ঢাকা ০৬:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খানজাহান আলী মাজারের দিঘি থেকে সরানো হলো কুমির

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৮:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
  • ৪৭ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (র.) মাজার সংলগ্ন দীঘি থেকে শেষ জীবিত মাদ্রাজি কুমিরটিকে সরিয়ে নিয়েছে বন বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে শত শত বছরের পুরোনো এই দীঘির ‘কুমির অধ্যায়’-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দীঘির পূর্ব পাড় থেকে কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ দল। সেটিকে খুলনার কয়রা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় কুমিরটিকে দ্রুত অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক বলেন, মাজারে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিরটিকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
মাজারের ইতিহাস অনুযায়ী, শত শত বছর ধরে খানজাহান দীঘিতে ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে পরিচিত আদি কুমিরদের বংশধরেরা বসবাস করত। তবে প্রজনন সক্ষমতা হারানোসহ বিভিন্ন কারণে একসময় সেই বংশ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
ঐতিহ্য রক্ষার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে ভারত সরকার উপহার হিসেবে ছয়টি মিঠা পানির মাদ্রাজি কুমির বাংলাদেশকে দেয়। সেগুলো খানজাহান দীঘিতে অবমুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে কুমিরগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে কয়েকটি মারা যায় এবং আহত দুটি কুমিরকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
একটি পুরুষ মাদ্রাজি কুমিরই দীঘিতে বসবাস করে আসছিল।
বুধবার বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল জাল ও বিশেষ ফাঁদের সাহায্যে কুমিরটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে খাঁচাবন্দি করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
মাজারের প্রধান খাদেম তারিকুল ইসলাম বলেন, খানজাহান দীঘির কুমির ঐতিহ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিরটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল এবং মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছিল।
খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, জেলা প্রশাসন ও মাজার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেটিকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে কুমিরটিকে কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কুমিরটি অপসারণের ফলে বর্তমানে ঐতিহাসিক খানজাহান দীঘি সম্পূর্ণ কুমিরশূন্য হয়ে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে মাজারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি জীবন্ত ঐতিহ্যেরও অবসান ঘটল।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

খানজাহান আলী মাজারের দিঘি থেকে সরানো হলো কুমির

আপডেট সময় ০৮:৫৭:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

সিএনএমঃ
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খানজাহান আলী (র.) মাজার সংলগ্ন দীঘি থেকে শেষ জীবিত মাদ্রাজি কুমিরটিকে সরিয়ে নিয়েছে বন বিভাগ। এর মধ্য দিয়ে শত শত বছরের পুরোনো এই দীঘির ‘কুমির অধ্যায়’-এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটল।
বুধবার (৩ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দীঘির পূর্ব পাড় থেকে কুমিরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের একটি বিশেষ দল। সেটিকে খুলনার কয়রা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়।
মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় কুমিরটিকে দ্রুত অপসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভা শেষে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক বলেন, মাজারে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুমিরটিকে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর কথাও জানান তিনি।
মাজারের ইতিহাস অনুযায়ী, শত শত বছর ধরে খানজাহান দীঘিতে ‘কালাপাহাড়’ ও ‘ধলাপাহাড়’ নামে পরিচিত আদি কুমিরদের বংশধরেরা বসবাস করত। তবে প্রজনন সক্ষমতা হারানোসহ বিভিন্ন কারণে একসময় সেই বংশ সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।
ঐতিহ্য রক্ষার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে ভারত সরকার উপহার হিসেবে ছয়টি মিঠা পানির মাদ্রাজি কুমির বাংলাদেশকে দেয়। সেগুলো খানজাহান দীঘিতে অবমুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে কুমিরগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষে কয়েকটি মারা যায় এবং আহত দুটি কুমিরকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।
একটি পুরুষ মাদ্রাজি কুমিরই দীঘিতে বসবাস করে আসছিল।
বুধবার বন বিভাগের বিশেষজ্ঞ দল জাল ও বিশেষ ফাঁদের সাহায্যে কুমিরটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে খাঁচাবন্দি করে খুলনার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
মাজারের প্রধান খাদেম তারিকুল ইসলাম বলেন, খানজাহান দীঘির কুমির ঐতিহ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিরটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছিল এবং মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটছিল।
খুলনা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা নির্মল কুমার পাল বলেন, জেলা প্রশাসন ও মাজার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কুমিরটিকে বন বিভাগের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আপাতত সেটিকে উদ্ধার ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে কুমিরটিকে কোথায় রাখা হবে, সে বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কুমিরটি অপসারণের ফলে বর্তমানে ঐতিহাসিক খানজাহান দীঘি সম্পূর্ণ কুমিরশূন্য হয়ে গেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে নেওয়া এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের অনেকেই মনে করছেন, এর মাধ্যমে মাজারের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা একটি জীবন্ত ঐতিহ্যেরও অবসান ঘটল।