সিএনএমঃ
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে ‘মবের নাটক’ সাজিয়ে ব্যবসায়ী সোহেলের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে এর সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁর স্ত্রী তারিন আক্তার।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।
তারিন আক্তার অভিযোগ করেন, স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী রতন বাহিনীর সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালিয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে তারিন আক্তার বলেন, তিনি পেশায় একজন সাংবাদিক এবং বর্তমানে তাঁর পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। শুধু তাঁর পরিবার নয়, খিলগাঁও, রামপুরা, মতিঝিল, সবুজবাগ ও বিরুলিয়া এলাকার বহু সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলবাজির অভিযোগে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৪ ও ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র চাঁদাবাজি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণসাইট দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কিশোর গ্যাং পরিচালনা এবং অস্ত্রের মহড়া দিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রেখেছে। ওই চক্র তাঁর স্বামী সোহেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেও মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় প্রথমে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের চেষ্টা এবং পরে তাঁর ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তারিন আক্তার বলেন, গত ২৬ জুলাই সকাল প্রায় ১১টার দিকে পশ্চিম নন্দীপাড়ার বাসার সামনে অবস্থান করছিলেন সোহেল। এ সময় পূর্ববিরোধের জেরে স্থানীয় শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন রতন, খোকন, মাসুম, কাউসার, হাবিব, রাফিসহ আরও কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালায়। লোহার রড, পাইপ, লাঠি ও ইট দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধরের একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা তাঁকে আরও মারধর করে।
তিনি আরো বলেন, তিনি ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত সোহেলকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে, পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে সুপারম্যাক্স হেলথকেয়ার লিমিটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে হামলার পুরো ঘটনা ধারণ হয়েছে। ওই ফুটেজ সংরক্ষণ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং প্রয়োজন হলে প্রকাশ করা হলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে। এ ঘটনায় তিনি খিলগাঁও থানায় একটি মামলাও দায়ের করেছেন বলে জানান।
তারিন আক্তারের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ ওই চক্রের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, কিশোর গ্যাং পরিচালনা, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই সাধারণ মানুষকে হামলা, ভয়ভীতি ও মিথ্যা মামলার শিকার হতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, তাঁর জানা মতে, অভিযুক্ত সাজ্জাদ হোসেন রতনের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় আগেও একাধিক মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর দায়ের হওয়া মামলা নম্বর-৫০ এবং একই বছরের ১৮ অক্টোবর দায়ের হওয়া মামলা নম্বর-৬৩ উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি হামলার ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও ফরেনসিক পরীক্ষা, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার, এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ থাকলে তার তদন্ত এবং খিলগাঁও, রামপুরা, মতিঝিল, সবুজবাগসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
তিনি বলেন, ‘আমি কোনো ব্যক্তিগত প্রতিশোধ চাই না। আমি চাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক, প্রকৃত অপরাধীরা বিচারের মুখোমুখি হোক এবং নিরপরাধ মানুষ যেন আর হামলা, ভয়ভীতি বা হয়রানির শিকার না হন।’
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), সিআইডিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপও দাবি জানান।
Reporter Name 

























