অন্ধ জীবনের নরক যন্ত্রনা হতে মুক্তি পেতে চায় ওরা!
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ডিএমপির মুগদা থানা এলাকায় গ্রিন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেলের অর্ন্তরালে নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট খুলে বসেছে নারী বেচা কেনার হাট। ঐ হাটে নারী পাচারকারী দালাল চক্রের ফাঁদে পরে বহু শিশু কিশোরী বন্দি হয়ে নরক যন্ত্রনায় ভুগছে। ঐ হোটেলে চলা অসামাজিক কার্যকলাপ হতে রেহায় পেতে চায় তারা।
সরকারী আইন না মানিয়া আবাসিক হোটেল সাইনবোর্ডের অর্ন্তরালে পতিতালয় ও সেখানে নারী পাচারকারী সিন্ডিকেট বিভিন্ন মেয়েদের নানা কৌশলে আনিয়া তাহাদের উক্ত হোটেলে আটক করে তাদের গণ ধর্ষণ পূর্বক দেহ ব্যবসা করতে বাধ্য করে ঐ সকল জিম্মি থাকা শিশু কিশোরীদের উদ্ধার করে অবৈধ পতিতালয় বন্ধ করা সহ হোল্ডিং মালিক ও ভাড়াটিয়া মালিক নারী পাচারকারী দালাল চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য “হিউম্যান রিসোর্স এন্ড হেল্থ ফাউন্ডেশন” নামক মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ হতে আইজিপি সহ পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করেছেন।
আবেদনে উল্লেখিত বিষয় :
মুগদা থানার আইন শৃঙ্খলার অবনতি, অপরাধ অনুসন্ধান
গ্রিন সিলেট ইন্টারন্যাশনাল আবাসিক হোটেলে আইন বর্হিভুত নারী ঘটিত হোটেল ব্যবসায়ী এবং পাঁচারকারীঃ
মোঃ সুমন, মোঃ রাসেল,মোঃ ইউসুফ ওরফে রিপন,মোঃ ইমরান, মোঃ মিজান, মোঃ সিরাজ, মোঃ আনিছ, মোঃ দুলাল, , মোঃ মারুফ, মোঃ ডিপজল, মোঃ সাগর, মোঃ আকাশ, মোঃ রফিক, অজ্ঞাতনামা আরো অর্ধ শতাধিক পাচারকারী দালাল হোল্ডিং মালিক, ভাড়াটিয়া মালিক ও নারী সংগ্রহকারী হোটেল কর্মচারী এ সকল দালালরা তাদের সহকর্মী দালালদের দিয়ে খদ্দের সংগ্রহের জন্য পথে ঘাটে পাড়া মহল্লার অলি গলি আনাচে কানাচে।
ভিজিটিং কার্ড বিলি করে খদ্দের সংগ্রহ করে যারা তারাই নারী সংগ্রহকারী এরা হলোঃ
কাইয়ুম ভাই, মোবাইলঃ ০১৩১৪১৮৭১৫১ ,রনি ভাই, মোবাইলঃ ০১৭৫৮৭১৯০৫০, আসিফ ভাই, ০১৭২৪-২৯২৩৪৪ মনির ভাই, মোবাইল-০১৭৮৯৯৯৩৯৮৫, শান্ত ভাই, মোবাইল নং- ০১৭৪০২৮৫০২৩, সাগর ভাই, মোবাইলঃ ০১৯৪২৮১৩৯৭২, মোঃ শাহজাহান, মোবাইল নং-০১৮২১৭৭৪৭৭৪ , হাসেম, মোবাইল নং-০১৮২১-৬৬৫৬৬৫
তবে একাধিক শিশু কিশোরী যুবতী নারীরা পাঁচারকারীদের খপ্পরে পরে যে সকল ভুক্তভোগী নারী দালালদের জিম্মি দশায় আটক রয়েছে এরা হলো :-
ক) আসমা খ) আমেনা গ) রিয়ামনি ঘ) সোনিয়া ঙ) নিপা চ) সালমা ছ) তাছলিমা যে সকল আটক নারীদের সাথে কথা বলে তাদের নাম ঠিকানা জানা যায় নি এ রকম শিশু-কিশোরী মেয়ে হোটেল গুলোতে আটক রয়েছে প্রায় ৭-৮ জন। যাদের বয়স ১৪-১৬ এর মধ্যে। তাদের সাথে দালালদের সহকর্মী নারী সর্দারনীরা সব সময় পাহারায় থাকে তারা নিজেরাও দেহ ব্যবসা করে হোটেলে থাকা দালালদের আদেশ নির্দেশে চলে। জিম্মি থাকা নারীদের দালালদের চিহ্নিত খদ্দের ছাড়া কারো সাথে কথা বলতে দেওয়া হয় না।
ডিএমপির মতিঝিল বিভাগের মুগদা থানা এলাকার ঐ গ্রিন সিলেট হোটেলে মাঝে মধ্যে পুলিশকে এলাকাবাসী ৯৯৯ ফোন করে হোটেলের ঘটনা জানানো হলে মুগদা থানা পুলিশ লোক দেখানো কিছু অভিযান চালিয়ে জিম্মি দশায় থাকা মেয়েদের দালালদের কাছেই রেখে আসে। এমন ঘটনার কথা এলাকার অনেকেই সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
ঐ হোটেলে যারা বোর্ডার হিসেবে থাকেন সুমন নামে মুগদা এলাকার এক বাসিন্দা তার পরিচয় গোপন রাখা সত্ত্বে তিনি জানান,অসামাজিক কর্মকান্ড চলা গ্রিন সিলেট আবাসিক হোটেলে স্থানীয় পুলিশের সাথে সখ্যতা থাকায় পুলিশের আনাগোনা কম থাকায় সেখানে চলা অপরাধ কর্ম স্থানীয় মুগদা থানা পুলিশের ঝামেলা মুক্ত থাকায় নানাবিধ অপরাধীরা ঐ হোটেলগুলো নিরাপদ মনে করেন। সেখানে অপরাধীরা আস্তানা বানায়। বিভিন্ন থানার মামলার দাগী দোষী ফেরারি আসামীরা হোটেলগুলোতে বোর্ডার সেজে নিয়মিত বসবাস করে। কখনো পুলিশের কোন বিশেষ অভিযানে কেউ গ্রেফতার হলে তাদেরকে হোটেল স্টাফ বা বোর্ডার দেখিয়ে চালিয়ে দেওয়া হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যারা দালাল ও নারী পাচারকারী তারাই বোর্ডার।
অনুসন্ধানকালে মানবাধিকার কর্মীরা জানতে পারেন বিভিন্ন মেয়েদের প্রথমে পাচারকারী দালালরা নারীদের সাথে প্রেম করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে হোটেলগুলোতে এনে কৌশলগত ভাবে বোর্ডার সেজে রুম নেয়। আগত মেয়েরা বুঝতেই পারে না এই হোটেলেই তার সর্বনাশ হবে। এক পর্যায়ে প্রেমিক বেশে দালালরা নিজেরা তাদের বিয়ে না করে বিয়ে করার ছলনায় মেয়েদের সাথে দৈহিক মেলামেশা করে এরপর হোটেল ভাড়াটিয়া মালিকদের বন্ধু বান্ধব সাজিয়ে ঐ সকল মেয়েদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গণধর্ষণ করায় এরপর হোটেলে আটক করিয়া বহিরাগত বিভিন্ন পুরুষ দিয়ে ধর্ষণ করায় এক পর্যায় দেহজীবী বানিয়ে হোটেলগুলোর রুমগুলোকে পতিতালয় বানিয়ে সংগ্রহ করা মেয়েদের ঐ হোটেলের হল রুমে বসিয়ে রেখে বহিরাগত পুরুষ খদ্দের দ্বারা দেহ ব্যবসা করায়। দালালরা খদ্দের জোগাতে রাজধানী সহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ভিজিটিং কার্ড বিলি করে। পথে ঘাটে চোখ পরলেই দেখা যায় বিভিন্ন হোটেলের ভিজিটিং কার্ড। ঐ কার্ডে দালালদের মোবাইল নাম্বার সংযুক্ত করে দিয়ে খদ্দেরদের আহ্বান করার লক্ষ্যে ঐ সকল ভিজিটিং কার্ড বিলি করে। হোটেলে আটক মেয়েরা কেউ পালানোর চেষ্টা করলে দালালদের নিয়োজিত নারী দালালও রয়েছে। যারা নিজেরা দেহ ব্যবসা করে এবং হোটেলে আগত নবাগত মেয়েদের খদ্দেরের মাঝে বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত করে। আর যাতে নবাগত মেয়েরা পালাতে না পারে সে বিষয়ে পাহারাদার হিসেবে কাজ করে। ঐ সকল পাহারাদার মেয়েরা পাচারকারী দালালদের অনেকেরই বিয়ে করা স্ত্রী। টাকা কামানোর লালসায় পাচারকাজে ব্যস্ত হয়ে পরেন।
পরিচয় গোপন রাখা সত্ত্বে এক পাচারকারী দালাল জানায় তারা যেভাবে নারী সংগ্রহ করে:-
অ) এক শ্রেণির দালালরা শুধু প্রেম করে মেয়েদের সংগ্রহ করে হোটেলে এনে হোটেল মালিকদের কাছে বিক্রি করে দেয়। ই) দ্বিতীয় শ্রেনির দালালরা বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালতে কাজ দেওয়ার কথা বলে মেয়েদের এনে হোটেলগুলোতে রেখে যায়। ঈ) একাধিক মেয়েকে তাদের নির্ধারিত ঘটকের মাধ্যমে বিয়ে করে কিছুদিন সংসার করে এরপর কৌশলে হোটেলে এনে দেহজীবী বানায়। উ) চতুর্থ শ্রেণির দালালরা মেয়েদের ইউটিউবার বা টেলিভিশন বা সিনেমার পর্দায় দেখানো আকর্ষণীয় নাটকের নায়িকা বা সাইট নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে মেয়েদের সংগ্রহ করিয়া কৌশলে হোটেলগুলোতে এনে তাদের দেহজীবী বানায়। ঊ) পঞ্চম শ্রেণির দালালরা সৌদি আরব সহ বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে হোটেল গুলোতে এনে নানা ধরনের শারীরিক নির্যাতনের ফলে তাদের দেহজীবী বানায়। ঋ) ষষ্ঠ শ্রেণির দালালরা হোটেলে মেয়েদের ক্লিনার সাজাইয়া রুমে রুমে বসাইয়া রাখিয়া দেহ ব্যবসা করায়। কিছু কিছু খদ্দেরদের বুঝায় ঐ সকল মেয়েরা ক্লিনারের চাকরী করে দেহজীবী নয়। তাই চড়া দাম হেকে তাদের পুরুষ খদ্দেরদের কাছে দেহ বিক্রি করে। এ) সপ্তম শ্রেণির দালালরা বিভিন্ন কৌশলে মেয়েদের সংগ্রহ করিয়া নানা ফন্দি ফিকির করে দেশ বিদেশের পতিতালয়গুলোতে নিয়ে চড়া দামে মেয়েদের বিক্রি করে দিয়ে আসে। পতিতালয়ের সর্দারনিরা ঐ সকল মেয়েদের আটক বা জিম্মি করে দেহ জীবী বানায়। ঐ) অষ্টম শ্রেণির দালালরা প্রেমের প্রলোভন দেখিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে গল্পগুজব করার কথা বলে হোটেল রুমে এনে জোড় পূর্বক ধর্ষণ করে হোটেলে থাকা গোপন ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইন্টারনেট, ফেইসবুক, ইউটিউবে ছেড়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে কৌশলে জিম্মি করে তাদেরকে পতিতা সাজাইয়া বিভিন্ন পুরুষ দিয়ে অসামাজিক কার্যকলাপ করানো হয়।
অনুসন্ধানকালে মানবাধিকার কর্মীরা যেভাবে বাধা বিপত্তির শিকার হয় ও বিভিন্ন ঘটনা জানতে পারে
হোটেলগুলোতে পৃথক ভাবে অনুসন্ধানকালে আমরা মানবাধিকার কর্মী এক পর্যায়ে আমাদের পরিচয় পাওয়ায় আমাদের নানা ধরনের হুমকি দিয়ে হোটেলগুলোর এলাকা হতে সরে যেতে বলে। আমরা পুলিশকে খবর দিব বললে পাচারকারী দালাল বিবাদীরা বলে, পুলিশকে খবর দিয়ে কোন লাভ নেই। আমরা হোটেলগুলোতে যা ইনকাম করি তার সিংহভাগ স্থানীয় মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সেপেক্টর তদন্ত, ইন্সেপেক্টর অপারেশন ও সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) কে দিয়ে থাকি। পুলিশ আমাদের কেনা।
হোটেল মালিক ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে দালাল মোঃ সুমন ১নং বিবাদী বলে, মুগদা থানা এলাকার গ্রিন সিলেট আবাসিক হোটেলে যে ধরনের অপরাধ কর্ম হয় তাহা স্থানীয় আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নলেজে দিয়ে হয়। আপনাদের কিছু বলার থাকলে মুগদা থানায় গিয়ে ওসিকে বলেন, আমরা এখানে কি ধরনের অপকর্ম করি যা আপনারা দেখেছেন তাই বলেন, দেখি কি করতে পারেন।
স্থানীয় মুগদা থানা এলাকার উল্লেখিত আবাসিক হোটেলে চলা অপকর্মের বিরুদ্ধে একাধিকবার পৃথকভাবে পুলিশকে অবগত করে তার কোন প্রতিকার পাওয়া যায় নাই। মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ সহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা চান না হোটেলে চলা নারী, মাদক ব্যবসা, অসামাজিক কর্মকান্ড বন্ধ হউক বা হোটেলে নানাবিধ অপরাধীদের আস্তানা চিরতরে নির্মূল হউক। বিভিন্ন মাদক কারবারী, নারী পাচারকারী, ছিনতাইকারী, মলম পার্টি সহ নানা বিধ অপরাধীরা ঐ হোটেলে নিরাপদ আস্তানা বানিয়ে তাদের সুবিধামতো নানাবিধ অপরাধ কর্মকান্ড করে থাকে। পুলিশকে ফোন দিলে উল্টো খবর চলে আসে হোটেল নারী ব্যবসায়ীদের কাছে। এছাড়া হোটেল অপরাধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে অভিযোগকারীর আর হয়রানির শেষ থাকে না। অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরের কথা উল্টো অভিযোগকারী হয়রানির শিকার হয়।
এলাকাবাসীর অনেকেই আমাদের কাছে বলেছেন মাঝে মধ্যে পুলিশ লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে কিছু খদ্দের ধরে নিয়ে যায়। নারী পাচারের সাথে জড়িত ভবন মালিক বা হোটেল ভাড়াটিয়া মালিক, স্টাফ পরিচয়ে দালাল চক্রকে কখনোই পুলিশ গ্রেফতার দেখায় না। এভাবেই চলছে মুগদা থানা এলাকার গ্রিন সিলেট আবাসিক হোটেল।
মানবাধিকার কর্মীদের কাছ হতে জানা যায় তারা যে ভাবে অনুসন্ধান করে
গত ১৩/০৪/২০২৬ইং তারিখ বেলা ৭ ঘটিকার সময় মোঃ আলমগীর অপরাধ অনুসন্ধানকারী তার অন্যান্য সহকারী মাকসুদা ও সাইদ সহ মুগদা এলাকায় গিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা বেশকিছু ভিজিটিং কার্ড সংগ্রহ করে। ভিজিটিং কার্ডে বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের নাম ও সেখানে নারী পাচারকারী দালালদের নাম ও মোবাইল নাম্বার দেখতে পান। ঐ নাম্বারে ফোন করে এক পর্যায় পৃথকভাবে তাদের সাথে উল্লেখিত গ্রিন সিলেট আবাসিক হোটেলে যেয়ে হোটেল ঘুরে ঘুরে খদ্দের বেশে মেয়েদের বাছাই করে। বাছাই পর্বের এক পর্যায় নানা কৌশলে মেয়েদের সাথে কথা বলে। সেখানকার নবাগত মেয়েরা জানায়, ঐ সকল মেয়েদের গার্মেন্টস বাসা-বাড়ি ও বিদেশে পাঠানো সহ বিভিন্ন জায়গায় কাজ দেওয়ার প্রলোভনে হোটেল দালালরা তাদের সংগ্রহ করিয়া উক্ত হোটেলে আনিয়া প্রথমে একটি রুমে নিয়া আটক রাখিয়া তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোড় পূর্বক হোটেল ভাড়াটিয়া মালিক ও ভবন মালিক সহ দালালরা তাদের গণধর্ষণ করে পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন পূর্বক বিভিন্ন পুরুষের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে তাদের বাধ্য করে। ঐ সকল মেয়েরা বিভিন্ন পুরুষের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে না চাইলে তাদের দিয়ে বিভিন্ন পুরুষের সাথে করানো অসামাজিক কার্যকলাপের চিত্র দালালরা গোপনে ঐ সকল দৃশ্য ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে রেখে আটক মেয়েদের অসামাজিক কার্যকলাপের ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে নানা ধরনের ভয়-ভীতি পূর্বক বিভিন্ন পুরুষের সাথে অপকর্মে লিপ্ত হতে বাধ্য করে।
এরপর উক্ত গ্রিন সিলেট হোটেল দালাল চক্রের ডিএমপির বিভিন্ন জায়গায় একাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে। ঐ হোটেলগুলোতে সেখানকার মেয়েদের একেক দিন একই নারী পাচারকারী চক্রের একেক হোটেলে নিয়ে তাদের দিয়ে দেহ ব্যবসা করায়। তারা এখান থেকে পালিয়ে যেতে পারে না। তাদের নির্যাতনের কথা তুলে ধরে বলে, তারা কোন পুরুষের সাথে খারাপ কাজ করতে না চাইলে দালাল চক্র তাদের বিভিন্নভাবে নির্যাতন করে যেমন-বিদ্যুতের শক দেওয়া হয়, এমনকি নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করানো সহ নানা কৌশলের নির্যাতনের ফলে তারা বিভিন্ন পুরুষদের সাথে অসামাজিক কার্যকলাপ করতে বাধ্য হয়। তাদের ভয় দেখানো হয়ে থাকে। কোন মেয়ে যদি খদ্দেরের সাথে তাদের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রকাশ করে তাহলে তাদের দিয়ে করানো গোপন ক্যামেরায় ধারন করে রাখা ভিডিও ফুটেজ ইন্টারনেটের যোগযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হবে। আর বেশি বাড়াবাড়ি করলে তাদের নির্ধারিত দেশ বিদেশের বিভিন্ন পতিতালয়ে তাদের অন্ন সিন্ডিকেটের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হবে। নানাবিধ ভয় দেখিয়ে ঐ সকল মেয়েদের দিনের পর দিন উক্ত হোটেলে আটক রেখে গণধর্ষণ পূর্বক অসামাজিক কার্যকলাপ করানো হচ্ছে। এ রকম বেশ কিছু মেয়ের সাথে কথা বলি। তারা একই ধরনের নির্যাতনের বর্ণনা বলে। অনেকেই হাউ মাউ করে কেঁদে ওঠে তাদের পরিবারের কাছে ফেরত যেতে চায়। এভাবে উল্লেখিত হোটেলে পৃথকভাবে অনুসন্ধান করে প্রায় ১০-১২ জন মেয়ে আটকের সন্ধান পায়। তবে কারোই পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা জানতে পারে নি।
অনুসন্ধানকালে এলাকাবাসীর কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের নাম গোপন রাখা স্বত্ত্বে তাদের কাছে বলেন, হোটেলে অপকর্ম চলে ভবন মালিক ও থানার অফিসার ইনচার্জ, ওসি তদন্ত, ইন্সেপেক্টর অপারেশন ও জোনের এসির সহযোগীতায়। স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন সহযোগীতা না করলে এ হোটেলে মেয়ে মানুষ আটকে রাখা তো দূরের কথা কোন ধরনের অপকর্ম হতো না। এক পর্যায় নারী পাচারকারী হোটেল ভাড়াটিয়া মালিক কয়েকজনের নেতৃত্বে বেশকিছু লোক এসে তাদেরকে চারদিক
ঘিরে ফেলে মানবাধিকার কর্মীদের নানা ধরণের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করিয়া এবং সাংবাদিকতার, মানবাধিকারগিরির স্বাদ মিটিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে ঐ সকল নারী পাচারকারীদের হুমকি ধমকির শিকার হয়ে মানবাধিকার কর্মীরা সেখান থেকে চলে আসে এবং ৯৯৯ এ সন্ধ্যা ৭.৪০ মিনিটে ফোন করে মুগদা থানাকে বিষয়টি অবগত করে। যাহা ৯৯৯ কমপ্লিন নাম্বার- ঈঋঝ৬৪৫০২৯৮৮ সেখানে চলা অপকর্মের বিষয় ৯৯৯ এর মাধ্যমে মুগদা থানার তৎকালীর ডিউটি অফিসার কে নারী নির্যাতনের ঘটনার বিষয় অবগত করলে থানার পুলিশ কোন আইনানুগ ব্যবস্থা নেয় নি।
সেখানে আসা হোটেল দালালরা তাদেরকে বলে, আপনারা আমাদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করেন যেখানে খুশি সেখানে অভিযোগ দেন দেখবেন আমাদের কিছুই হবে না বরং আপনারাই ঝামেলায় পরবেন। মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ, ইন্সেপেক্টর তদন্ত, ইন্সেপেক্টর অপারেশন, সহ এসি আমাদের কেনা। প্রতি মাসেই আমাদের হোটেল হতে মোটা অংকের মাসোহারা তাদেরকে দেওয়া হয়।
মানবাধিকার কর্মীরা আবেদনে যে সুপারিশ করেছেন:
১। গ্রিন সিলেট আবাসিক হোটেলের নারী ঘটিত অপরাধ কর্ম বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ২। থানা এলাকায় খদ্দের সংগ্রহকারী দালালদের প্রকাশ্যে পথে ঘাটে ভিজিটিং কার্ড বিলিকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া। ৩। নারী পাচারকারীদের জিম্মি দশায় থাকা নারীদের উপর নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করে তাদের উদ্ধার পূর্বক পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৪। গ্রিন সিলেট আবাসিক হোটেলের ভাড়াটিয়া মালিক, বাড়ির মালিক ও কেয়ার টেকার সহ সেখানে অপরাধ কর্মে প্রকাশ্যে ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিবর্গকে আইনের আওতায় আনার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৫। গ্রিন সিলেট আবাসিক হোটেলের ট্রেড লাইসেন্স প্রদানের পর ঐ হোটেলে লাইসেন্স বিরোধী কোন কার্যক্রম হয় কিনা তাহা দেখভাল কারী সিটি কর্পোরেশন জোনের ইন্সেপেক্টর এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ৬। মানব পাচার আইন বিধি মোতাবেক বাড়ির মালিক, আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।তাদের পরবর্তী সাংগঠনিক পদক্ষেপ
ক) সংস্থার পক্ষে দেশব্যাপী চিহ্নিত নারী পাচারকারীদের আদালতের দারস্থ্য করার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। খ) অপরাধীদের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত পূর্বক তালিকা প্রকাশ করা। গ) গ্রিন সিলেট আবাসিক হোটেলের সহ দেশব্যাপী যে সকল আবাসিক হোটেল, ফ্ল্যাট বাসা সহ পতিতালয়ে আটক ও জিম্মি থাকা নারীদের পরিচয় চিহ্নিতপূর্বক উদ্ধার করে তাদের ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা। ঘ) নারীদের কর্মসংস্থানের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় জীবিকা নির্বাহে কর্ম ব্যবস্থা গ্রহণ করা। ঙ) পথে ঘাটে ভিজিটিং কার্ড বিলি করে খদ্দের সংগ্রহকারী দালালদের চিহ্নিত করে যাবতীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা। চ) সারাদেশ ব্যাপী নারী পাচারকারী, দালাল, অর্থের যোগানদাতা ও আশ্রয়, প্রশ্রয়দাতাসহ, তাদের সহায়তাকারীদের চিহ্নিত পূর্বক তালিকা প্রকাশ করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আদালতের দারস্থ্য হওয়া। ছ) আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর যে সকল অসাধু কর্মকর্তারা অপরাধীদের গোপনে সহায়তা করে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মান-সম্মান ক্ষুন্ন করছে ঐ সকল অসাধু কর্মকর্তাদের চিহ্নিত পূর্বক পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলে বিভাগীয় ব্যবস্থার নেওয়ার জন্য আবেদনটি দায়ের করেছে।
এ বিষয়ে মুগদা থানার অফিসার ইনচার্জ, ওসি তদন্ত, ওসি অপারেশন এর মুঠোফোনে পাওয়া না যাওয়ায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায় নি।