ঢাকা ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিতীয় দফায় দুদকের মুখোমুখি আইডিয়ালের আতিকুর

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০২:০৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২
  • ২০৪ বার পড়া হয়েছে

ভর্তিবাণিজ্য, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা ও সংস্কার কাজ করাসহ বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আলোচিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান খান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হয়েছেন।

বুধবার (২৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক মো. সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। টিমের অপর সদস্য সহকারী পরিচালক মাহবুবুর আলম।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তিবাণিজ্য, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা ও সংস্কারকাজ করাসহ বিভিন্ন খাত থেকে বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগের সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি গঠন ও কার্যক্রমে দুর্নীতির যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছে দুদক। গত ১৬ মে তাদেরকে তলব করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

তলবি নোটিশ ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিয়ালের আলোচিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদকের চিঠি এখনো হাতে পাইনি। ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানির বয়স ৬ বছর। আমি কোম্পানির ফাউন্ডার এমডি। শরীফ মোস্তাক একসময় চেয়ারম্যান ছিলেন, এখন নেই। বর্তমানে আমার নেতৃত্বে কর্মকাণ্ড চলছে। আফতাব নগরে বেশকিছু কাজ করেছি, এখনো কিছু কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড আমার প্রতিষ্ঠান। এটা অস্বীকার করছি না। তবে আমি ঋণ নিয়ে কাজ করছি। ব্যবসা করা কোনো অপরাধ নয়। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ব্যবসার মাধ্যমে আমি একটা অবস্থান তৈরি করেছি। এ বিষয়টি অনেকের ভালো লাগছে না।

আতিকুর রহমানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ‘ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানির খোঁজ পায়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোম্পানিটির সঙ্গে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগমের ছেলে শরীফ মোস্তাক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান ও তার স্ত্রী নিপার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। কীভাবে কোম্পানিটি চলছে, এর মূলধন কোথা থেকে এল, ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ে আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে হয়েছে কি না এবং কোম্পানি সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র যথাযথ রয়েছে কি না ইত্যাদি বিষয়ে জানতেই তাদের তলব করা হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির অভিযোগে প্রথমবারের মতো আতিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ওই বছরের ৮ আগস্ট দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০২১ সালের ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আতিকুর রহমান খান ২০০৪ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগ দেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কোনো পদ নেই। অবৈধভাবে এ পদ সৃষ্টি করে অধ্যক্ষ শাহান আরা তাকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেশের ১৫টি ব্যাংকে আতিকুর রহমানের ৯৭টি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অ্যাকাউন্টে ২০০৭ সাল থেকে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১১০ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ টাকা লেনদেন হয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধ ভর্তিসহ সব বাণিজ্যের প্রধান আতিকুর রহমান। তিনটি ক্যাম্পাসের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর ড্রেস তৈরি, ক্যান্টিন, লাইব্রেরি সবই তার নিয়ন্ত্রণে। এমনকি স্কুলের সামনে ফুটপাতে শতাধিক দোকান বসিয়েও তিনি আয় করেন মোটা অংকের টাকা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে যত ধরনের কেনাকাটা, উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ হয়, তার সবই করেন আতিক ও তার লোকেরা। দরপত্রেও অংশ নেয় নামে-বেনামে তারই প্রতিষ্ঠান। সেখানে চলে বড় ধরনের লুটপাট। গত ১২ বছরে প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং কর্মচারী নিয়োগে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় দফায় দুদকের মুখোমুখি আইডিয়ালের আতিকুর

আপডেট সময় ০২:০৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২

ভর্তিবাণিজ্য, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা ও সংস্কার কাজ করাসহ বিভিন্ন খাত থেকে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আলোচিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান খান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্বিতীয় দফায় মুখোমুখি হয়েছেন।

বুধবার (২৫ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির পরিচালক মো. সফিকুর রহমান ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। টিমের অপর সদস্য সহকারী পরিচালক মাহবুবুর আলম।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তিবাণিজ্য, প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটা ও সংস্কারকাজ করাসহ বিভিন্ন খাত থেকে বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে। ওই অভিযোগের সঙ্গে ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি গঠন ও কার্যক্রমে দুর্নীতির যোগসূত্র রয়েছে বলে মনে করছে দুদক। গত ১৬ মে তাদেরকে তলব করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।

তলবি নোটিশ ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিয়ালের আলোচিত উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, দুদকের চিঠি এখনো হাতে পাইনি। ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড কোম্পানির বয়স ৬ বছর। আমি কোম্পানির ফাউন্ডার এমডি। শরীফ মোস্তাক একসময় চেয়ারম্যান ছিলেন, এখন নেই। বর্তমানে আমার নেতৃত্বে কর্মকাণ্ড চলছে। আফতাব নগরে বেশকিছু কাজ করেছি, এখনো কিছু কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড আমার প্রতিষ্ঠান। এটা অস্বীকার করছি না। তবে আমি ঋণ নিয়ে কাজ করছি। ব্যবসা করা কোনো অপরাধ নয়। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে। ব্যবসার মাধ্যমে আমি একটা অবস্থান তৈরি করেছি। এ বিষয়টি অনেকের ভালো লাগছে না।

আতিকুর রহমানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ‘ভিশন-৭১ ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড’ নামের একটি কোম্পানির খোঁজ পায়। দুদকের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কোম্পানিটির সঙ্গে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বেগমের ছেলে শরীফ মোস্তাক, উপ-সহকারী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান ও তার স্ত্রী নিপার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। কীভাবে কোম্পানিটি চলছে, এর মূলধন কোথা থেকে এল, ফ্ল্যাট ক্রয়-বিক্রয়ে আর্থিক লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে হয়েছে কি না এবং কোম্পানি সংশ্লিষ্ট সব নথিপত্র যথাযথ রয়েছে কি না ইত্যাদি বিষয়ে জানতেই তাদের তলব করা হয়েছে।

এর আগে ২০২১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির অভিযোগে প্রথমবারের মতো আতিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দুদক। ওই বছরের ৮ আগস্ট দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আতিকুর রহমান খানের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আদালত। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর ২০২১ সালের ৩ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তা তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

আতিকুর রহমান খান ২০০৪ সালে মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদে যোগ দেন। ২০১৫ সাল থেকে তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এমপিওভুক্ত উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে প্রশাসনিক কর্মকর্তার কোনো পদ নেই। অবৈধভাবে এ পদ সৃষ্টি করে অধ্যক্ষ শাহান আরা তাকে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেশের ১৫টি ব্যাংকে আতিকুর রহমানের ৯৭টি অ্যাকাউন্টের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব অ্যাকাউন্টে ২০০৭ সাল থেকে ২০২১ সালের ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১১০ কোটি ৬৯ লাখ ৯২ হাজার ৩৯২ টাকা লেনদেন হয়েছে।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অবৈধ ভর্তিসহ সব বাণিজ্যের প্রধান আতিকুর রহমান। তিনটি ক্যাম্পাসের প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থীর ড্রেস তৈরি, ক্যান্টিন, লাইব্রেরি সবই তার নিয়ন্ত্রণে। এমনকি স্কুলের সামনে ফুটপাতে শতাধিক দোকান বসিয়েও তিনি আয় করেন মোটা অংকের টাকা। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে যত ধরনের কেনাকাটা, উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ হয়, তার সবই করেন আতিক ও তার লোকেরা। দরপত্রেও অংশ নেয় নামে-বেনামে তারই প্রতিষ্ঠান। সেখানে চলে বড় ধরনের লুটপাট। গত ১২ বছরে প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ১০ লাখ টাকা এবং কর্মচারী নিয়োগে দুই থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয়েছে।