১৭ বছরেও উদঘাটন হয়নি হাসান হত্যার রহস্য
এই শিশুটির নাম হাসান। যাত্রাবাড়ী থানা এলাকার শহীদ ফারুক রোডস্থ অহম্মদিয়া রেষ্টুরেন্ট-এ গ্লাস বয়ের কাজ করত গত ২০০৯ ইং এ রেস্টুরেন্টে গ্লাস বয়ের কাজ করার সময় হঠাৎ শিশুটির হাত থেকে ফসকে পড়ে একটি পানির গ্লাস ভেঙ্গে যায়। ক্যাশে বসা মালিক ম্যানেজারগন গ্লাস ভাঙ্গার দৃশ্য দেখতে পেয়ে শিশু হাসানকে ম্যানেজার দুটি চর মারে, মার খেয়ে হাসান রেস্টুরেন্ট-এ চাকুরী করবে না বলে তৎক্ষনাত মালিককে জানায়। এরপর হাসানকে মালিক ও ম্যানেজারগন শ্রমিকের ষ্টামরুমে গিয়ে হাসানকে বেধরক মারধর ও নানাবিধ নির্যাতন করে, নির্যাতনের ফলে পরেরদিন ভোরবেলা হাসান মৃত্যুবরন করে। হাসানের মৃত্যু সহজে মেনে নিতে পারেনি বেকারী এন্ড রেস্টুরেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন।

শুরু হয় রাজধানীতে দফায় দফায় মিছিল, শ্রমিক ইউনিয়নের আন্দোলন, শিশু শ্রমিক হাসান হত্যার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে ঢাকা শহরের রেস্টুরেন্ট শ্রমিকরা। এরই মধ্যে শ্রমিক ইউনিয়ন তৎকালিন মহাসমাবেশের ডাক দেন। তারা গুলিস্থানের মুক্তাঙ্গনে হাসান হত্যার বিচার চেয়ে প্রতিবাদমুখি শ্রমিকরা মহাসমাবেশ ও আন্দোলনের ডাক দেন। এরই মধ্যে দেশের গণমাধ্যামেও ব্যাপক সাড়া তুলে সংবাদ প্রচার হয়। ঐ সময় হিউম্যান রির্সোস এন্ড হেল্থ ফাউন্ডেশন সংগঠনের মহাসচিব মোঃ আলমগীর হাসান হত্যার ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার নিমিত্তে তিনি বাদী হয়ে আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। শ্রমিক ইউনিয়নের একাধিক সদস্যরা ঐ মামলায় স্বাক্ষী থাকেন।
হাসান হত্যা মামলার পর শ্রমিক ইউনিয়ন শান্ত হয় এবং মহাসমাবেশ বন্ধ করেন এছাড়া তখন শ্রমিকরা হাসান হত্যার ক্ষোভে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টও ভাংচুর করতেন। মামলা হওয়ায় ঐ সকল অরাজকতাও শ্রমিকরা বন্ধ করে দেন। হাসান হত্যা মামলা একের পর এক সিআইডি, পিবিআইসহ একাধিক পুলিশের দফতর বার বার তদন্ত করেছেন। তৎকালিন পুলিশের অদক্ষতায় প্রায় ১৭ বছর যাবত মামলার তদন্ত ঝুলেই আছে। একাধিকবার তদন্ত হলেও আজও পর্যন্ত হাসানের পরিচয়,কে তার বাবা মাম,কি তার পরিচয়, কোথায় ঠিকানা কোন পুলিশ কর্মকর্তারা খুজে বের করতে পারেননি।
হাসানের পরিচয় আজও সবার কাছে অজনাই থেকে গেছে। তবে শ্রমিক ইউনিয়নের কেউ কেউ বলেছে খুলনা পাকশী ব্রীজের আশে পাশে হতে পারে। সুনিদিষ্ট করে কেউ তার পরিচয় বলতে পারেনি। এদিকে মানবাধিকার সংগঠন এর পক্ষ হতে বহু বার হাসানের ছবি সংযুক্ত করে সংবাদ প্রচার, লিফলেট, পোস্টার ছাপিয়েও হাসানের পরিবারের খোজ আজও মিলেনি। বর্তমান মামলার তদন্ত ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ ইউনিট কাউন্টার টেরোরিজম (সিটিটিসি) আদালতের নির্দেশে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। তবে মানবাধিকার সংগঠনের মহাসচিব মোঃ আলমগীর সন্তুষ্ঠ প্রকাশ করে বলেন এবার দেশে সুশৃঙ্খল ও আইনশৃঙ্খলা উন্ন্রয়নে দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বদা সজাগ রয়েছেন এবং সিটিটিসি দায়িত্বশীল চৌকশ কর্মকর্তাগনরা হাসান হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন এবার যদি হাসানের পরিচয় পাওয়া যায়।
হাসান হত্যা মামলার বাদী মোঃ আলমগীর বলেন-আমরা হাল ছাড়েনি আমরা জানতে চাই কে হাসানের পরিবার, কি তার পরিচয়, অন্ততপক্ষে হাসানের পরিবার জানুক তাদের পরিবারের একজন সদস্য দুনিয়া থেকে না ফেরার দেশে চলে গেছেন। অত্র সংস্থার আইনি লড়াই অব্যাহত আছে।
মামলার বাদী মোঃ আলমগীর দুঃখ প্রকাশ করেন ২০২১ইং সালে সেপ্টেম্বর মাসে র্যাব-১০ এর সিপিসি-১ এর তৎকালিন দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাম্প কমান্ডার সাইফুর রহমান হিউম্যান রির্সোর এন্ড হেল্থ ফাউন্ডেশনের ৮০/৩ উত্তর যাত্রাবাড়ী,ঢাকা সংগঠনের কার্যক্রম বন্ধ করতে অবৈধভাবে ক্ষমতার অপপ্রভাব খাটিয়ে সৈরশাসক বৈষম্য বিরুধী আওয়ামীলীগ পন্থী র্যাব সদস্যরা সাইফুর রহমান এর নির্দেশে আকর্ষীক অভিযান চালিয়ে হাসান হত্যার সকল ডকুমেন্টসহ হিউম্যান রির্সোস এন্ড হেল্থ ফাউন্ডেশনের বহু ডুকুমেন্ট ও নগদ অর্থসহ অফিসের মালামাল র্যাব সদস্যারা লুটপাট করে নিয়ে যায়। এরই মধ্যে সংস্থার মহাসচিব হাসান হত্যার মামলার বাদী মোঃ আলমগীরকেও গ্রেফতার করে র্যাবের একটি কালো গ্লাসযুক্ত মাইক্রোতে তোলে র্যারেব আয়না ঘরে নিয়ে যায়।
আয়না ঘরে নিয়ে তাকে র্যাব সদস্যরা ব্যাপক নির্যাতন করে বলে একে তো করিস মানবাধিকারগীরি আবার জিয়াউর রহমান আর খালেদা জিয়ার ছবি কেন তোর অফিসে, তোকে আয়না ঘরে আনার কারণ হচ্ছে তুই জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি করিস। আর তোর অফিস কক্ষের মাথার উপরে শহীদ জিয়াউর রহমান ও আপষহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার ছবি। এবার ছবির রাখার মজা বুঝবি। তবে অফিসকক্ষে র্যাবের অভিযান চালানোর সময় ছবি দুটি র্যাব সদস্যা ভেঙ্গে ফেলে।
সেখানে নিয়ে মহাসচিবকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও ক্রস ফায়ার এর মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেয় ঐ সময় গ্রেফতার হওয়া আলমগীর আয়নাঘরের বিষয় তার কোন ধারনাই ছিল না র্যাবের আয়না ঘর কি জিনিস। একপর্যায়ে একদিন পর পরিবারের সদস্যরা মোঃ আলমগীরকে র্যাব সদস্যরা গ্রেফতার করে তাদের হেফাজতে নিয়ে রেখেছে জানতে পেরে হিউম্যান রির্সোস এন্ড হেল্থ ফাউন্ডেশন এর শুভাক্ষী সাংবাদিক সমাজের অনেকেই র্যাবের বিভিন্ন জায়গায় নক করার পর র্যাব-১০ এর সিপিসি-১ যাত্রাবাড়ী শাখার তৎকালিন ধলপুর ক্যাম্পে এনে একদিন পর ক্যাম্প কমান্ডার সাইফুর রহমান এর নাটকীয় একাধিক সাজানো মামলায় মোঃ আলমগীরকে গ্রেফতার দেখিয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় সোর্পদ করে।
ঐ সময় মামলার এক বাদী ইউসুফ রিপন একটি অডিও স্বাক্ষাতকারে বলেন-হিউম্যান রির্সোস এন্ড হেল্থ ফাউন্ডেশ এর মহাসচিব মোঃ আলমগীরের বিরুদ্ধে তিনি যে মামলা করেছেন তাহা র্যাব-১০ এর সদস্যরা তাকে ধলপুর ক্যাম্পে নিয়ে চাপ প্রয়োগ করে এই সাজানো নাটকীয় মিথ্যা মামলাটি তাকে বাদী বানিয়ে র্যাব-১০ এর সিপিসি-১ এর ক্যাম্প কমান্ডার সাইফুর রহমান করিয়েছেন।
এই ফেসবুকের লিংকে গেলেই জানা যাবে নারী ও মাদক ব্যবসায়ী ইউসুফ রিপনকে দিয়ে যেভাবে ফিটিং মামলা দিয়েছিল র্যাব-১০ এর সদস্যরা ।
সিএনএম প্রতিবেদনঃ 























