লিটল এঞ্জেলস স্কুল শিশুদের শিক্ষার পথে দেয়াল নয়, খুলে দিন সম্ভাবনার দরজা
মেঃ শহিদুল ইসলাম ও মোঃ ইসমাইল হোসেনঃ
রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ থানার অন্তর্ভুক্ত ঢাকা-৭ আসনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে আজিমপুর ছাপড়া মসজিদের উত্তরে,শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি সুপরিচিত ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লিটল এঞ্জেলস স্কুল।
প্রতিষ্ঠানটির সুনাম শুধু ২৬ নম্বর ওয়ার্ডেই সীমাবদ্ধ নয় ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও এলাকায়।
শিশুদের শিক্ষাজীবনের প্রাথমিক ভিত্তি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির অবদান প্রশংসনীয়। আশপাশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনায় লিটল এঞ্জেলস স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল ও পরবর্তী শিক্ষাজীবনের সাফল্য উল্লেখযোগ্য।
আশপাশের একাধিক স্কুলের সম্মিলিত ফলাফলের তুলনায়ও এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করেছে।দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এখান থেকে পঞ্চম শ্রেণি শেষ করে শিক্ষার্থীরা দেশের বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে পরিচিতি, সুপারিশ কিংবা বিভিন্ন মহলের অনুরোধে যদি মেধার যথাযথ মূল্যায়ন ব্যাহত হয়, তাহলে তার নেতিবাচক প্রভাব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও সুনামের ওপর পড়তে পারে। একটি প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য ধরে রাখতে হলে ভর্তি-প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুনাম এক দিনে তৈরি হয় না। এর পেছনে থাকে বহু বছরের শ্রম, নিষ্ঠা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। লিটল এঞ্জেলস স্কুলও তেমনই একটি প্রতিষ্ঠান, যা বহু পরিবারের আস্থা, স্বপ্ন ও স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
প্রতিষ্ঠানটি তার অর্জিত গৌরব ও ঐতিহ্য ধরে রেখে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ ও আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে টিকে থাকুক।
স্কুলের শিশুদের যাতায়াতের পথ বন্ধ কেন?
গত ১৭ অক্টোবর ২০২৬ প্রধানমন্ত্রী ঢাকার আজিমপুর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কোয়ার্টার, অর্থাৎ আজিমপুর কলোনি, আকস্মিক পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে কলোনির অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও সাবলেট ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেন বলে জানা যায়।
কলোনির বাসিন্দারা পরিবেশগত দুরবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরেন। এরই ধারাবাহিকতায় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি আবাসন পরিদপ্তর গত ২৯ অক্টোবর একটি জরুরি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে।
বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি বাসা বা ফ্ল্যাট সাবলেট দেওয়া বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাবলেট ভাড়াটিয়াদের বাসা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়। অন্যথায় বরাদ্দ বাতিলসহ বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
সরকারি আবাসনের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে সাবলেট ব্যবস্থাপনা, অতিরিক্ত লোকজনের বসবাস এবং বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত নিয়ে কলোনির বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল।গণবিজ্ঞপ্তির পর সাবলেট ভাড়াটিয়ারা বাসা ছেড়ে যাওয়ায় পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা মনে করছেন।
তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বহিরাগতদের আনাগোনা ও অনাকাঙ্ক্ষিত আড্ডা কমে যাওয়ায় কলোনি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি শান্ত।
এই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগের আড়ালে এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং কোমলমতি শিশুদের স্বাভাবিক চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়া কতটা যুক্তিসংগত?
কেউ যদি মনে করেন, ছাপড়া মসজিদের পাশের পকেট গেট বন্ধ করে দেওয়ার ফলেই বহিরাগতদের আনাগোনা ও আড্ডাবাজি বন্ধ হয়েছে এবং কলোনির পরিবেশ সুন্দর হয়েছে, তাহলে তাঁর ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়।
সরকারি ফ্ল্যাটের সাবলেট ভাড়াটিয়াদের সরিয়ে দেওয়ার ফলে অতিরিক্ত লোকজনের বসবাস, বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত আড্ডা অনেকটাই কমেছে। অর্থাৎ পরিবেশের উন্নতির পেছনে প্রশাসনিক পদক্ষেপেরও ভূমিকা রয়েছে। তাই কলোনির পরিবেশগত সমস্যার সব দায় বহিরাগতদের ওপর চাপিয়ে নিজেদের সম্পূর্ণ দায়মুক্ত ভাবার সুযোগ নেই।
আজিমপুর সরকারি আবাসনের পাশেই অবস্থিত লিটল এঞ্জেলস স্কুলের শিশুদের দীর্ঘদিনের পরিচিত ও সহজ যাতায়াতের পথটি দেয়াল নির্মাণ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ফলে প্রতিদিন বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বাড়তি ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
যেসব শিশু এত দিন পরিচিত পথ দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে স্কুলে যেত, আজ তাদের সেই পথ বন্ধ। প্রতিদিন তাদের বাড়তি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। অভিভাবকদেরও সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দেওয়া এবং ছুটির পর ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।
একটি শিশুর কাছে স্কুলে যাওয়ার পথ তার প্রতিদিনের জীবনেরই অংশ। সেই পরিচিত পথ হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলে বড়দের কাছে হয়তো তা সামান্য একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, কিন্তু ছোট্ট শিশুটির কাছে সেটিই হয়ে ওঠে প্রতিদিনের ভোগান্তি।
সাবলেট ব্যবস্থাপনার কারণে যদি সরকারি আবাসনের পরিবেশ ও শৃঙ্খলা নষ্ট হয়ে থাকে, তাহলে তার দায় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং তাঁদের নিষ্পাপ সন্তানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে কেন?
এই পথটির সঙ্গে এলাকার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও স্মৃতি জড়িয়ে আছে। একসময় এই রাস্তা দিয়ে রিকশা চলাচল করত। কয়েক বছর আগেও আজিমপুর ছাপড়া মসজিদে জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ এই একই পথ দিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
অথচ আজ সেই পকেট গেটটিও দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়ায় শুধু স্কুলের শিশুদের যাতায়াতই বাধাগ্রস্ত হয়নি, সাধারণ মানুষের আজিমপুর কবরস্থানে যাতায়াতের পরিচিত পথটিও কার্যত রুদ্ধ হয়ে গেছে।
২৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকের সন্তানই এই স্কুলে পড়াশোনা করে। প্রতিদিন অভিভাবকেরা সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিয়ে ছুটির সময় আবার নিয়ে যান। সরকারি আবাসনের ভেতরে অযথা ঘোরাফেরা, আড্ডা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে তাঁদের যাতায়াতের প্রয়োজন নেই। সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়াই তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য।
যাঁদের বিরুদ্ধে সরকারি বাসা সাবলেট দেওয়ার মাধ্যমে আবাসনের শৃঙ্খলা নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের প্রভাব কেন এলাকার নিরীহ স্থায়ী বাসিন্দা ও তাঁদের সন্তানদের ওপর পড়বে?
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মনে রাখা প্রয়োজন,সরকারি আবাসনের বরাদ্দপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আশপাশের এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাদের অবস্থান এক নয়। সরকারি চাকরির সুবাদে যাঁরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আবাসনে বসবাস করেন, চাকরিজীবন শেষে তাঁরা অন্যত্র চলে যাবেন। কিন্তু যারা এই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা, শিকড়, বসবাস, স্মৃতি ও সামাজিক জীবন এই এলাকার সঙ্গেই জড়িয়ে আছে।
সরকারি আবাসনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করে। সেই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার নামে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্তানদের স্কুলে যাতায়াতের পথ বন্ধ করে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য সমাধান হতে পারে না।
প্রশাসনিক শৃঙ্খলা, নাকি শিশুদের ভোগান্তি?
প্রশাসনিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা অবশ্যই জরুরি। কিন্তু সেই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার নামে শিশুদের শিক্ষাজীবনে প্রতিদিন ভোগান্তি তৈরি করা কতটা যুক্তিসংগত?
যে শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, যাদের হাতে আমরা একটি সুন্দর সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বপ্ন তুলে দিতে চাই, তাদের প্রতিদিনের চলাচলের পথটুকু কি আমরা একটু সহজ করে দিতে পারি না?
যাঁরা দেয়াল নির্মাণ করে শিশুদের পরিচিত যাতায়াতের পথটি বন্ধ করেছেন, এই ছোট ছোট শিশুদের প্রতিদিনের কষ্ট ও ভোগান্তির কথা কি একবারও আপনাদের বিবেচনায় এসেছে? একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচলের বিষয়টি কি বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল না?
প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার সময় একটি শিশুকে কতটা অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে? অভিভাবকদের কতটা বাড়তি সময় ও শ্রম ব্যয় করতে হচ্ছে? ছোট্ট শিশুদের এই অসুবিধা কি একটু মানবিক বিবেচনায় দেখা যায় না?
আমরা কি এতটাই প্রশাসনিক নিয়মের কাছে অসহায় যে, শিশুদের স্বাভাবিক চলাচলের জন্য একটি নিরাপদ পথের ব্যবস্থাও করতে পারব না?
লেখাটির মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালো ও বিনীত আহ্বান জানাচ্ছি—বিষয়টি দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করুন। সরকারি আবাসনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা অক্ষুণ্ণ রেখে কীভাবে লিটল এঞ্জেলস স্কুলের শিক্ষার্থী এবং ছাপড়া মসজিদে জানাজা শেষে মৃত ব্যক্তির মরদেহ কবরস্থানে নেওয়ার জন্য আগের মতো সহজ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা যায়, সে বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিন।
স্কুল চলাকালীন সময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পকেট গেটটি খোলা রাখার ব্যবস্থা করুন। প্রয়োজনে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োজিত রেখে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রবেশ ও বের হওয়ার বিষয়টি নিয়ন্ত্রিতভাবে পরিচালনা করা যেতে পারে।
এতে সরকারি আবাসনের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখেও শিশুদের প্রতিদিনের যাতায়াতের ভোগান্তি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। শৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি এলাকার স্থায়ী বাসিন্দাদের যৌক্তিক অধিকার, সাধারণ মানুষের চলাচল এবং শিশুদের শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশও অক্ষুণ্ণ থাকুক।
কোনো বিশেষ সুবিধা নয়; এটি একটি মানবিক ও যৌক্তিক দাবি।নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রেখেই শিশুদের জন্য তাদের পরিচিত যাতায়াতের পথটি সহজ করে দেওয়া হোক।
একটি দেয়াল হয়তো কিছু মানুষের যাতায়াত বন্ধ করতে পারে, কিন্তু সেই দেয়ালের কারণে যেন নিষ্পাপ শিশুদের স্বপ্নের পথে বাধা তৈরি না হয়।
যে শিশুটি প্রতিদিন বইয়ের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে স্কুলে যায়, তার কাছে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা নেই। সে শুধু চায়, সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে, বন্ধুদের সঙ্গে পড়াশোনা করতে এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে। তার ছোট্ট পৃথিবীতে স্কুলে যাওয়ার পথটুকু যেন অকারণে কঠিন হয়ে না ওঠে।
আমরা চাই না, সরকারি আবাসনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হোক। আমরা চাই না, সেখানে আবার অনিয়ন্ত্রিত পরিবেশ ফিরে আসুক। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শিশুদের শিক্ষার স্বাভাবিক পথটুকু বন্ধ করে দেওয়াও কোনো মানবিক সমাধান হতে পারে না।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ, অভিভাবক এবং এলাকার সচেতন নাগরিকদের প্রতি আন্তরিক আহ্বান—বিষয়টি শুধু একটি স্কুলের যাতায়াতের সমস্যা হিসেবে দেখবেন না। এটি শিশুদের স্বাভাবিক চলাচল, অভিভাবকদের ভোগান্তি, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ এবং মানবিক দায়িত্ববোধের প্রশ্ন।
আজ যদি শিশুদের এই সামান্য অথচ গুরুত্বপূর্ণ অধিকারটুকু রক্ষায় সোচ্চার না হই, তাহলে আগামী দিনে তাদের প্রয়োজন ও সমস্যার কথা কে বলবে?
একটি শিশুর শিক্ষার পথ কখনো দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেওয়া উচিত নয়। নিরাপত্তার নামে প্রতিবন্ধকতা নয়, প্রয়োজন নিরাপত্তার সঙ্গে মানবিকতার সমন্বয়।
লিটল এঞ্জেলস স্কুলের ঐতিহ্য ও শিক্ষার মান রক্ষা করা যেমন জরুরি, তেমনি এর শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাও সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।
শিশুদের শিক্ষার পথে দেয়াল নয়, খুলে দিন সম্ভাবনার দরজা।
Reporter Name 
























