ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্ত্রীকে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে খুন, স্বামী গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মে ২০২২
  • ৩৩৭ বার পড়া হয়েছে

সালমা খাতুন

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্ত্রী সালমা খাতুনকে (২৪) ভারতে নিয়ে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে দেশে ফিরে আসেন স্বামী কামরুল ইসলাম। দেশে ফিরে তিনি প্রচার করতে থাকেন, স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলেছেন। তবে তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় বুধবার (১১ মে) যশোর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন সালমার বাবা শহিদুল ইসলাম। রাতে অভিযুক্ত কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। 

কামরুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলার বানিয়ারগাতী গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় সালমার বাবা শহিদুল ইসলাম বুধবার কোতোয়ালি মডেল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় রহস্য উদঘাটন ও ভিকটিমকে উদ্ধারের দায়িত্ব পায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, ভিকটিম সালমাকে ভারতের গুজরাটে বিক্রির চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে কামরুল দেশে পালিয়ে আসে। বুধবার রাতে পুলিশ বসুন্দিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কামরুলকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানিয়েছেন, স্ত্রী সালমাকে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ভারতের গুজরাটে নিয়ে বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সেখানে একটি ভাড়া বাসার মধ্যে নাকে-মুখে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে দেশে পালিয়ে আসেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তের তিনটি পাসপোর্ট, ভিকটিমের পাসপোর্ট ও ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত সালমা খাতুনের বাবা শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুই বছর আগে তার মেয়ের সঙ্গে পাশের গ্রামের কামরুলের বিয়ে হয়। তাদের সন্তান না হওয়ায় ডাক্তার দেখানোর নাম করে কামরুল ১৫ এপ্রিল সালমাকে ভারতে নিয়ে যায়। রোববার কামরুল ভারত থেকে ফিরে এসে তাদের জানায়, সালমাকে হারিয়ে ফেলেছে সে। এ সময় তার আচরণে সন্দেহ হলে পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

স্ত্রীকে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে খুন, স্বামী গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৩:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মে ২০২২

সালমা খাতুন

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে স্ত্রী সালমা খাতুনকে (২৪) ভারতে নিয়ে বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে দেশে ফিরে আসেন স্বামী কামরুল ইসলাম। দেশে ফিরে তিনি প্রচার করতে থাকেন, স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলেছেন। তবে তার আচরণ সন্দেহজনক হওয়ায় বুধবার (১১ মে) যশোর কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন সালমার বাবা শহিদুল ইসলাম। রাতে অভিযুক্ত কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। 

কামরুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলার বানিয়ারগাতী গ্রামের ইউনুস আলীর ছেলে।

এ ঘটনায় সালমার বাবা শহিদুল ইসলাম বুধবার কোতোয়ালি মডেল থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। ঘটনাটি চাঞ্চল্যকর হওয়ায় রহস্য উদঘাটন ও ভিকটিমকে উদ্ধারের দায়িত্ব পায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশ। পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, ভিকটিম সালমাকে ভারতের গুজরাটে বিক্রির চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে কামরুল দেশে পালিয়ে আসে। বুধবার রাতে পুলিশ বসুন্দিয়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে কামরুলকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানিয়েছেন, স্ত্রী সালমাকে চাকরির প্রলোভন দিয়ে ভারতের গুজরাটে নিয়ে বিক্রির চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। সেখানে একটি ভাড়া বাসার মধ্যে নাকে-মুখে আঘাত ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে দেশে পালিয়ে আসেন। এ ঘটনায় অভিযুক্তের তিনটি পাসপোর্ট, ভিকটিমের পাসপোর্ট ও ভিকটিমের মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত সালমা খাতুনের বাবা শহিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দুই বছর আগে তার মেয়ের সঙ্গে পাশের গ্রামের কামরুলের বিয়ে হয়। তাদের সন্তান না হওয়ায় ডাক্তার দেখানোর নাম করে কামরুল ১৫ এপ্রিল সালমাকে ভারতে নিয়ে যায়। রোববার কামরুল ভারত থেকে ফিরে এসে তাদের জানায়, সালমাকে হারিয়ে ফেলেছে সে। এ সময় তার আচরণে সন্দেহ হলে পুলিশে অভিযোগ দেওয়া হয়।