ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে পতিতালয়ে বিক্রির চেষ্টা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১১:০০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • ৫৮ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

ঢাকার ধামরাই থেকে বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে (১৯) ফরিদপুরে এনে পতিতালয়ে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের রথখোলা পতিতাপল্লী এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
শুক্রবার ( ২২ মে) মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাড়ি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায়। তিনি ঢাকার ধামরাই এলাকায় মায়ের সঙ্গে থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
ধামরাইয়ে বাসা ভাড়া থাকার সুবাদে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় মনির শেখ (৩০), আলম ফকির (২০) ও মুন্নি (২০) নামের তিন ব্যক্তির। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাকে ভালো চাকরি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফরিদপুরে নিয়ে আসে ওই চক্রটি।
গত ১৪ মে অভিযুক্তরা ওই তরুণীকে ফরিদপুর শহরের শিবরামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এনে আটকে রাখে। গতকাল ২১ মে সকালে তাকে বিক্রির উদ্দেশ্যে কোতোয়ালি থানাধীন রথখোলা পতিতাপল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তরুণীর চিৎকার ও স্থানীয়দের প্রতিরোধ
পতিতাপল্লীর সামনে পৌঁছানোর পর তরুণী বুঝতে পারেন যে তাকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ভেতরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তরুণী চিৎকার করে দৌড়ে পালিয়ে পতিতাপল্লীর সামনের একটি দোকানে আশ্রয় নেন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে ওই তিন অভিযুক্তকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তানিয়া ও দুখু নামে আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে, যারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ ২২ মে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি (মামলা নং-৭৮) রুজু করা হয়। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ এর ১০(১), ১০(২), ১১(১) ও ১১(২) ধারায় এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

আগামী সপ্তাহে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করবেন লতিফ সিদ্দিকী

বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণীকে পতিতালয়ে বিক্রির চেষ্টা

আপডেট সময় ১১:০০:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

সিএনএমঃ

ঢাকার ধামরাই থেকে বিয়ে ও ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীকে (১৯) ফরিদপুরে এনে পতিতালয়ে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের রথখোলা পতিতাপল্লী এলাকা থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ।
শুক্রবার ( ২২ মে) মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশে পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই তরুণীর বাড়ি বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলায়। তিনি ঢাকার ধামরাই এলাকায় মায়ের সঙ্গে থেকে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন।
ধামরাইয়ে বাসা ভাড়া থাকার সুবাদে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় মনির শেখ (৩০), আলম ফকির (২০) ও মুন্নি (২০) নামের তিন ব্যক্তির। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাকে ভালো চাকরি ও বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফরিদপুরে নিয়ে আসে ওই চক্রটি।
গত ১৪ মে অভিযুক্তরা ওই তরুণীকে ফরিদপুর শহরের শিবরামপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এনে আটকে রাখে। গতকাল ২১ মে সকালে তাকে বিক্রির উদ্দেশ্যে কোতোয়ালি থানাধীন রথখোলা পতিতাপল্লীতে নিয়ে যাওয়া হয়।
তরুণীর চিৎকার ও স্থানীয়দের প্রতিরোধ
পতিতাপল্লীর সামনে পৌঁছানোর পর তরুণী বুঝতে পারেন যে তাকে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি ভেতরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তরুণী চিৎকার করে দৌড়ে পালিয়ে পতিতাপল্লীর সামনের একটি দোকানে আশ্রয় নেন।
বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় জনতা তাৎক্ষণিকভাবে ওই তিন অভিযুক্তকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
কোতোয়ালি থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় তানিয়া ও দুখু নামে আরও দুইজনকে আসামি করা হয়েছে, যারা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ ২২ মে কোতোয়ালি থানায় মামলাটি (মামলা নং-৭৮) রুজু করা হয়। মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৬ এর ১০(১), ১০(২), ১১(১) ও ১১(২) ধারায় এই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।