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোটের আগে নির্বাচনী মালামাল বিতরণ করা হবে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে। এ নির্বাচনে ১০৫টি কেন্দ্রে ৬৪০টি ভোট কক্ষ থাকবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুইজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারসহ ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

বিএনপি থেকে অব্যাহতি নিয়ে নির্বাচন করব : মনিরুল হক

আপডেট সময় ০৫:২৩:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মে ২০২২

মনিরুল হক সাক্কু

বিএনপি থেকে অব্যাহতি নিয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতা মনিরুল হক সাককু। 

তিনি বলেন, আমি যতটুকু জেনেছি বিএনপি নির্বাচনে আসবে না। এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিনি। আমি চিন্তা করেছি দলের পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করব। জনগণের স্বার্থে আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বরে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির এক সভায় উপস্থিত না থাকায় কেন্দ্রীয় বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে  মনিরুল হক সাককুকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ২০১২ সালে কুসিক নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। সেই সময় সাককু দল থেকে পদত্যাগ করে নাগরিক কমিটির প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মেয়র পদে জয়ী হন। পরবর্তীতে তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে পুনরায় তাকে বিএনপিতে নেওয়া হয়। ২০১৭ সালের দ্বিতীয়বারের কুসিক নির্বাচনে মনিরুল হক সাককু বিএনপির দলীয় প্রতীক ধানের শীষ নিয়ে মেয়র পদে জয়ী হন। তবে এবার বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না বলে জানা গেছে।

এবারের কুসিক নির্বাচনে ইভিএমের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন মেয়রপ্রার্থী মনিরুল হক সাককু।

তিনি বলেন, ২০১৭ সালের নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। দুপুর ১২টার পর কোনো মানুষ ভোট দিতে পারেনি। আমার পক্ষে গণজোয়ার থাকায় বিপুল ভোটে পাস করেছিলাম। ইভিএমে যদি কারচুপি হয়, তাহলে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে। সামনে জাতীয় নির্বাচন আছে, সরকারকে এই বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।  আমি তো আর সিস্টেম পাল্টাতে পারব না। নির্বাচনে আরও প্রার্থী থাকবে, তারাও আশা করি সুষ্ঠু ভোট দাবি করবেন। জনগণ যে রায় দেবে তা মেনে নেব।

আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আ ক ম বাহারের অনুসারী কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত।

এই হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে আপনি কতটুকু প্রস্তুত- এমন প্রশ্নে মনিরুল হক সাক্কু বলেন, ২০১২ সালে আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা সদ্য প্রয়াত আফজল খাঁনকে হারিয়ে জয় লাভ করেছি।  এখানে ভয়ভীতি কিছু নাই। জনগণ আমাকে চেয়েছে, আমি নির্বাচিত হয়েছি। সুতরাং আওয়ামী লীগের যতই হেভিওয়েট প্রার্থী আসুক আমার সমস্যা হবে না। আমার অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার জন্য জনগণের ইচ্ছায় শেষ বারের মতো মেয়র নির্বাচন করব।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৫ জুন ইভিএমের মাধ্যমে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ লক্ষ্যে ১৭ মে পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যলয়ে নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা নেওয়া হবে। ১৯ মে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে যাচাই-বাছাই হবে। ২৭ মে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে। ভোটগ্রহণ শেষে ১৫ জুন নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। ভোটের আগে নির্বাচনী মালামাল বিতরণ করা হবে কুমিল্লা জিলা স্কুল থেকে। এ নির্বাচনে ১০৫টি কেন্দ্রে ৬৪০টি ভোট কক্ষ থাকবে।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দুইজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটারসহ ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।