ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত আদায় করাই যথেষ্ট নয়

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:৫৯:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত আদায় করাই যথেষ্ট নয়; আল্লাহর অন্যান্য ফরজ নির্দেশও মানতে হবে।

সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব
আজ সমাজে অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা, চাঁদাবাজি, দখলদারি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট ও মানুষের জান-মালের ক্ষতি হচ্ছে। এর একটি বড় কারণ হলো—সৎ মানুষদের মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠায় দুর্বলতা।
যদি আমরা আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী সত্য ও ন্যায়ের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকতাম, তাহলে অনেক অন্যায়-অবিচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো, ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ বলেন—
﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ﴾
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সৎকাজ ও আত্মীয়কে তার প্রাপ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও জুলুম-অত্যাচার থেকে নিষেধ করেন।”
— সূরা আন-নাহল, ১৬:৯০
এখানে লক্ষ্য করুন, আল্লাহ “إِنَّ” (ইন্না) শব্দ ব্যবহার করেছেন। আরবিতে “ইন্না” দ্বারা কোনো বিষয়কে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ও গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করা হয়। অর্থাৎ আল্লাহ অত্যন্ত জোর দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষাঃ
শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত আদায় করাই যথেষ্ট নয়; আল্লাহর অন্যান্য ফরজ নির্দেশও মানতে হবে।
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জুলুম প্রতিরোধ এবং মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সত্যের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং সাধ্যমতো অন্যায় প্রতিরোধ করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।
আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা ইবাদতেরই একটি অংশ।
আল্লাহর বিধানই মানুষের জন্য সীমারেখা।
সূরা আন-নিসা ৪:১৩–১৪
﴿تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ﴾
“এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।”
— সূরা আন-নিসা, ৪:১৩
শিক্ষাঃ
আল্লাহর বিধানই মানুষের জন্য সীমারেখা।
আল্লাহ ও রাসূল ﷺ-এর আনুগত্য জান্নাত লাভের পথ।
প্রকৃত সফলতা দুনিয়ার ক্ষমতা বা সম্পদ নয়; জান্নাত লাভই “আল-ফাওযুল আযীম” (মহাসাফল্য)।
মুসলিমের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সব আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
﴿وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ﴾
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে অবস্থান করবে। আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।”
— সূরা আন-নিসা, ৪:১৪
শিক্ষাঃ
আল্লাহর সীমারেখা (হুদূদুল্লাহ) অতিক্রম করা অত্যন্ত ভয়ংকর অপরাধ।
ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর বিধান অমান্য করা মানুষকে কঠিন শাস্তির দিকে নিয়ে যায়।
ন্যায়বিচার নষ্ট করা, মানুষের অধিকার হরণ করা, জুলুম করা, হারামকে হালাল মনে করা—এসব থেকে মুসলিমকে বেঁচে থাকতে হবে।
আল্লাহর বিধান মানাই সম্মানের পথ; আর তা অমান্য করলে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির সতর্কবাণী রয়েছে।
আলোচনায় সংযুক্ত করার মতো বক্তব্য
আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা কেউ অতিক্রম করতে পারে না।
আমরা নিজের সন্তান, আত্মীয়, বন্ধু বা দলের লোকের অপরাধও ন্যায়বিচারের নামে আড়াল করতে পারি না। আল্লাহ বলেন, “এসব আল্লাহর সীমারেখা।” (৪:১৩–১৪)
যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর আনুগত্য করবে, তার জন্য জান্নাত। আর যে আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করবে, তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
তাই একজন মুমিনের কর্তব্য হলো—ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা এবং কোনো জুলুম বা অন্যায়ের পক্ষ না নেওয়া।

 

সংগৃহীত

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত আদায় করাই যথেষ্ট নয়

আপডেট সময় ১১:৫৯:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত আদায় করাই যথেষ্ট নয়; আল্লাহর অন্যান্য ফরজ নির্দেশও মানতে হবে।

সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব
আজ সমাজে অন্যায়ভাবে মানুষ হত্যা, চাঁদাবাজি, দখলদারি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি, লুটপাট ও মানুষের জান-মালের ক্ষতি হচ্ছে। এর একটি বড় কারণ হলো—সৎ মানুষদের মধ্যে ঐক্যের অভাব এবং ন্যায় প্রতিষ্ঠায় দুর্বলতা।
যদি আমরা আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী সত্য ও ন্যায়ের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকতাম, তাহলে অনেক অন্যায়-অবিচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো, ইনশাআল্লাহ।
মহান আল্লাহ বলেন—
﴿إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُ بِالْعَدْلِ وَالإِحْسَانِ وَإِيتَاءِ ذِي الْقُرْبَىٰ وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ﴾
অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায়বিচার, সৎকাজ ও আত্মীয়কে তার প্রাপ্য দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং অশ্লীলতা, অসৎকাজ ও জুলুম-অত্যাচার থেকে নিষেধ করেন।”
— সূরা আন-নাহল, ১৬:৯০
এখানে লক্ষ্য করুন, আল্লাহ “إِنَّ” (ইন্না) শব্দ ব্যবহার করেছেন। আরবিতে “ইন্না” দ্বারা কোনো বিষয়কে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে ও গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করা হয়। অর্থাৎ আল্লাহ অত্যন্ত জোর দিয়ে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছেন।
শিক্ষাঃ
শুধু নামাজ, রোজা, হজ ও যাকাত আদায় করাই যথেষ্ট নয়; আল্লাহর অন্যান্য ফরজ নির্দেশও মানতে হবে।
সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জুলুম প্রতিরোধ এবং মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
সত্যের উপর ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং সাধ্যমতো অন্যায় প্রতিরোধ করা প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য।
আল্লাহর আদেশ অনুযায়ী ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা ইবাদতেরই একটি অংশ।
আল্লাহর বিধানই মানুষের জন্য সীমারেখা।
সূরা আন-নিসা ৪:১৩–১৪
﴿تِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ ۚ وَمَن يُطِعِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ يُدْخِلْهُ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ﴾
“এসব আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ তাকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা সেখানে চিরকাল থাকবে। এটাই মহাসাফল্য।”
— সূরা আন-নিসা, ৪:১৩
শিক্ষাঃ
আল্লাহর বিধানই মানুষের জন্য সীমারেখা।
আল্লাহ ও রাসূল ﷺ-এর আনুগত্য জান্নাত লাভের পথ।
প্রকৃত সফলতা দুনিয়ার ক্ষমতা বা সম্পদ নয়; জান্নাত লাভই “আল-ফাওযুল আযীম” (মহাসাফল্য)।
মুসলিমের জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সব আদেশ-নিষেধ মেনে চলা।
﴿وَمَن يَعْصِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَتَعَدَّ حُدُودَهُ يُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِيهَا وَلَهُ عَذَابٌ مُّهِينٌ﴾
“আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য হবে এবং তাঁর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করবে, আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে অবস্থান করবে। আর তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।”
— সূরা আন-নিসা, ৪:১৪
শিক্ষাঃ
আল্লাহর সীমারেখা (হুদূদুল্লাহ) অতিক্রম করা অত্যন্ত ভয়ংকর অপরাধ।
ইচ্ছাকৃতভাবে আল্লাহর বিধান অমান্য করা মানুষকে কঠিন শাস্তির দিকে নিয়ে যায়।
ন্যায়বিচার নষ্ট করা, মানুষের অধিকার হরণ করা, জুলুম করা, হারামকে হালাল মনে করা—এসব থেকে মুসলিমকে বেঁচে থাকতে হবে।
আল্লাহর বিধান মানাই সম্মানের পথ; আর তা অমান্য করলে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির সতর্কবাণী রয়েছে।
আলোচনায় সংযুক্ত করার মতো বক্তব্য
আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা কেউ অতিক্রম করতে পারে না।
আমরা নিজের সন্তান, আত্মীয়, বন্ধু বা দলের লোকের অপরাধও ন্যায়বিচারের নামে আড়াল করতে পারি না। আল্লাহ বলেন, “এসব আল্লাহর সীমারেখা।” (৪:১৩–১৪)
যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর আনুগত্য করবে, তার জন্য জান্নাত। আর যে আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন করবে, তার জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।
তাই একজন মুমিনের কর্তব্য হলো—ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা এবং কোনো জুলুম বা অন্যায়ের পক্ষ না নেওয়া।

 

সংগৃহীত