ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইটভাটার সরকারি রাজস্ব ও বাৎসরিক ভাড়া আত্মসাতের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ১০৪ বার পড়া হয়েছে

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"ai_enhance":1,"transform":2},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

সিএনএমঃ
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দুলারামপুর গ্রামের মেসার্স মুজিবুর রহমান এম.এম.আর ব্রিকসের ৯বছরের বিভিন্ন সরকারি রাজস্ব ও বাৎসরিক ভাড়া আত্মসাত করে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সফিউল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
ঘটনায় অভিযুক্ত ইটভাটার ব্যবসায়ী সফিউল হোসেন কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মরহুম সাহিদুল হকের ছেলে।
গতকাল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিষয়টির সমাধান চেয়ে ইটভাটার মালিক পক্ষ মজিবুর রহমান গং ভাটায় গিয়ে কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেয় এবং এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দশ বছরের চুক্তিতে ইটভাটাটি ভাড়া নেওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর সঠিক ভাবে ইট ভাটাটি পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে শফিউল হোসেন মালিক পক্ষকে বাৎসরিক ভাড়া প্রদান বন্ধ করেন পাশাপাশি সরকারি বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং দীর্ঘ নয় বছরের পরিবেশগত নবায়ন ফি বকেয়া রেখেই ইটভাটাটি পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে একাধিকবার সালিশ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে সম্পাদিত অঙ্গীকারনামা অনুযায়ী, সফিউল হোসেন ৯০ দিনের মধ্যে মোট ১৭লাখ টাকা ভাড়া বাবদ এবং ২০১৭-২০২৫ইং সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বকেয়া সরকারি রাজস্ব পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে প্রায় ৭মাস অতিবাহিত হলেও তিনি পূর্বের বোকেয়া রাজস্ব এবং বাৎসরিক ভাড়া পরিশোধ না করে ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মালিক পক্ষের অভিযোগ।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন ছাড়া ইটভাটাটি পরিচালনা না করার নির্দেশনা দিয়ে নোটিশ প্রদান করেন ইটভাটার মালিক কর্তৃপক্ষকে। এছাড়াও পাওনা টাকা আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাওনাদার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সফিউল হোসেন এসকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি চেকের মাধ্যমে ভাড়া বাবদ ১৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে এখান থেকে সরিয়ে তার ব্যবসা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, শেষবার সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে সম্পাদিত অঙ্গীকারনামার শর্ত ভঙ্গ ও ভাটার ভাড়ার টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইটভাটার মালিক মজিবুর গং ও ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী সফিউল গংদের মাঝে বিতর্কের সৃষ্টি হলে সফিউল হোসেনের বিরুদ্ধে গত অক্টোবর মাসের দুই তারিখে তিতাস থানায় মালিক পক্ষ মজিবুর গং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে সামাজিক ভাবে দু’পক্ষকে নিয়ে সমস্যার নিরসনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা সালিশিতে বসলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সফিউল হোসেন ভাটার মালিক মজিবুর রহমানকে চেকের মাধ্যমে সাড়ে ১১লাখ টাকাসহ বিভিন্নভাবে মোট ১৭লাখ টাকা বুজিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। উপস্থিত সালিশকারীরা লেনদেনের কোন প্রমান আছে কিনা সফিউল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার নিজ ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে সাড়ে ১১লাখ টাকা উত্তোলনের একটি নথি দেখান। যেহেতু ব্যাংক একাউন্টটি সফিউল হোসেনের উপস্থিত সালিশিরা মজিবুর রহমানই সেই চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করেছে নিশ্চিত হতে সফিউল হোসেনকে ব্যাংকের সে সময়ের লেনদেন এর সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে বলেন অথবা সালিশিতে উপস্থিত দুপক্ষের দুজন করে চারজন লোক নিয়ে ভিডিও ফুটেজ টি দেখিয়ে নিয়ে আসার জন্য বলা হলে সফিউল ও মজিব গং দু’পক্ষই সেই সিদ্ধান্তে একমত প্রকাশ করেন। কিন্তু সফিউল হোসেন থানা পুলিশের উপস্থিতিতে উপরোক্ত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন জানালেও পরে নানা তালবাহানায় বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে কোন প্রকার প্রমানপত্র থানায় জমা না দিয়ে ইটভাটাটি পরিচালনা করে আসছিলেন।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ইটভাটার সরকারি রাজস্ব ও বাৎসরিক ভাড়া আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:১৩:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫
সিএনএমঃ
কুমিল্লার তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দুলারামপুর গ্রামের মেসার্স মুজিবুর রহমান এম.এম.আর ব্রিকসের ৯বছরের বিভিন্ন সরকারি রাজস্ব ও বাৎসরিক ভাড়া আত্মসাত করে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে সফিউল হোসেন নামের এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে।
ঘটনায় অভিযুক্ত ইটভাটার ব্যবসায়ী সফিউল হোসেন কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মরহুম সাহিদুল হকের ছেলে।
গতকাল সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) বিষয়টির সমাধান চেয়ে ইটভাটার মালিক পক্ষ মজিবুর রহমান গং ভাটায় গিয়ে কার্যক্রম বন্ধের উদ্যোগ নেয় এবং এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দশ বছরের চুক্তিতে ইটভাটাটি ভাড়া নেওয়ার পর প্রথম কয়েক বছর সঠিক ভাবে ইট ভাটাটি পরিচালনা করলেও পরবর্তীতে শফিউল হোসেন মালিক পক্ষকে বাৎসরিক ভাড়া প্রদান বন্ধ করেন পাশাপাশি সরকারি বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স নবায়ন ফি এবং দীর্ঘ নয় বছরের পরিবেশগত নবায়ন ফি বকেয়া রেখেই ইটভাটাটি পরিচালনা করে আসছেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে একাধিকবার সালিশ ও পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে সম্পাদিত অঙ্গীকারনামা অনুযায়ী, সফিউল হোসেন ৯০ দিনের মধ্যে মোট ১৭লাখ টাকা ভাড়া বাবদ এবং ২০১৭-২০২৫ইং সালের জুলাই মাস পর্যন্ত বকেয়া সরকারি রাজস্ব পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে প্রায় ৭মাস অতিবাহিত হলেও তিনি পূর্বের বোকেয়া রাজস্ব এবং বাৎসরিক ভাড়া পরিশোধ না করে ইটভাটার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে মালিক পক্ষের অভিযোগ।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর পরিবেশগত ছাড়পত্র নবায়ন ছাড়া ইটভাটাটি পরিচালনা না করার নির্দেশনা দিয়ে নোটিশ প্রদান করেন ইটভাটার মালিক কর্তৃপক্ষকে। এছাড়াও পাওনা টাকা আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পাওনাদার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সফিউল হোসেন এসকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি চেকের মাধ্যমে ভাড়া বাবদ ১৭ লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, স্থানীয় একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে এখান থেকে সরিয়ে তার ব্যবসা আত্মসাৎ করার চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, শেষবার সেনাবাহিনীর উপস্থিতিতে সম্পাদিত অঙ্গীকারনামার শর্ত ভঙ্গ ও ভাটার ভাড়ার টাকা লেনদেন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ইটভাটার মালিক মজিবুর গং ও ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী সফিউল গংদের মাঝে বিতর্কের সৃষ্টি হলে সফিউল হোসেনের বিরুদ্ধে গত অক্টোবর মাসের দুই তারিখে তিতাস থানায় মালিক পক্ষ মজিবুর গং একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশের উপস্থিতিতে সামাজিক ভাবে দু’পক্ষকে নিয়ে সমস্যার নিরসনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গরা সালিশিতে বসলে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী সফিউল হোসেন ভাটার মালিক মজিবুর রহমানকে চেকের মাধ্যমে সাড়ে ১১লাখ টাকাসহ বিভিন্নভাবে মোট ১৭লাখ টাকা বুজিয়ে দিয়েছেন বলে জানান। উপস্থিত সালিশকারীরা লেনদেনের কোন প্রমান আছে কিনা সফিউল হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি তার নিজ ব্যাংক একাউন্টের মাধ্যমে সাড়ে ১১লাখ টাকা উত্তোলনের একটি নথি দেখান। যেহেতু ব্যাংক একাউন্টটি সফিউল হোসেনের উপস্থিত সালিশিরা মজিবুর রহমানই সেই চেক দিয়ে টাকা উত্তোলন করেছে নিশ্চিত হতে সফিউল হোসেনকে ব্যাংকের সে সময়ের লেনদেন এর সিসি টিভির ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করতে বলেন অথবা সালিশিতে উপস্থিত দুপক্ষের দুজন করে চারজন লোক নিয়ে ভিডিও ফুটেজ টি দেখিয়ে নিয়ে আসার জন্য বলা হলে সফিউল ও মজিব গং দু’পক্ষই সেই সিদ্ধান্তে একমত প্রকাশ করেন। কিন্তু সফিউল হোসেন থানা পুলিশের উপস্থিতিতে উপরোক্ত এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবেন জানালেও পরে নানা তালবাহানায় বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে কোন প্রকার প্রমানপত্র থানায় জমা না দিয়ে ইটভাটাটি পরিচালনা করে আসছিলেন।