সিএনএমঃ
মালয়েশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক প্রবাসীকে অবৈধভাবে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠায় একটি চক্র। সেখানে তাকে জিম্মি ও নির্যাতন করে আদায় করা হয় মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ।
এ ঘটনায় দায়ের করা মানবপাচার মামলায় যশোর সিআইডির অভিযানে নরসিংদী থেকে মোস্তাকিম মিয়া ওপেল নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতার মোস্তাকিম মিয়া ওপেল নরসিংদীর মাধবদী থানার কান্দাইল এলাকার মোল্লাপাড়ার বাসিন্দা।
সিআইডি জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টা ৫ মিনিটে মাধবদী থানা পুলিশের সহায়তায় মাধবদী-কান্দাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। যশোর সিআইডি কার্যালয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. জসীম উদ্দীন দীর্ঘদিন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। সেখানে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় ভালো বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে ৮ লাখ টাকার একটি মৌখিক চুক্তি করা হয়। চুক্তির ভিত্তিতে জসীম উদ্দীন অভিযুক্তদের ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
পরবর্তীতে তাকে মালয়েশিয়া থেকে অবৈধ উপায়ে ইন্দোনেশিয়ায় পাঠানো হয়। ইন্দোনেশিয়ায় পৌছালে তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীকে মুক্ত করতে তার স্বজনরা আসামিদের দেওয়া দুটি ব্যাংক হিসাবে মোট ১৬ লাখ টাকা পাঠান।
গত বছরের ১১ নভেম্বর যশোরের কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। সিআইডি তদন্তে নেমে ব্যাংক হিসাব দুটির তথ্যের ভিত্তিতে আগে ইয়াসিন (২৫) ও হুমায়ুন (৩৮) নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তাদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে মো. আতিকুর হাসান নামের এক পলাতক আসামির নাম উঠে আসে।
সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে আসে, আতিকুর হাসান মালয়েশিয়া থেকে মানবপাচারের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ওই দুই ব্যাংক হিসাবে পাঠাতেন। দেশে তার ভাই মোস্তাকিম মিয়া ওপেল সেই অর্থ গ্রহণ করতেন। মোস্তাকিম মূলত বাংলাদেশে এই চক্রের আর্থিক লেনদেন পরিচালনাকারী স্থানীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলে সিআইডির অনুসন্ধানে তথ্য-প্রমাণ মিলেছে।
Reporter Name 
























