সিএনএমঃ
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জের ধরে বটি দিয়ে স্বামী ইসমাইল গাজীর গোপনাঙ্গ কেটেছেন তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা খাতুন। কর্তন করা গোপনাঙ্গসহ আহত স্বামীকে হাসপাতালেও নিয়েছেন স্ত্রী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ইসমাইল গাজীর স্ত্রী নাজমা খাতুনকে (৩২) হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। আহত ইসমাইল গাজী সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ইসমাইল গাজী নিজ বাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে তার দ্বিতীয় স্ত্রী নাজমা খাতুনের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ২টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় নাজমা খাতুন ধারালো বটি দিয়ে তার স্বামীর গোপনাঙ্গ কেরে দেন। এ সময় চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ইসমাইল গাজীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকির হোসেন জানিয়েছেন, ইসমাইল গাজীর গোপনাঙ্গ কেটে গেছে। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নাজমা খাতুন কর্তন করা গোপনাঙ্গ হাতে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে আসেন। সেখানে ইসমাইল গাজীর ভাইসহ প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা নাজমা খাতুনকে হাসপাতালে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে শ্যামনগর থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় রেজাউল ইসলাম জানিয়েছেন, ইসমাইল গাজী একাধিক বিয়ে করেছেন। তার বড় স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে কৈখালী এলাকায় থাকেন। তিন দিন আগে তার বড় স্ত্রী ভুরুলিয়ার সিরাজপুরের বাড়িতে আসাকে কেন্দ্র করে ছোট স্ত্রী নাজমা খাতুনের সঙ্গে বিরোধ হয়। ধারণা করা হচ্ছে, সেই বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানিয়েছেন, ভুরুলিয়ার সিরাজপুর এলাকায় স্বামীর গোপনাঙ্গ কাটার ঘটনায় নাজমা খাতুনকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।
তিনি আরো জানান, নাজমা খাতুন এর আগেও ২০১৭ সালে শ্যামনগর পৌরসভার নকিপুর বাজারের এক ব্যবসায়ীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিয়েছিলেন।