ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কর্মস্থলে ফিরলেও দায়িত্ব বুঝে পাননি টিটিই শফিকুল

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৩:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মে ২০২২
  • ২২২ বার পড়া হয়েছে

রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ এবং তাদের জরিমানা করে বরখাস্ত হওয়া ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম কর্মস্থলে ফিরেছেন। বরখাস্ত প্রত্যাহার করে স্বপদে ফিরিয়ে দেওয়ায় সোমবার (০৯ মে) থেকে তিনি অফিস করছেন।

বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করে টিটিই শফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার পুনর্বহালের আদেশ হলেও আমি গতকাল আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাইনি। আজ আদেশের কপি হাত পাওয়ার পর ডিআরএম স্যারের বরাবর কাজে যোগদানের আবেদন করি। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে নিজ অফিসে চলে আসি।

সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) ধন্যবাদ দেওয়ার মতো ভাষা আমার জানা নেই। আমি সারা জীবন আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।’

এর আগে রোববার দুপুরে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের শুরুতেই টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এ দিন নিজ ক্ষমতাবলে টিটিইর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল করেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি বরখাস্তকারী পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনকে শোকজ করেন। তাকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলামকে প্রধান এবং সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) শিপন আলী ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ডেন্ট (এসিআরএনবি) আবু হেনা মোস্তফা কামালকে সদস্য করা হয়।

এ ঘটনার পর ওই তিন আত্মীয়ের পরিচয় অস্বীকার করে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করা যাত্রীরা আমার আত্মীয় নয়; তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কেউ হয়তো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’

রেলমন্ত্রী পরিচয় অস্বীকার করলেও সরেজমিনে গিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। ট্রেন যাত্রীরা হলেন- রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী শাম্মি আক্তার মনির দুই মামাতো ভাই ওমর ফারুক ও হাসান আলী এবং অপরজন প্রতিবেশী ইমরুল কায়েস প্রান্ত। ওমর ফারুক পাবনার ঈশ্বরদীর শহরের নুর মহল্লার মৃত আব্দুর রহমান ও হাসান আলী একই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। আর প্রান্ত ঈশ্বরদীর ফতেহ মোহাম্মদপুর এলাকার কবির আহমেদের ছেলে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রান্তর মা ইয়াসমিন আক্তার নিপা রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মি আক্তার মনির খুবই ঘনিষ্ট। মনি ঈদুল ফিতর তার বাসায় উদযাপন করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

কর্মস্থলে ফিরলেও দায়িত্ব বুঝে পাননি টিটিই শফিকুল

আপডেট সময় ০৩:২৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ মে ২০২২

রেলমন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে বিনা টিকেটে রেল ভ্রমণ এবং তাদের জরিমানা করে বরখাস্ত হওয়া ভ্রাম্যমাণ টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) শফিকুল ইসলাম কর্মস্থলে ফিরেছেন। বরখাস্ত প্রত্যাহার করে স্বপদে ফিরিয়ে দেওয়ায় সোমবার (০৯ মে) থেকে তিনি অফিস করছেন।

বিষয়টি ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করে টিটিই শফিকুল ইসলাম বলেন, রোববার পুনর্বহালের আদেশ হলেও আমি গতকাল আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পাইনি। আজ আদেশের কপি হাত পাওয়ার পর ডিআরএম স্যারের বরাবর কাজে যোগদানের আবেদন করি। আবেদন মঞ্জুর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঈশ্বরদী রেলস্টেশনে নিজ অফিসে চলে আসি।

সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের (সাংবাদিক) ধন্যবাদ দেওয়ার মতো ভাষা আমার জানা নেই। আমি সারা জীবন আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকবে।’

এর আগে রোববার দুপুরে এই ঘটনায় তদন্ত কমিটির কার্যক্রমের শুরুতেই টিটিই শফিকুল ইসলামের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়। এ দিন নিজ ক্ষমতাবলে টিটিইর বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করে তাকে স্বপদে বহাল করেন পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক শাহিদুল ইসলাম। একইসঙ্গে তিনি বরখাস্তকারী পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে বাণিজ্যিক কর্মকর্তা (ডিসিও) নাসির উদ্দিনকে শোকজ করেন। তাকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এতে পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে সহকারী পরিবহন কর্মকর্তা (এটিও) সাজেদুল ইসলামকে প্রধান এবং সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী (এইএন) শিপন আলী ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সহকারী কমান্ডেন্ট (এসিআরএনবি) আবু হেনা মোস্তফা কামালকে সদস্য করা হয়।

এ ঘটনার পর ওই তিন আত্মীয়ের পরিচয় অস্বীকার করে রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, ‘বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করা যাত্রীরা আমার আত্মীয় নয়; তাদের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। মন্ত্রীর নাম ভাঙিয়ে কেউ হয়তো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছে। ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।’

রেলমন্ত্রী পরিচয় অস্বীকার করলেও সরেজমিনে গিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়। ট্রেন যাত্রীরা হলেন- রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজনের স্ত্রী শাম্মি আক্তার মনির দুই মামাতো ভাই ওমর ফারুক ও হাসান আলী এবং অপরজন প্রতিবেশী ইমরুল কায়েস প্রান্ত। ওমর ফারুক পাবনার ঈশ্বরদীর শহরের নুর মহল্লার মৃত আব্দুর রহমান ও হাসান আলী একই এলাকার মৃত আশরাফ আলীর ছেলে। আর প্রান্ত ঈশ্বরদীর ফতেহ মোহাম্মদপুর এলাকার কবির আহমেদের ছেলে। ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রান্তর মা ইয়াসমিন আক্তার নিপা রেলমন্ত্রীর স্ত্রী শাম্মি আক্তার মনির খুবই ঘনিষ্ট। মনি ঈদুল ফিতর তার বাসায় উদযাপন করেছেন।