ঢাকা ০৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিনু-দুলুসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০২১
  • ৪৬৭ বার পড়া হয়েছে

মিনু-দুলুসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

সিএনএম প্রতিবেদকঃ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর আদালত স্থানীয় বিএনপি চার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোসাব্বিরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাসিকের সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

বাদিপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার জানান, আদালত বাদীর মামলাটি গ্রহণ করেছেন এবং আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম মামলার বাদীর জবানবন্দীও গ্রহণ করেছেন। তবে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আদেশ দেননি। নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদেশ দেওয়া হবে।

গত ২ মার্চ রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশে আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়া বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কে কে ‘শেখ হাসিনার কবর দেখতে চান?’ হাত তুলতে বলেন। এছাড়া তারা কটাক্ষ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও। এর প্রতিবাদ করে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মিজানুর রহমান মিনুকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলেন। ক্ষমা না চাইলে আদালতে মামলা করার ঘোষণাও দেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার পর মিজানুর রহমান মিনু দলীয় নেতার মাধ্যমে স্থানীয় গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ক্ষমা না চাওয়ায় গত ৯ মার্চ মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার অনুমতি চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক সেটি প্রাথমিক তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে পাঠান। তদন্ত শেষে পুলিশ জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন দেয়। এরপর জেলা প্রশাসক মামলার আবেদনটি অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মন্ত্রণালয় মামলার অনুমতি দিয়ে আবেদনটি আবার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়। এরপর মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্রসহ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার আর্জিতে বলা হয়, গত ২ মার্চ রাজশাহী মহানগর বিএনপির সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হাসিনা রেডি হও, আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে, মনে নাই পঁচাত্তর সাল? পঁচাত্তর সাল মনে নাই?’
এজাহারে আরও বলা হয়, মিজানুর রহমান মিনুর এই ঘোষণার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উগ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। দলটির কিছু নেতাকর্মী সমাবেশের এই বক্তব্য ফেসবুকে লাইভ করেন। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ অন্যরাও একইভাবে বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করেন এবং বেআইনিভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি দেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

মিনু-দুলুসহ চারজনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা

আপডেট সময় ০১:০৯:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মার্চ ২০২১

সিএনএম প্রতিবেদকঃ

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর আদালত স্থানীয় বিএনপি চার শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা গ্রহণ করেছে।

মঙ্গলবার (১৬ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মহানগর আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোসাব্বিরুল ইসলাম মামলাটি দায়ের করেন।
আসামিরা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রাসিকের সাবেক মেয়র ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল হক মিলন।

বাদিপক্ষের আইনজীবী ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসলাম সরকার জানান, আদালত বাদীর মামলাটি গ্রহণ করেছেন এবং আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম মামলার বাদীর জবানবন্দীও গ্রহণ করেছেন। তবে আদালত তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আদেশ দেননি। নথিপত্র পর্যালোচনা করে আদেশ দেওয়া হবে।

গত ২ মার্চ রাজশাহীতে বিভাগীয় সমাবেশ করে বিএনপি। সমাবেশে আরেকটি ১৫ আগস্ট ঘটানোর ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু। এছাড়া বিএনপি নেতা আব্দুল লতিফ দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে কে কে ‘শেখ হাসিনার কবর দেখতে চান?’ হাত তুলতে বলেন। এছাড়া তারা কটাক্ষ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেও। এর প্রতিবাদ করে মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ মিজানুর রহমান মিনুকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চাইতে বলেন। ক্ষমা না চাইলে আদালতে মামলা করার ঘোষণাও দেন আওয়ামী লীগ নেতারা।

আল্টিমেটামের সময় শেষ হওয়ার পর মিজানুর রহমান মিনু দলীয় নেতার মাধ্যমে স্থানীয় গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠিয়ে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ক্ষমা না চাওয়ায় গত ৯ মার্চ মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার অনুমতি চেয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন করা হয়। জেলা প্রশাসক সেটি প্রাথমিক তদন্তের জন্য পুলিশের কাছে পাঠান। তদন্ত শেষে পুলিশ জেলা প্রশাসককে প্রতিবেদন দেয়। এরপর জেলা প্রশাসক মামলার আবেদনটি অনুমতির জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠান। মন্ত্রণালয় মামলার অনুমতি দিয়ে আবেদনটি আবার জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠায়। এরপর মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিপত্রসহ আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মামলার আর্জিতে বলা হয়, গত ২ মার্চ রাজশাহী মহানগর বিএনপির সমাবেশে মিজানুর রহমান মিনু হুমকি দিয়ে বলেন, ‘হাসিনা রেডি হও, আজ সন্ধ্যার সময়, কালকে সকাল তোমার নাও হতে পারে, মনে নাই পঁচাত্তর সাল? পঁচাত্তর সাল মনে নাই?’
এজাহারে আরও বলা হয়, মিজানুর রহমান মিনুর এই ঘোষণার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে উগ্রভাব ছড়িয়ে পড়ে। দলটির কিছু নেতাকর্মী সমাবেশের এই বক্তব্য ফেসবুকে লাইভ করেন। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুসহ অন্যরাও একইভাবে বক্তব্য দিয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ সৃষ্টি করেন এবং বেআইনিভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার উৎখাতের হুমকি দেন।