ঢাকা ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষার সম্প্রসারণই দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ ছিনতাইকারী গ্রেফতার জার্সিতে ‘ভোজিনহা’ নামেই খেলবেন কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ৬ হাজার ৯৪০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারি গ্রেফতার এক বছরেই ৩০ পারা মুখস্থ, হাফেজ হলো ৮ বছরের আব্দুর রহমান লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে টোল নেবে না হুথিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য এস আলম গ্রুপের ১১ কারখানা বন্ধ র‍্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও প্রসিকিউশন টিম চারদিক বন্যার পানিতে ডুবলেও ডুবে না ক্লাস্টার বসতভিটা

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৯৪৯৭ প্রবাসী আটক

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:৩২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • ১২২ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ
মালয়েশিয়ায় সামাজিক ভিজিট পাস এবং অন্যান্য অস্থায়ী ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে ৯ হাজার ৪৯৭ জন প্রবাসীকে আটক করেছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত ২ হাজার ৬১৮টি পৃথক অভিযানে এসব প্রবাসীকে আটক করা হয়। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক হওয়া অনেকেই সামাজিক ভিজিট পাস ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করা কিংবা পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ধরা পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটকদের মধ্যে ১ হাজার ১৫৮ জনকে ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩–এর ধারা ৩৯(বি) অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ধারায় পাসের শর্ত লঙ্ঘন করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে আটক হওয়া অনেক প্রবাসী অস্থায়ী কর্ম ভিজিট পাস কিংবা সামাজিক ভিজিট পাস নিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করলেও তারা এমন কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন, যা তাদের পাসের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫৩২ জন, থাইল্যান্ডের ২৪৮ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১১১ জন, চীনের ৮৬ জন এবং পাকিস্তানের ৫১ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া পিএলএস অপব্যবহারের অভিযোগেও মোট ৪৮২ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে থাইল্যান্ডের নাগরিক ২৩৫ জন, বাংলাদেশের ৮৩ জন, চীনের ৬২ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৬২ জন, পাকিস্তানের ১৩ জন এবং অন্যান্য দেশের ২৭ জন নাগরিক রয়েছেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, আটক হওয়া কিছু বিদেশি নাগরিক অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। অথচ তাদের ব্যবহৃত পাসের শর্ত অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অনুমতি ছিল না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩–এর ধারা ৩৯(বি) অনুযায়ী স্পষ্টভাবে পাসের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন আইন অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা আইন লঙ্ঘন করবেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আদালতে মামলা দায়ের, জরিমানা এবং মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জনসাধারণকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো বিদেশি নাগরিক যদি অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে কাজ করেন—এমন তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত ইমিগ্রেশন বিভাগকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, জনসাধারণের সহযোগিতা পেলে অবৈধ অভিবাসন এবং ভিসা অপব্যবহারের মতো অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান ও কাজ করা বিদেশিদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং থেকে ছিটকে সমুদ্রে পড়ে পর্যটকের মৃত্যু

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৯৪৯৭ প্রবাসী আটক

আপডেট সময় ০৩:৩২:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ
মালয়েশিয়ায় সামাজিক ভিজিট পাস এবং অন্যান্য অস্থায়ী ভিসা অপব্যবহারের অভিযোগে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে ৯ হাজার ৪৯৭ জন প্রবাসীকে আটক করেছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দেশজুড়ে পরিচালিত ২ হাজার ৬১৮টি পৃথক অভিযানে এসব প্রবাসীকে আটক করা হয়। ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, আটক হওয়া অনেকেই সামাজিক ভিজিট পাস ব্যবহার করে অবৈধভাবে কাজ করা কিংবা পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ধরা পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) এক বিবৃতিতে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান জানান, আটকদের মধ্যে ১ হাজার ১৫৮ জনকে ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩–এর ধারা ৩৯(বি) অনুযায়ী গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ধারায় পাসের শর্ত লঙ্ঘন করা একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে যে আটক হওয়া অনেক প্রবাসী অস্থায়ী কর্ম ভিজিট পাস কিংবা সামাজিক ভিজিট পাস নিয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করলেও তারা এমন কার্যক্রমে জড়িত ছিলেন, যা তাদের পাসের শর্তের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অনেক ক্ষেত্রে তারা অনুমতি ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কিংবা ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৫৩২ জন, থাইল্যান্ডের ২৪৮ জন, ইন্দোনেশিয়ার ১১১ জন, চীনের ৮৬ জন এবং পাকিস্তানের ৫১ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব অভিবাসীর বিরুদ্ধে পাসের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া পিএলএস অপব্যবহারের অভিযোগেও মোট ৪৮২ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে থাইল্যান্ডের নাগরিক ২৩৫ জন, বাংলাদেশের ৮৩ জন, চীনের ৬২ জন, ইন্দোনেশিয়ার ৬২ জন, পাকিস্তানের ১৩ জন এবং অন্যান্য দেশের ২৭ জন নাগরিক রয়েছেন।
ইমিগ্রেশন বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গেছে, আটক হওয়া কিছু বিদেশি নাগরিক অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় যুক্ত ছিলেন। অথচ তাদের ব্যবহৃত পাসের শর্ত অনুযায়ী এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অনুমতি ছিল না। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইমিগ্রেশন রেগুলেশন ১৯৬৩–এর ধারা ৩৯(বি) অনুযায়ী স্পষ্টভাবে পাসের শর্ত ভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়।
মহাপরিচালক জাকারিয়া শাবান বলেন, মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন আইন অপব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা আইন লঙ্ঘন করবেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও জানান, ইমিগ্রেশন আইন ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আদালতে মামলা দায়ের, জরিমানা এবং মালয়েশিয়া থেকে বহিষ্কারসহ বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ইমিগ্রেশন বিভাগ জনসাধারণকেও এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কোনো বিদেশি নাগরিক যদি অবৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা বা ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে কাজ করেন—এমন তথ্য জানা থাকলে তা দ্রুত ইমিগ্রেশন বিভাগকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, জনসাধারণের সহযোগিতা পেলে অবৈধ অভিবাসন এবং ভিসা অপব্যবহারের মতো অপরাধ দমনে আরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বৈধভাবে মালয়েশিয়ায় অবস্থান ও কাজ করা বিদেশিদের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।