ঢাকা ১০:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ মার্চ ২০২২
  • ২৬৬ বার পড়া হয়েছে

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ মার্চ) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবস‌টি উদযাপন করা হয়।

স্থায়ী মিশন জানায়, করোনার দীর্ঘ বিরতির পর সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সশরীরে মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের বর্ণিল এই আয়োজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক সফররত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা।

এছাড়া মাথাপিছু আয়, জিডিপির ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তু‌লে ধ‌রেন প্রতিমন্ত্রী।

পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন। সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সকল আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী জাতির পিতার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৩ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ত্রিশ লাখ শহীদ আর দু’লাখ নির্যাতিত মা-বোনের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা অর্জন করি লাল-সবুজের পতাকা, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

দেশগঠনে প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি জানিয়ে তিনি জাতির পিতার স্বপ্নের সেনার বাংলা বিনির্মাণে প্রবাস থেকে আরও অবদান রাখার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকে বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত নাম। বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে।

স্থায়ী প্রতিনিধি ব‌লেন, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে ইউএন উইমেন নির্বাহী বোর্ড, পিসবিল্ডিং কমিশন, অভিবাসনসহ বেশ কিছু সংস্থা ও প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব প্রদান করছে। এছাড়া বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ রেজ্যুলেশন পেশ করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ এখন সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ পদচারণার স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার লাভ করেছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনার আগে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পবিত্র আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতিসংঘে স্বাধীনতা দিবস উদযাপন

আপডেট সময় ১১:২৬:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ মার্চ ২০২২

যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ মার্চ) জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে দিবস‌টি উদযাপন করা হয়।

স্থায়ী মিশন জানায়, করোনার দীর্ঘ বিরতির পর সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সশরীরে মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের বর্ণিল এই আয়োজন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন নিউইয়র্ক সফররত মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা।

এছাড়া মাথাপিছু আয়, জিডিপির ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন, গড় আয়ু বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান তু‌লে ধ‌রেন প্রতিমন্ত্রী।

পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশসমূহের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার তুলনামূলক তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণ ও তার বাস্তবায়ন। সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে সকল আন্তর্জাতিক পুরস্কার পেয়েছেন তা উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী জাতির পিতার নেতৃত্বে দীর্ঘ ২৩ বছরের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামের মহানায়ক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ত্রিশ লাখ শহীদ আর দু’লাখ নির্যাতিত মা-বোনের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা অর্জন করি লাল-সবুজের পতাকা, স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

দেশগঠনে প্রবাসীদের অবদানের স্বীকৃতি জানিয়ে তিনি জাতির পিতার স্বপ্নের সেনার বাংলা বিনির্মাণে প্রবাস থেকে আরও অবদান রাখার আহ্বান জানান।

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, স্বাধীনতার পাঁচ দশকে বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিশ্বস্ত নাম। বিশ্ব শান্তিরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য, নারীর ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকা পালন করছে।

স্থায়ী প্রতিনিধি ব‌লেন, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বাংলাদেশ এই মুহূর্তে ইউএন উইমেন নির্বাহী বোর্ড, পিসবিল্ডিং কমিশন, অভিবাসনসহ বেশ কিছু সংস্থা ও প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব প্রদান করছে। এছাড়া বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ রেজ্যুলেশন পেশ করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ এখন সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের বলিষ্ঠ পদচারণার স্বীকৃতি স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও পুরস্কার লাভ করেছেন।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংবর্ধনার আগে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ সময় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পবিত্র আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করা হয়।