ঢাকা ০৯:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কে জানত এটাই মিঠুর সঙ্গে আমার শেষ দেখা!

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১০:১৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুন ২০২২
  • ২২৫ বার পড়া হয়েছে

ইনসেটে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের লিডার আতিকুর রহমান।

‘সীতাকুণ্ডের কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র লিডার মিঠু দেওয়ান। বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার দিন রাতেই ফেরেন গ্রামের বাড়ি রাঙ্গামাটি থেকে। বাড়ি থেকে জুমের আনারস এনেছিলেন আমাদের সবার জন্য। আমাকে বলেছিলেন, ট্রেনিংয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন ভালো কথা, সঙ্গে দুটি আনারস নিয়ে যান। খেয়ে অনেক মজা পাবেন। চট্টগ্রামে এগুলো পাবেন না। কে জানত এটাই হবে তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা।’

বিএম কনটেইনার ডিপোতে লাগা আগুন মারা যাওয়া সহকর্মীদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের আরেক লিডার আতিকুর রহমান।

আতিকুর রহমান বলেন, মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যে মানুষগুলোর পদচারণায় অফিস সারাদিন মুখরিত থাকত, তাদের অনেকেই আজ নেই। আগুন নেভাতে কুমিরা ফায়ার স্টেশন থেকে ১৫ জন কর্মী সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন এক জন নিখোঁজ। ৬ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

‘মাত্র ৩-৪ জন কর্মী নিয়ে এই কঠিন অবস্থার মধ্যে অফিস চালাতে হচ্ছে। কাজের মধ্যে বার বার প্রিয় সহকর্মীদের মুখগুলো ভেসে উঠছিল। ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করলে কী হবে, আমরাও মানুষ। আমাদেরও কষ্ট লাগে। কিন্তু সেটা সবাইকে বুঝতে দেওয়া যায় না।নিজেকে ঠিক রাখতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’

তিনি বলেন, কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা বার বার এসে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন। সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বিএম কনটেইনার ডিপো ২৪ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি মূলত পণ্য রপ্তানিতে কাজ করে। এখান থেকে পণ্য রপ্তানির জন্য কনটেইনারগুলো প্রস্তুত করে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। ৩৮ ধরনের পণ্য রপ্তানিতে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। ঘটনার সময় সেখানে ৫০ হাজার কনটেইনার ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় অন্তত ২০০ শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে সেখানে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ তখন ছিলেন তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

কে জানত এটাই মিঠুর সঙ্গে আমার শেষ দেখা!

আপডেট সময় ১০:১৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুন ২০২২

ইনসেটে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের লিডার আতিকুর রহমান।

‘সীতাকুণ্ডের কুমিরা ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র লিডার মিঠু দেওয়ান। বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন লাগার দিন রাতেই ফেরেন গ্রামের বাড়ি রাঙ্গামাটি থেকে। বাড়ি থেকে জুমের আনারস এনেছিলেন আমাদের সবার জন্য। আমাকে বলেছিলেন, ট্রেনিংয়ে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন ভালো কথা, সঙ্গে দুটি আনারস নিয়ে যান। খেয়ে অনেক মজা পাবেন। চট্টগ্রামে এগুলো পাবেন না। কে জানত এটাই হবে তার সঙ্গে আমার শেষ দেখা।’

বিএম কনটেইনার ডিপোতে লাগা আগুন মারা যাওয়া সহকর্মীদের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের আরেক লিডার আতিকুর রহমান।

আতিকুর রহমান বলেন, মেনে নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যে মানুষগুলোর পদচারণায় অফিস সারাদিন মুখরিত থাকত, তাদের অনেকেই আজ নেই। আগুন নেভাতে কুমিরা ফায়ার স্টেশন থেকে ১৫ জন কর্মী সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৬ জন মারা গেছেন এক জন নিখোঁজ। ৬ জন আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।

‘মাত্র ৩-৪ জন কর্মী নিয়ে এই কঠিন অবস্থার মধ্যে অফিস চালাতে হচ্ছে। কাজের মধ্যে বার বার প্রিয় সহকর্মীদের মুখগুলো ভেসে উঠছিল। ফায়ার সার্ভিসে চাকরি করলে কী হবে, আমরাও মানুষ। আমাদেরও কষ্ট লাগে। কিন্তু সেটা সবাইকে বুঝতে দেওয়া যায় না।নিজেকে ঠিক রাখতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’

তিনি বলেন, কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দারা খুবই আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তারা বার বার এসে আমাদের খোঁজ নিয়েছেন। সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন।

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বিএম কনটেইনার ডিপো ২৪ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি মূলত পণ্য রপ্তানিতে কাজ করে। এখান থেকে পণ্য রপ্তানির জন্য কনটেইনারগুলো প্রস্তুত করে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। ৩৮ ধরনের পণ্য রপ্তানিতে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। ঘটনার সময় সেখানে ৫০ হাজার কনটেইনার ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় অন্তত ২০০ শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে সেখানে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ তখন ছিলেন তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি।