ঢাকা ০৩:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে পাগলার অপরাধ জগত

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০১:০৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মার্চ ২০২১
  • ৫৩৮ বার পড়া হয়েছে

দুই ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে পাগলার অপরাধ জগত

সিএনএম ২৪ডটকমঃ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা-কুতুবপুরের বটতলা, বউবাজার, শাহী মহলা, আকনপট্টি, প্যারাডাইস সিটি ও মল্লিকের মাঠ সহ আশপাশ এলাকা অপরাধ আর অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। আর এই সব এলাকার অপরাধীদের নেতৃত্ব দিচ্ছে সহোদর দুই ভাই লিমন ও আরমান। ক্ষমতাসীন দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে লিমন ও ইমরান পাগলা বটতলায় ব্যক্তিগত কার্যালয় বসে নিয়ন্ত্রন করছে অপরাধীদের। এক শ্রেনীর পেশাদার অপরাধীদের ব্যবহার করে এলাকাজুড়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, নারী দিয়ে ব্ল্যাক মেইলিং, বিচার-শালিসীর নামে অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদাবাজীসহ সবই করছে। তাদের কারণে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জবিন-যাত্রা ব্যহত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, লিমন ও ইমরানের হাতে কেউ নির্যাতিত বা ক্ষতিগ্রস্থ হলে ভয়ে কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করেন না।
এলাকাবাসীর তথ্য মতে, ক্ষমতাসীন দলের ব্যানারে লিমন ও ইমরান এবং তাদের সহোযোগিরা উল্লেখিত এলাকাজুড়ে কায়েম করেছে ত্রাসের রাম-রাজত্ব। গড়ে তুলেছে বিশাল মাদকের বাজার। এলাকাগুলোতে অতিতের যে কোন সময়ের চাইতে বর্তমানে মাদক হয়ে উঠেছে অতিমাত্রায় সহজলভ্য। প্রতিটি অলি-গলিতে হাত বাড়ালেই মিলছে হালের ক্রেজ খ্যাত ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, ফেনসিডিল, দেশীয় তৈরী মদ, বিয়ার ও হেরোইন সহ নানা মাদকদ্রব্য।
মাদক ব্যবসার পাশাপাশি লিমন-ইমরান বাহিনীর সদস্যরা নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের নামে চাঁদাবাজী, বিচার-শালিসীর নামে অর্থ আত্মসাৎ, সুন্দরী নারী-তরুণী দিয়ে ফ্ল্যাট ব্যবসার পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ধনী, টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাক মেইলিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ আদায়ের মতো ভয়ংকর সব অপরাধের জন্ম দিয়ে কামিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। থানা পুলিশের কথিত সোর্সরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদেরকে সহোযোগিতা করে থাকে।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র মতে, এ সকল অপরাধীদের সাথে থানা পুলিশের বেশ কয়েক কর্মকর্তার সাথে রয়েছে গভীর সখ্যতা। সে সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রায় রাতেই দেখা যায়, পাগলা রেললাইন বটতলাস্থ লিমন-ইমরানের অফিসে খোশগল্পে মেতে থাকতে। লিমন-ইমনের রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী তার উপর পুলিশের সাথে গভীর সখ্যতা রয়েছে। ফলে নির্যাতিত ভুক্তভোগীদের কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও নতুন করে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর রোষানলের শিকার হবার ভয়ে প্রতিবাদ বা আইনি সাহায্য গ্রহণ করার সাহস টুকু পর্যন্ত করেন না।
তথ্য মতে, বউবাজার, বটতলা, শাহীবাজার, আকনপট্টি, প্যারাডাইস সিটি ও মল্লিকের মাঠ সহ আশপাশ এলাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে ইমরান-লিমনের রয়েছে বিশাল এক বাহিনী। এই বাহিনীর উল্লেখ্যযোগ্যরা হলো- ইমরানের ডান হাত খ্যাত ইব্রাহিম ওরফে ডিলার ইব্রাহিম, সামাদ, কালা চাঁন, ফোটনা রাসেল, ইমরানের চাচাতো ভাই ইয়াবা ব্যবসায়ী নাঈম। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাং লিডার সোহান ওরফে ভাগ্নে সোহান, চাঁদ সিকদারের ভাই জসিম, বউবাজারের ফেন্সিডিলের ডিলার, সোহানের বাবা কালা জাহাঙ্গীর, ইয়াবার ডিলার ফারদিন, সাইফুল, গেমস লিটন, প্লাবন মানিক, সাইফুল ও মোস্তফা।
এছাড়া উল্লেখযোগ্যরা হলো- নাবিল, মদ রনি, জিয়া, লিটন, মোজাম্মেল, গোলাপ, সিরাজ,জাকির, শাওন ডিজে রাকিব, রবি রায়হান, রকি, মোক্তার, ফারদীন ও এসকে শরীফ এরা সকলেই উলে¬খিত এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও এদের প্রায় সবাই কিশোর গ্যাং সদস্য এবং মাদকাসক্ত।
স্থানীয় সকল পেশাজীবি মহলের দাবী ছাত্রলীগ নামধারী ইমরান-লিমন সহ উল্লেখিত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হলে অনেকাংশেই নির্মূল হবে পাগলার রেললাইন বটতলা, শাহী মহল্লা, আকনপট্টি, প্যারাডাইস সিটি ও মল্লিকের মাঠ সহ আশপাশ এলাকার অপরাধ। আর তাই তাদেরকে গ্রেফতারে জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণে পাগলার অপরাধ জগত

আপডেট সময় ০১:০৪:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ মার্চ ২০২১

সিএনএম ২৪ডটকমঃ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার পাগলা-কুতুবপুরের বটতলা, বউবাজার, শাহী মহলা, আকনপট্টি, প্যারাডাইস সিটি ও মল্লিকের মাঠ সহ আশপাশ এলাকা অপরাধ আর অপরাধীদের অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে। আর এই সব এলাকার অপরাধীদের নেতৃত্ব দিচ্ছে সহোদর দুই ভাই লিমন ও আরমান। ক্ষমতাসীন দলের সাইনবোর্ড ব্যবহার করে লিমন ও ইমরান পাগলা বটতলায় ব্যক্তিগত কার্যালয় বসে নিয়ন্ত্রন করছে অপরাধীদের। এক শ্রেনীর পেশাদার অপরাধীদের ব্যবহার করে এলাকাজুড়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি, নারী দিয়ে ব্ল্যাক মেইলিং, বিচার-শালিসীর নামে অর্থ আত্মসাৎ, চাঁদাবাজীসহ সবই করছে। তাদের কারণে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জবিন-যাত্রা ব্যহত হচ্ছে। শুধু তাই নয়, লিমন ও ইমরানের হাতে কেউ নির্যাতিত বা ক্ষতিগ্রস্থ হলে ভয়ে কেউ টু শব্দটি পর্যন্ত করেন না।
এলাকাবাসীর তথ্য মতে, ক্ষমতাসীন দলের ব্যানারে লিমন ও ইমরান এবং তাদের সহোযোগিরা উল্লেখিত এলাকাজুড়ে কায়েম করেছে ত্রাসের রাম-রাজত্ব। গড়ে তুলেছে বিশাল মাদকের বাজার। এলাকাগুলোতে অতিতের যে কোন সময়ের চাইতে বর্তমানে মাদক হয়ে উঠেছে অতিমাত্রায় সহজলভ্য। প্রতিটি অলি-গলিতে হাত বাড়ালেই মিলছে হালের ক্রেজ খ্যাত ইয়াবা ট্যাবলেট, গাঁজা, ফেনসিডিল, দেশীয় তৈরী মদ, বিয়ার ও হেরোইন সহ নানা মাদকদ্রব্য।
মাদক ব্যবসার পাশাপাশি লিমন-ইমরান বাহিনীর সদস্যরা নির্মাণ সামগ্রী সরবরাহের নামে চাঁদাবাজী, বিচার-শালিসীর নামে অর্থ আত্মসাৎ, সুন্দরী নারী-তরুণী দিয়ে ফ্ল্যাট ব্যবসার পাশাপাশি ব্যবসায়ী, ধনী, টার্গেটকৃত ব্যক্তিদের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাক মেইলিংয়ের মাধ্যমে নগদ অর্থ আদায়ের মতো ভয়ংকর সব অপরাধের জন্ম দিয়ে কামিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। থানা পুলিশের কথিত সোর্সরা আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদেরকে সহোযোগিতা করে থাকে।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র মতে, এ সকল অপরাধীদের সাথে থানা পুলিশের বেশ কয়েক কর্মকর্তার সাথে রয়েছে গভীর সখ্যতা। সে সকল পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রায় রাতেই দেখা যায়, পাগলা রেললাইন বটতলাস্থ লিমন-ইমরানের অফিসে খোশগল্পে মেতে থাকতে। লিমন-ইমনের রয়েছে বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী তার উপর পুলিশের সাথে গভীর সখ্যতা রয়েছে। ফলে নির্যাতিত ভুক্তভোগীদের কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলেও নতুন করে এই সন্ত্রাসী বাহিনীর রোষানলের শিকার হবার ভয়ে প্রতিবাদ বা আইনি সাহায্য গ্রহণ করার সাহস টুকু পর্যন্ত করেন না।
তথ্য মতে, বউবাজার, বটতলা, শাহীবাজার, আকনপট্টি, প্যারাডাইস সিটি ও মল্লিকের মাঠ সহ আশপাশ এলাকার অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণে ইমরান-লিমনের রয়েছে বিশাল এক বাহিনী। এই বাহিনীর উল্লেখ্যযোগ্যরা হলো- ইমরানের ডান হাত খ্যাত ইব্রাহিম ওরফে ডিলার ইব্রাহিম, সামাদ, কালা চাঁন, ফোটনা রাসেল, ইমরানের চাচাতো ভাই ইয়াবা ব্যবসায়ী নাঈম। মাদক ব্যবসায়ী, মাদকাসক্ত ও কিশোর গ্যাং লিডার সোহান ওরফে ভাগ্নে সোহান, চাঁদ সিকদারের ভাই জসিম, বউবাজারের ফেন্সিডিলের ডিলার, সোহানের বাবা কালা জাহাঙ্গীর, ইয়াবার ডিলার ফারদিন, সাইফুল, গেমস লিটন, প্লাবন মানিক, সাইফুল ও মোস্তফা।
এছাড়া উল্লেখযোগ্যরা হলো- নাবিল, মদ রনি, জিয়া, লিটন, মোজাম্মেল, গোলাপ, সিরাজ,জাকির, শাওন ডিজে রাকিব, রবি রায়হান, রকি, মোক্তার, ফারদীন ও এসকে শরীফ এরা সকলেই উলে¬খিত এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও এদের প্রায় সবাই কিশোর গ্যাং সদস্য এবং মাদকাসক্ত।
স্থানীয় সকল পেশাজীবি মহলের দাবী ছাত্রলীগ নামধারী ইমরান-লিমন সহ উল্লেখিত অপরাধীদের গ্রেফতার করা হলে অনেকাংশেই নির্মূল হবে পাগলার রেললাইন বটতলা, শাহী মহল্লা, আকনপট্টি, প্যারাডাইস সিটি ও মল্লিকের মাঠ সহ আশপাশ এলাকার অপরাধ। আর তাই তাদেরকে গ্রেফতারে জেলা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন স্থানীয় এলাকাবাসী।