ঢাকা ০৪:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

মুন্সীগঞ্জের শ্যামল বেপারী হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

মুন্সীগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামে বহুল আলোচিত শ্যামল বেপারী হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে তিনজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
‎‎মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী।আর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রপ্তরা হলেন- মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারী।
‎‎রায়ে দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে শাহাদাত বেপারী কারাগারে রয়েছেন। ইব্রাহিম বেপারী, হাবিব বেপারী, এমদাদ হালদার এবং লিটন বেপারী পলাতক রয়েছে। অপর ৬ আসামির জামিনে থেকে রায় ঘোষণার সময় অনুপস্থিত থাকায় এবং পলাতক আসামিদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
‎‎মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় ২০২৩ সালের ১৩ জুন শ্যামল খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত ১০টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ে। পূর্ব বিরোধের জেরে রাত ১টার দিকে এমদাদ জরুরি কথা আছে বলে শ্যামলকে ডেকে তোলে। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে শাহাদাত ভিকটিমের হাতে দুটি গুলি করে। জাহাঙ্গীর গুলি করে পায়ে। ইব্রাহিম বেপারীও পায়ে দুটি গুলি করে। আরও দুজন শ্যামলকে গুলি করেন।
শ্যামল ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে তারা টেনে-হেঁচড়ে বাইরে উঠানে নিয়ে এসে মারধর করে গুরুতর আহত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাবিব মাথায় গুলি করে। শ্যামল গোঙ্গানি শব্দ করতে থাকলে শাহাদাত বেপারী চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথার মাঝ বরাবর কোপ মারে। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিদের কয়েকজ ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়।
বাড়ির ভাড়াটিয়া বাচ্চু ফোন করে বিষয়টি শ্যামলের ছোট ভাই ইব্রাহিম বেপারীকে জানায়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
‎‎এ ঘটনায় ১৫ জুন ইব্রাহিম মিয়া মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়। সেখান থেকে মামলাটি ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়।
গত বছরের ১৪ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৩৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামি শাহাদাত বেপারী এবং হায়াতুল ইসলাম নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি দেশীয় এলজি ও বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

মুন্সীগঞ্জের শ্যামল বেপারী হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৮ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৭:০৯:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬

সিএনএমঃ

মুন্সীগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামে বহুল আলোচিত শ্যামল বেপারী হত্যা মামলায় ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে তিনজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
‎‎মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী।আর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রপ্তরা হলেন- মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারী।
‎‎রায়ে দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে শাহাদাত বেপারী কারাগারে রয়েছেন। ইব্রাহিম বেপারী, হাবিব বেপারী, এমদাদ হালদার এবং লিটন বেপারী পলাতক রয়েছে। অপর ৬ আসামির জামিনে থেকে রায় ঘোষণার সময় অনুপস্থিত থাকায় এবং পলাতক আসামিদের জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
‎‎মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের ন্যায় ২০২৩ সালের ১৩ জুন শ্যামল খাওয়া-দাওয়া শেষে রাত ১০টার দিকে ঘুমিয়ে পড়ে। পূর্ব বিরোধের জেরে রাত ১টার দিকে এমদাদ জরুরি কথা আছে বলে শ্যামলকে ডেকে তোলে। দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে শাহাদাত ভিকটিমের হাতে দুটি গুলি করে। জাহাঙ্গীর গুলি করে পায়ে। ইব্রাহিম বেপারীও পায়ে দুটি গুলি করে। আরও দুজন শ্যামলকে গুলি করেন।
শ্যামল ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে তারা টেনে-হেঁচড়ে বাইরে উঠানে নিয়ে এসে মারধর করে গুরুতর আহত করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে হাবিব মাথায় গুলি করে। শ্যামল গোঙ্গানি শব্দ করতে থাকলে শাহাদাত বেপারী চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথার মাঝ বরাবর কোপ মারে। গুলির শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে আসামিদের কয়েকজ ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে চলে যায়।
বাড়ির ভাড়াটিয়া বাচ্চু ফোন করে বিষয়টি শ্যামলের ছোট ভাই ইব্রাহিম বেপারীকে জানায়। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
‎‎এ ঘটনায় ১৫ জুন ইব্রাহিম মিয়া মুন্সীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সীগঞ্জ আদালতে চার্জশিট দাখিল হয়। সেখান থেকে মামলাটি ঢাকার আদালতে পাঠানো হয়।
গত বছরের ১৪ জুলাই ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ট্রাইব্যুনাল ৩৯ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামি শাহাদাত বেপারী এবং হায়াতুল ইসলাম নিজেদের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেয়।