প্রবাসী বাংলাদেশী রাজনৈতিক দলগুলোতে গণতান্ত্রিক চর্চা চালুর আন্তর্জাতিক কমিটি করার আহ্বান।
(যুক্তরাজ্যের স্থানীয় যুবদলের একটি কমিটিকে নিয়ে উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া এবং কর্মীদের মনোনীত কমিটির মধ্যে মতানৈক্যের কারণে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে)
ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে অবস্থান করে গণতন্ত্রের সকল সুফল ভোগ করবেন কিন্তু নিজের দেশ অথবা দলের মধ্যে গণতন্ত্রের চর্চা করবেন না তা হয় না. ইহা কেই বলা হয় দ্বিচারিতা বা দুমুখী সাপ.
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশিরা যদি নিজেদের রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন আর প্রবাসী প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের চর্চা করেন, তাহলে এর ভালো প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে।
গণতন্ত্র মানে শুধু ভোট দেওয়া নয়; এটা একটা রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংস্কৃতি। সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া, নিয়মিত ও স্বচ্ছ নির্বাচন করা, গোপন ব্যালট রাখা, নেতৃত্বের মেয়াদ ঠিক করা, আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা, ভিন্নমতকে সম্মান করা এবং যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করা—এসবই গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রবাসে থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করা, কিন্তু নিজেদের সংগঠনে কর্তৃত্ববাদী পদ্ধতি চালু রাখা—এটা বড় ধরনের বৈপরীত্য। উপর থেকে কমিটি চাপিয়ে দেওয়া, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা টাকার ভিত্তিতে পদ দেওয়া, নেতৃত্বকে প্রশ্ন করার সুযোগ না রাখা এবং সাধারণ সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করা—এসব গণতান্ত্রিক চর্চার একেবারেই বিপরীত।
আমার রাজনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো “Upward Democracy”—মানে নিচ থেকে ওপরের দিকে গণতন্ত্র। একটি রাজনৈতিক দলের আসল শক্তি সাধারণ সদস্যদের মধ্যেই থাকা উচিত। সদস্যরা স্থানীয় নেতৃত্ব বেছে নেবেন, স্থানীয় নেতৃত্ব আঞ্চলিক নেতৃত্ব তৈরি করবে, আর যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতীয় নেতৃত্ব গড়ে উঠবে। নেতা সদস্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং সদস্যদের মধ্য থেকেই নেতা উঠে আসা উচিত।
প্রবাসীরা বাংলাদেশের জন্য শুধু অর্থনৈতিক রেমিট্যান্সই নয়, জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা, জবাবদিহি আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধও পাঠাতে পারেন। তবে বিদেশে থাকলেই কেউ নিজে থেকেই গণতন্ত্রের ধারক হয়ে যান না। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিজেদের সংগঠন ও রাজনৈতিক কাজের মধ্যেও বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে।
তাই প্রবাসী রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান:
নিয়মিত নির্বাচন করুন, গোপন ব্যালট চালু করুন, নেতৃত্বের মেয়াদ ঠিক করুন, আর্থিক হিসাব প্রকাশ করুন, পদবাণিজ্য ও টাকার প্রভাব বন্ধ করুন, তরুণ ও নারীদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ দিন এবং ভিন্নমতকে শত্রুতা হিসেবে দেখবেন না। সবচেয়ে জরুরি হলো—উপর থেকে নেতা চাপিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি বাদ দিয়ে নিচ থেকে নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের পরিবর্তন কোনো এক নেতা, দল বা নির্বাচনের মাধ্যমে পুরোপুরি হবে না। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, যা পরিবার, সংগঠন, রাজনৈতিক দলের শাখা আর স্থানীয় নেতৃত্ব থেকেই শুরু করতে হবে।
ইউরোপ-আমেরিকা ও অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে থাকা বাংলাদেশিরা যদি নিজেদের সংগঠনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, আইনের শাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নিচ থেকে নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার সংস্কৃতি চালু করতে পারেন, তাহলে সেই গণতান্ত্রিক চর্চা একদিন বাংলাদেশেও প্রভাব ফেলবে।
আমরা বিদেশ থেকে অর্থনৈতিক রেমিট্যান্স পাঠিয়েছি। এখন আমাদের পাঠাতে হবে গণতন্ত্রের শিক্ষা, জবাবদিহির সংস্কৃতি আর ন্যায়বিচারের চর্চা।
আমার বিশ্বাস:
“প্রবাসী বাংলাদেশিরা দলীয় ও সাংগঠনিকভাবে গণতন্ত্রের চর্চা শুরু করলে বাংলাদেশেও গণতন্ত্রের হাওয়া বইতে শুরু করবে।”
এই গণতন্ত্র ওপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া নয়; বরং জনগণ ও সংগঠনের শেকড় থেকে উঠে আসাই আমার ‘Upward Democracy’ Philosophy ।
— Philosopher Deshbandhu Advocate A. N. M. Essa
অ্যাডভোকেট এ. এন. এম. ঈসা 
























