ঢাকা ১২:৩২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:৪১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মারুফ বেপারি (৪৫) নামে শরীয়তপুরের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিনগত রাত ১০টার দিকে দেশটির কেপটাউনের বুষ্টার এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান। মারুফ বেপারি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুস সোবহান বেপারি। তিনি তিন সন্তানের জনক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ১৪ বছরের বেশি সময় আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান মারুফ। সেখানে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কেপটাউনের বুষ্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরাপত্তার নামে তার কাছে প্রতি মাসে ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ড চাঁদা দাবি করত। সম্প্রতি চাঁদার টাকা নিয়ে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে তার বিরোধ হয়। এর জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা ও স্থানীয় প্রবাসীরা।

মারুফের ভাইয়ের ছেলে কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, আফ্রিকার ওই এলাকায় দোকান চালাতে হলে স্থানীয় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের প্রতি মাসে ৫০০ র‍্যান্ড দিতে হয়। আমার কাকা গত তিন মাসের মধ্যে এক মাস দোকান চালিয়েছেন, বাকি দুই মাস বন্ধ ছিল। তাই তিনি শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই গোষ্ঠীর লোকজন ৫০০ র‍্যান্ড নিয়ে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে কাকাকে গুলি করে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কাকাকে হারিয়ে শোকাহত। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।

সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন বলেন, মারুফ বেপারি তার প্রতিবেশী ছিলেন। এলাকায় এলে তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হতো। বুধবার দিনগত রাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

রুবেল আকন বলেন, মাঝেমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের দেশের লোকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রবাসীরা সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠান, যা দেশের আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বৈধভাবে ব্যবসা করার পরও সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবি করা অনৈতিক। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মারুফের মৃত্যুর খবরে তার স্বজনেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের জন্য উপার্জন করা মারুফের এমন মৃত্যুতে পশ্চিম সিড্যা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মারুফের মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি স্থানীয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা না দেওয়ায় ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা

আপডেট সময় ০৩:৪১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সিএনএমঃ

দক্ষিণ আফ্রিকায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় মারুফ বেপারি (৪৫) নামে শরীয়তপুরের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনেরা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দিনগত রাত ১০টার দিকে দেশটির কেপটাউনের বুষ্টার এলাকায় নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান। মারুফ বেপারি শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার সিড্যা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সিড্যা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুস সোবহান বেপারি। তিনি তিন সন্তানের জনক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে ১৪ বছরের বেশি সময় আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমান মারুফ। সেখানে ব্যবসা করে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। কেপটাউনের বুষ্টার এলাকায় ব্যবসা পরিচালনার জন্য স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী নিরাপত্তার নামে তার কাছে প্রতি মাসে ৫০০ দক্ষিণ আফ্রিকান র‍্যান্ড চাঁদা দাবি করত। সম্প্রতি চাঁদার টাকা নিয়ে ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে তার বিরোধ হয়। এর জেরেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা ও স্থানীয় প্রবাসীরা।

মারুফের ভাইয়ের ছেলে কামরুজ্জামান বেপারি বলেন, আফ্রিকার ওই এলাকায় দোকান চালাতে হলে স্থানীয় সন্ত্রাসী চাঁদাবাজদের প্রতি মাসে ৫০০ র‍্যান্ড দিতে হয়। আমার কাকা গত তিন মাসের মধ্যে এক মাস দোকান চালিয়েছেন, বাকি দুই মাস বন্ধ ছিল। তাই তিনি শুধু এক মাসের চাঁদা দিতে চেয়েছিলেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই গোষ্ঠীর লোকজন ৫০০ র‍্যান্ড নিয়ে চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে কাকাকে গুলি করে হত্যা করে।

তিনি আরও বলেন, আমরা কাকাকে হারিয়ে শোকাহত। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হোক।

সিড্যা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান রুবেল আকন বলেন, মারুফ বেপারি তার প্রতিবেশী ছিলেন। এলাকায় এলে তাঁদের মধ্যে কথাবার্তা হতো। বুধবার দিনগত রাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন।

রুবেল আকন বলেন, মাঝেমধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের দেশের লোকজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রবাসীরা সেখানে কঠোর পরিশ্রম করে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠান, যা দেশের আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। বৈধভাবে ব্যবসা করার পরও সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবি করা অনৈতিক। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, মারুফের মৃত্যুর খবরে তার স্বজনেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের জন্য উপার্জন করা মারুফের এমন মৃত্যুতে পশ্চিম সিড্যা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মারুফের মরদেহ বর্তমানে দক্ষিণ আফ্রিকার একটি স্থানীয় হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মরদেহ দেশে পাঠানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।