ঢাকা ১০:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুশি না করলে পদ্মা সেতুতে উঠতে পারছে না সাতক্ষীরার পরিবহন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:৫৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২
  • ৩৮৩ বার পড়া হয়েছে

পদ্মা সেতু চালু হলেও সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী সব পরিবহন এখনই পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে পারছে না। গোপালগঞ্জ জেলা মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করে সড়কে পরিবহন দিতে পারছেন না সাতক্ষীরার পরিবহনমালিকরা।

পরিবহন মালিকের অভিযোগ, গোপালগঞ্জ বাসমালিক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা না করে সেই পথে পরিবহন দিতে পারছেন না তারা। কারণ তাদের খুশি করা প্রয়োজন।

সাতক্ষীরার এক পরিবহনমালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, সরকার যখন লাইসেন্স দেয়, তখন সব সড়কে চালানোর অনুমতি থাকে। তবে সড়কে চলতে গেলে জেলার পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে খুশি করতে হয়। এটা না করলে নানা রকম বাধাবিপত্তি চলে।

সাতক্ষীরা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যেতে গেলে গোপালগঞ্জ জেলার মালিক সমিতি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ম্যানেজ করতে হবে, এ দাবি করে তিনি বলেন, তাদের কিছু দিতে হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। কিন্তু সেটা আমরা এখনো করতে পারিনি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আলোচনা করে আমরা রুটে পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করব। সেই প্রক্রিয়ায় আমরা রয়েছি।

সাতক্ষীরা এসপি গোল্ডেন লাইনের সাতক্ষীরা কাউন্টারের সহকারী ম্যানেজার মিলন কুমার রায় বলেন, আমাদের গাড়িগুলো সব দৌলতদিয়া-আরিচা ফেরিঘাট হয়ে ঢাকা যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে পদ্মা সেতু ওপর দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে যেসব যাত্রী গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী, সাইনবোর্ডসহ তার আশপাশে যাবে, তারা পদ্মা সেতু হয়ে যাবে না। কারণ, তাদের ওপাশ দিয়ে ঢাকা পৌঁছে অনেক ঘুরতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি তাহমিদ চয়নকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নিয়ম আছে জানিয়ে গোপালগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামিল সরোয়ার জানান, আলোচনা না করে কেউ পরিবহন এ সড়কে চালাতে পারবেন না, এটা নিয়ম। পদ্মা সেতু হয়ে যেতে গেলে এসে আলোচনা করুক, আবেদন করুক, আমরা অনুমতি দিয়ে দেব। কোন পরিবহন মালিক এ সড়কে গাড়ি নামাতে চাইলে তাকে আসতে বলুন। শুধু এখানে নয়, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর— এসব জেলার মালিক সমিতি থেকেও তাকে অনুমতি নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সড়কে চলাচলের জন্য বিআরটিএ অনুমতি দেয়। আমরা অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলের জন্য অনুমতি দিয়ে থাকি। যেসব পরিবহন মালিক ইতোমধ্যে অনুমতি নিয়েছেন, সেসব পরিবহন চলাচল করছে।

এদিকে ভোমরা স্থলবন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রাক পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোমরা বন্দরের ব্যবসায়ী নেতারা।

ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম খান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যবাহী ট্রাক পদ্মা সেতু হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছে। তবে কতগুলো ট্রাক গেল, সেটি এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

খুশি না করলে পদ্মা সেতুতে উঠতে পারছে না সাতক্ষীরার পরিবহন

আপডেট সময় ১২:৫৮:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুন ২০২২

পদ্মা সেতু চালু হলেও সাতক্ষীরা থেকে ঢাকাগামী সব পরিবহন এখনই পদ্মা সেতু পাড়ি দিতে পারছে না। গোপালগঞ্জ জেলা মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা না করে সড়কে পরিবহন দিতে পারছেন না সাতক্ষীরার পরিবহনমালিকরা।

পরিবহন মালিকের অভিযোগ, গোপালগঞ্জ বাসমালিক সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা না করে সেই পথে পরিবহন দিতে পারছেন না তারা। কারণ তাদের খুশি করা প্রয়োজন।

সাতক্ষীরার এক পরিবহনমালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, সরকার যখন লাইসেন্স দেয়, তখন সব সড়কে চালানোর অনুমতি থাকে। তবে সড়কে চলতে গেলে জেলার পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে খুশি করতে হয়। এটা না করলে নানা রকম বাধাবিপত্তি চলে।

সাতক্ষীরা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় যেতে গেলে গোপালগঞ্জ জেলার মালিক সমিতি সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ম্যানেজ করতে হবে, এ দাবি করে তিনি বলেন, তাদের কিছু দিতে হবে। তাদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। কিন্তু সেটা আমরা এখনো করতে পারিনি। দ্রুত সময়ের মধ্যেই আলোচনা করে আমরা রুটে পরিবহন চলাচলের ব্যবস্থা করব। সেই প্রক্রিয়ায় আমরা রয়েছি।

সাতক্ষীরা এসপি গোল্ডেন লাইনের সাতক্ষীরা কাউন্টারের সহকারী ম্যানেজার মিলন কুমার রায় বলেন, আমাদের গাড়িগুলো সব দৌলতদিয়া-আরিচা ফেরিঘাট হয়ে ঢাকা যাচ্ছে। আগামী ১ জুলাই থেকে পদ্মা সেতু ওপর দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। তবে যেসব যাত্রী গাবতলী, কল্যাণপুর, শ্যামলী, সাইনবোর্ডসহ তার আশপাশে যাবে, তারা পদ্মা সেতু হয়ে যাবে না। কারণ, তাদের ওপাশ দিয়ে ঢাকা পৌঁছে অনেক ঘুরতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে সাতক্ষীরা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি তাহমিদ চয়নকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে নিয়ম আছে জানিয়ে গোপালগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক কামিল সরোয়ার জানান, আলোচনা না করে কেউ পরিবহন এ সড়কে চালাতে পারবেন না, এটা নিয়ম। পদ্মা সেতু হয়ে যেতে গেলে এসে আলোচনা করুক, আবেদন করুক, আমরা অনুমতি দিয়ে দেব। কোন পরিবহন মালিক এ সড়কে গাড়ি নামাতে চাইলে তাকে আসতে বলুন। শুধু এখানে নয়, খুলনা, বাগেরহাট, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর— এসব জেলার মালিক সমিতি থেকেও তাকে অনুমতি নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সড়কে চলাচলের জন্য বিআরটিএ অনুমতি দেয়। আমরা অভ্যন্তরীণ রুটে চলাচলের জন্য অনুমতি দিয়ে থাকি। যেসব পরিবহন মালিক ইতোমধ্যে অনুমতি নিয়েছেন, সেসব পরিবহন চলাচল করছে।

এদিকে ভোমরা স্থলবন্দর থেকে পণ্যবাহী ট্রাক পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভোমরা বন্দরের ব্যবসায়ী নেতারা।

ভোমরা স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম খান বলেন, ভারত থেকে আমদানি করা পণ্যবাহী ট্রাক পদ্মা সেতু হয়ে রাজধানী ঢাকায় যাচ্ছে। তবে কতগুলো ট্রাক গেল, সেটি এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়।