সিএনএম প্রতিবেদনঃ
ঢাকা জেলার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটেছে। ৫৫ বছর বয়স্ক এক নারী থানা সহ বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে তার ধর্ষণের ঘটনায় ন্যায় বিচারের পেতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে অবশেষে মহা-পুলিশ পরিদর্শক, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে অদ্য ১৪/১২/২০২৫ইং তারিখ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এবং দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় গিয়ে একটি এজাহার পত্র লিখে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে দেওয়ার জন্য বিচার চাইতে থানায় ঘুর ঘুর করছেন। পুলিশ ব্যবস্থা নেয় নিচ্ছি বলে জানিয়েছেন।
ঐ অভিযোগে ধর্ষিতা বিচার চেয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ লিখে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এজাহারে বৃদ্ধা নারী বলেন, আমি একজন বিধবা নারী। ২ কন্যা সন্তানের জননী। বড় মেয়ে জুলিয়া (৩০), ছোট মেয়ে পাপিয়া (২৫)। আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর মেয়েদের বিয়ে শাদী হওয়ায় তারা যে যার মতো তাদের শ্বশুর বাড়ি চলে যাওয়ায় আমার ভরণ পোষণ দেওয়ার মতো পরিবারের কোন অভিভাবক না থাকায় আমি বিভিন্ন বাসা বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করিয়া জীবিকা নির্বাহ করিয়া আসিতেছি। এমতাবস্থায় আমার পূর্ব পরিচিত ১, ২ ও ৩ নং বিবাদীরা আমাকে সৌদি আরবে পাঠানোর প্রস্তাব দেয় এবং বলে।
সৌদি আরবে আমার বেতন হবে ১২০০ রিয়াল বাংলাদেশের প্রায় ৪০,০০০/-(চল্লিশ হাজার) টাকা। এক পর্যায় আমি তাদের কথা বিশ্বাস করিয়া রাজি হইলে গত ১৩/১২/২০২৫ইং তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬ ঘটিকার সময় ১-৯নং বিবাদীরা এক এক করে আমার বসত বাসায় আসে তারা বলে আমার বিদেশের ব্যাপারে তারা আমার সাথে কথাবার্তা বলবে। ১-৩নং বিবাদী অন্যান্য বিবাদীদের দেখিয়ে বলে, আমাকে যে কফিলের বাসায় কাজের জন্য পাঠানো হবে ঐ কফিলের বাসায় ৪-৯নং বিবাদীরা বাংলাদেশ হতে যেয়ে কর্ম করে তারা বাংলাদেশে ছুটিতে এসেছে। আমাকে তাদের ছুটি শেষ হলে, তাদের সাথেই আমাকে পাঠানো হবে। এজন্য আমার সাথে তারা পরিচয় হতে এসেছে এবং আমি কাজ কর্ম পারব কিনা ঐ বিষয়ে তারা কথা বলবে। তখন আমি তাদেরকে বলি আমি গরিব মানুষ আপনাদের কোথায় বসতে দিব।ঐ মুহুর্তে তারা আমার রুমের মেঝেতে ঢালা বিছানার তোষকের উপরেই তারা বসে। আমাকেও বসতে বলে। কথাবার্তার এক পর্যায় বিবাদীরা আমার শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। তখন আমি বুঝতে পারি বিবাদীদের উদ্দেশ্য খারাপ। ঐ মুহুর্তে আমি তাদের আমার রুম হতে বের হয়ে যেতে বললে ১নং বিবাদী রুমের দরজার ছিটকানি লাগিয়ে দেয়। অন্যান্য সকল বিবাদীরা মিলে আমাকে টানা হেচড়া করে দোষকের বিছানার উপরে শোয়াইয়া আমার পরিহিত জামা কাপড় খুলে ফেলে ঐ মুহুর্তে আমি ডাক চিৎকার দিলে হঠাৎ ১নং বিবাদী আমার বুকের উপর বসে তার পকেট থেকে একখানা রুমাল বের করে আমার মুখ চাপিয়া ধরে। এরিমধ্যে ডাক চিৎকারের চেষ্টা করলেও আর কোন ডাক চিৎকার দিতে পারি নাই। ঐ রুমাল মুখে চাঁপিয়া ধরার পর হঠাৎ আমি বাক প্রতিবন্ধির মতো হয়ে যাই। শুধু তারা কি করতেছিল তা দেখতে পাই কোন কথাবার্তা বলতে পারিনাই এবং আমার শরীরেও কোন শক্তি পাই নাই। এমতাবস্থায় বিবাদীরা একের পর এক পালাক্রমে আমাকে ধর্ষণ করে এবং তাদের সাথে থাকা মোবাইল ক্যামেরায় একেক জন বিবাদী ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে বিভিন্ন জায়গায় ঐ ভিডিও ফুটেজ তাদের মোবাইল নেটের মাধ্যমে পাঠায়। এভাবে আনুমানিক প্রায় রাত ১২ ঘটিকা পর্যন্ত আমাকে ধর্ষণ শেষে বিবাদীরা রুমের দরজা চাপিয়ে রেখে চলে যায়। এক পর্যায়ে পরের দিন ১৪/১২/২০২৫ইং তারিখ ৭ ঘটিকার সময় আমার শরীরে কোন রকম বোধ শক্তি ফিরে এলে বিষয়টি আমার আত্মীয় স্বজন ও পরিচিত লোকজনদের জানাইয়া আসামীদের নাম, ঠিকানা, মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করিয়া আমার ঘটনার বিষয় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে আমার ঘটনায় ন্যায় বিচার পেতে ও চিকিৎসা সেবা পেতে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে কোন সহায়তা না পেয়ে পুুলিশ মহা পরিদর্শক, ঢাকা রেঞ্জ ডিআইজি, জেলা পুলিশ সুপার বরাবরে আমার ঘটনায় ন্যায় বিচার পেতে আমি আবেদন দায়ের করি। পরবর্তীতে পুলিশ সুপার কার্যালয় হতে আমাকে দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন এখন আমি লিখিত অভিযোগ নিয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের দারস্থ হলে, পুলিশ ব্যবস্থা নিবেন বলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন।