ঢাকা ০৫:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘চার্লি চ্যাপলিন’-এর আজ জন্মদিন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৬:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১
  • ৪৮১ বার পড়া হয়েছে

'চার্লি চ্যাপলিন'-এর আজ জন্মদিন

এস.ইসলামঃ

চার্লি চ্যাপলিন নির্বাক চলচিত্রের প্রাণভোমরা এবং বিশ্বজয়ী হাসির ও আনন্দের কালপুরুষ একজন অভিনেতা যিনি শুধু মাত্র তার মুখের হাসি আর অঙ্গ ভঙ্গির অভিনয় দিযে বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও তাদের মুখে হাসির অবকাশ এনে দিয়াছেন।

Charlie Chaplin যার সম্পূর্ণ নাম স্যার চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন জুনিয়র (Sir Charles Spencer Chaplin, Jr.) তিনি শুধু অভিনেতাই ছিলেন না অনন্ত প্রতিভা সম্পন্ন এই মানুষটি একই সাথে পেশায় ছিলেন অভিনেতা, পরিচালক, সুরকার চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক এবং সম্পাদক সফলতার সকল উঁচু শিখড়ে তার ছিলো সমান বিচরণ।

টিভি ও চলচিত্র জগতের শুরুর দিকের এই মহান অভিনেতার জীবনের বিভিন্ন দিক তার জীবনী ও জীবন সংগ্রামের সব ঘটনা যা আমরা সবসময় জানতে পারিনা সেটাই আপনাদের কাছে তুলে ধরবো।

Charlie Chaplin এর জন্ম হয়েছিলো 16 April 1889 সালে England এর London শহরে। তার বাবা চার্লস স্পেন্সার্স চ্যাপলিন ও মা হেরা চ্যাপলিন সিনিওর মিউজিক হলের জুনিয়র আর্টিস্ট ও সিঙ্গার ছিলেন।

একবার বিখ্যাত পদাৰ্থ বিজ্ঞনী Sir Albert Einstein চার্লি চ্যাপলিন এর সাথে দেখা হলে বলেছিলেন আমি আপনার খুবই ভক্ত হয়ে গেছি আপনি কোনো কথা না বলেও সবাইকে আপনার মনের কথা কতো সহজেই বুঝিয়ে দেন।

জবাবে চার্লি বলেন হ্যা এটি সত্যি, আপনিও আপনার থিওরী সম্পর্কে এত কিছু বলেন সবাই আপনার কতো প্রশংসা করে কিন্তু দুঃখের কথা এইজে তবু তারা আপনার কথা কেউ বুজতে পারে না।

Charlie Chaplin early life
চার্লি চ্যাপলিন এর প্রথম রোজগার ছিলো মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। যখন তার মা একদিন টাউন হলে গান গাওয়ার সময় গলায় সমস্যা দেখা দেয় ও আওয়াজ বেরহচ্ছিলনা দর্শকরা তখন বিরক্ত হয়ে চিৎকার চেচামেচি করেন ও চ্যাপলিনের মাকে মারতে উদ্দতে হন।

ছোট চ্যাপলিন তখন মায়ের বিপদ দেখে স্টেজে উঠে আসেন এবং তার মায়ের গাওয়া গান অভিনয়ের সাথে গাইতে শুরু করেন দর্শকদের তার এই আধো আধো কণ্ঠে গাওয়া গান খুব উপভোগ করেন স্টেজে পয়সার বৃষ্টি শুরু হয়।

বাস্তব জীবনের তাদের গরিব হওয়ার কষ্টও যে অন্যকে স্টেজে আনন্দ দেয় ফানি মনে হয় সেটা তিনি হয়তো তখনি এই ঘটনাতেই বুঝে গেয়েছিলেন। তাইতো পরবর্তীতে তার অভিনয়ে মাধ্যমে তিনি গরীবতা, দুঃখ, কষ্ট, একাকীত্ব, বেকারত্বে মতো ঘটনা অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন লোককে আনন্দ দেয়ার জন্য।

কষ্ট ও দারিদ্রতায় পরিপূর্ণ ছিলো চার্লি চ্যাপলিনের শৈশব জীবন মাত্র ছয় বছর বয়সে চার্লির বাবা ও মায়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তখন চার্লি ও তার ভাইকে নিয়ে চার্লির মাকে অনাথ আশ্রমে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো কারণ তখন চার্লির মায়ের কোনো উপার্জন ছিলনা। দরিদ্রতার দুঃচিন্তায় চার্লির মা কিছুদিনের মধ্যেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাগল হয়ে পাগলা গারদে চলে যায়।

তখন আদালতের নির্দেশে চার্লি ও তার ভাইকে তার বাবার কাছে থাকতে হতো। চার্লির বাবা তখন আবারো বিবাহ করেছিলেম সৎমায়ের সংসারে তাই চার্লি ভাইদের কষ্টের কোন কমতি ছিলনা। এক বছর পরে চার্লির মা ভালো হয়ে ফিরে আসলে তাদের জীবনে আবার প্রাণ ফিরে আসে।

পড়াশোনায় বিশেষ মনোযোগ চার্লির ছিলনা তিনি অভিনয়কেই তার জীবনের লক্ষ হিসেবে মনে স্থান দিয়েছিলেন। দশ বছরের ও কম বয়স থেকে চার্লি স্টেজশো করতেন ও সাথে অন্য কাজ করতেন উপার্জনের উদ্দের্শে। তার লক্ষ যেহেতু ছিল অভিনেতা হওয়ার তাই তিনি নিয়মিত ব্ল্যাক মুর থিয়েটার এ যেতেন অভিনয় দেখতে।

Charlie Chaplin Career
চার্লি একদিন যখন স্টেজশো করছিলেন তখন একজন থিয়েটার পরিচালকের নজরে আসেন। চার্লির অভিনয়ের বিষয়বস্তু ও বাস্তবিক রূপায়ণের দক্ষতা তাকে মুগ্ধ করে। সেই পরিচালকের মাধ্যমে চার্লির পরিচয় বিখ্যাত পরিচালনা ই হ্যামিলটন এর সাথে হয়। ই হ্যামিলটন তাকে শার্লক হোমস এ অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব রাখেন। শার্লক হোমস সিরিজ এ অভিনয় করে চার্লি খুব পরিচিতি লাভ করে।

১৯১৩ সালে আমেরিকার নামকরা সিনেমা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান New York Motion Pictures চার্লির সাথে চুক্তি করে। তার পরের বছর ১৯১৪ মুক্তিপায় চার্লি চ্যাপলিনের একক সিনেমা Making A Living, দর্শক মহলে তার অভিনয়ের মুগ্ধতায় পরবর্তীতে আরো অনেক সিনেমায় কাজ করেন।

১৯১৪ সালেই চার্লি প্রথম পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তার প্রথম পরিচালিত ও পরিচালনার সাথে অভিনীত প্রথম সিনেমা হলো Caught in the Rain যা তাকে খুবই জনপ্রিয়তা প্রদান করে এবং তার জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। একজন অভিনেতা থেকে বিশ্বের জনপ্রিয় অভিনেতা হয়েযান নিষ্ঠাবান অভিনয়ের জন্য।

বিশ্বের কঠিনতম সয়ম এর মধ্যে প্রবাহিত তার জীবন বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও মানুষের কষ্টকে হাসির মাধ্যমে এমন ভাবে ফুটিয়ে তুলতেন যে তার অভিনয় দেখা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ ক্ষনিকের জন্য তাদের দুঃখ কষ্ট ও উপবাসের কথা ভুলে না হেসে থাকতে পারেনি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

‘চার্লি চ্যাপলিন’-এর আজ জন্মদিন

আপডেট সময় ০৬:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল ২০২১

এস.ইসলামঃ

চার্লি চ্যাপলিন নির্বাক চলচিত্রের প্রাণভোমরা এবং বিশ্বজয়ী হাসির ও আনন্দের কালপুরুষ একজন অভিনেতা যিনি শুধু মাত্র তার মুখের হাসি আর অঙ্গ ভঙ্গির অভিনয় দিযে বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে এক মুহূর্তের জন্য হলেও তাদের মুখে হাসির অবকাশ এনে দিয়াছেন।

Charlie Chaplin যার সম্পূর্ণ নাম স্যার চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন জুনিয়র (Sir Charles Spencer Chaplin, Jr.) তিনি শুধু অভিনেতাই ছিলেন না অনন্ত প্রতিভা সম্পন্ন এই মানুষটি একই সাথে পেশায় ছিলেন অভিনেতা, পরিচালক, সুরকার চিত্রনাট্যকার, প্রযোজক এবং সম্পাদক সফলতার সকল উঁচু শিখড়ে তার ছিলো সমান বিচরণ।

টিভি ও চলচিত্র জগতের শুরুর দিকের এই মহান অভিনেতার জীবনের বিভিন্ন দিক তার জীবনী ও জীবন সংগ্রামের সব ঘটনা যা আমরা সবসময় জানতে পারিনা সেটাই আপনাদের কাছে তুলে ধরবো।

Charlie Chaplin এর জন্ম হয়েছিলো 16 April 1889 সালে England এর London শহরে। তার বাবা চার্লস স্পেন্সার্স চ্যাপলিন ও মা হেরা চ্যাপলিন সিনিওর মিউজিক হলের জুনিয়র আর্টিস্ট ও সিঙ্গার ছিলেন।

একবার বিখ্যাত পদাৰ্থ বিজ্ঞনী Sir Albert Einstein চার্লি চ্যাপলিন এর সাথে দেখা হলে বলেছিলেন আমি আপনার খুবই ভক্ত হয়ে গেছি আপনি কোনো কথা না বলেও সবাইকে আপনার মনের কথা কতো সহজেই বুঝিয়ে দেন।

জবাবে চার্লি বলেন হ্যা এটি সত্যি, আপনিও আপনার থিওরী সম্পর্কে এত কিছু বলেন সবাই আপনার কতো প্রশংসা করে কিন্তু দুঃখের কথা এইজে তবু তারা আপনার কথা কেউ বুজতে পারে না।

Charlie Chaplin early life
চার্লি চ্যাপলিন এর প্রথম রোজগার ছিলো মাত্র পাঁচ বছর বয়সে। যখন তার মা একদিন টাউন হলে গান গাওয়ার সময় গলায় সমস্যা দেখা দেয় ও আওয়াজ বেরহচ্ছিলনা দর্শকরা তখন বিরক্ত হয়ে চিৎকার চেচামেচি করেন ও চ্যাপলিনের মাকে মারতে উদ্দতে হন।

ছোট চ্যাপলিন তখন মায়ের বিপদ দেখে স্টেজে উঠে আসেন এবং তার মায়ের গাওয়া গান অভিনয়ের সাথে গাইতে শুরু করেন দর্শকদের তার এই আধো আধো কণ্ঠে গাওয়া গান খুব উপভোগ করেন স্টেজে পয়সার বৃষ্টি শুরু হয়।

বাস্তব জীবনের তাদের গরিব হওয়ার কষ্টও যে অন্যকে স্টেজে আনন্দ দেয় ফানি মনে হয় সেটা তিনি হয়তো তখনি এই ঘটনাতেই বুঝে গেয়েছিলেন। তাইতো পরবর্তীতে তার অভিনয়ে মাধ্যমে তিনি গরীবতা, দুঃখ, কষ্ট, একাকীত্ব, বেকারত্বে মতো ঘটনা অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন লোককে আনন্দ দেয়ার জন্য।

কষ্ট ও দারিদ্রতায় পরিপূর্ণ ছিলো চার্লি চ্যাপলিনের শৈশব জীবন মাত্র ছয় বছর বয়সে চার্লির বাবা ও মায়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। তখন চার্লি ও তার ভাইকে নিয়ে চার্লির মাকে অনাথ আশ্রমে আশ্রয় নিতে হয়েছিলো কারণ তখন চার্লির মায়ের কোনো উপার্জন ছিলনা। দরিদ্রতার দুঃচিন্তায় চার্লির মা কিছুদিনের মধ্যেই মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে পাগল হয়ে পাগলা গারদে চলে যায়।

তখন আদালতের নির্দেশে চার্লি ও তার ভাইকে তার বাবার কাছে থাকতে হতো। চার্লির বাবা তখন আবারো বিবাহ করেছিলেম সৎমায়ের সংসারে তাই চার্লি ভাইদের কষ্টের কোন কমতি ছিলনা। এক বছর পরে চার্লির মা ভালো হয়ে ফিরে আসলে তাদের জীবনে আবার প্রাণ ফিরে আসে।

পড়াশোনায় বিশেষ মনোযোগ চার্লির ছিলনা তিনি অভিনয়কেই তার জীবনের লক্ষ হিসেবে মনে স্থান দিয়েছিলেন। দশ বছরের ও কম বয়স থেকে চার্লি স্টেজশো করতেন ও সাথে অন্য কাজ করতেন উপার্জনের উদ্দের্শে। তার লক্ষ যেহেতু ছিল অভিনেতা হওয়ার তাই তিনি নিয়মিত ব্ল্যাক মুর থিয়েটার এ যেতেন অভিনয় দেখতে।

Charlie Chaplin Career
চার্লি একদিন যখন স্টেজশো করছিলেন তখন একজন থিয়েটার পরিচালকের নজরে আসেন। চার্লির অভিনয়ের বিষয়বস্তু ও বাস্তবিক রূপায়ণের দক্ষতা তাকে মুগ্ধ করে। সেই পরিচালকের মাধ্যমে চার্লির পরিচয় বিখ্যাত পরিচালনা ই হ্যামিলটন এর সাথে হয়। ই হ্যামিলটন তাকে শার্লক হোমস এ অভিনয়ের জন্য প্রস্তাব রাখেন। শার্লক হোমস সিরিজ এ অভিনয় করে চার্লি খুব পরিচিতি লাভ করে।

১৯১৩ সালে আমেরিকার নামকরা সিনেমা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান New York Motion Pictures চার্লির সাথে চুক্তি করে। তার পরের বছর ১৯১৪ মুক্তিপায় চার্লি চ্যাপলিনের একক সিনেমা Making A Living, দর্শক মহলে তার অভিনয়ের মুগ্ধতায় পরবর্তীতে আরো অনেক সিনেমায় কাজ করেন।

১৯১৪ সালেই চার্লি প্রথম পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তার প্রথম পরিচালিত ও পরিচালনার সাথে অভিনীত প্রথম সিনেমা হলো Caught in the Rain যা তাকে খুবই জনপ্রিয়তা প্রদান করে এবং তার জীবনের গতিপথ বদলে দেয়। একজন অভিনেতা থেকে বিশ্বের জনপ্রিয় অভিনেতা হয়েযান নিষ্ঠাবান অভিনয়ের জন্য।

বিশ্বের কঠিনতম সয়ম এর মধ্যে প্রবাহিত তার জীবন বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা ও মানুষের কষ্টকে হাসির মাধ্যমে এমন ভাবে ফুটিয়ে তুলতেন যে তার অভিনয় দেখা পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ ক্ষনিকের জন্য তাদের দুঃখ কষ্ট ও উপবাসের কথা ভুলে না হেসে থাকতে পারেনি।