ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছেঁড়া কাপড় পার্সেল পাঠিয়ে মাসে আয় ৩৫ লাখ টাকা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ১২:৩৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২
  • ২৫৬ বার পড়া হয়েছে
অনলাইনের বিভিন্ন পেজে কম দামে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখে অর্ডার করত ক্রেতারা। ক্যাশঅন ডেলিভারির নামে আগেই টাকা নিয়ে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে পাঠানো হতো পার্সেল। ক্রেতা পার্সেল গ্রহণের পর দেখত তাকে নিম্নমানের ছেঁড়া অব্যবহারযোগ্য কাপড় পাঠানো হয়েছে। পরে অনলাইন পেজটিতে যোগাযোগ করলে ক্রেতাকে ব্লক করে দেওয়া হতো।
এভাবে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন ক্রেতাকে ঠকিয়ে মাসে ৩০-৩৫ লাখ টাকা আয় করা একটি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. বাপ্পি হাসান, মো. আরিফুল ওরফে হারিসুল, মো. সোহাগ হোসেন, মো. বিপ্লব শেখ ও নুর মোহাম্মদ। গত রোববার রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যবহার অযোগ্য ও অতি নিম্নমানের পুরনো ছেঁড়া শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি পিসসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রাজীব আল মাসুদ জানান, চক্রটি ৫-৬ বছর ধরে ছেঁড়া অব্যবহারযোগ্য কাপড় পার্সেল পাঠিয়ে মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। পার্সেল পাঠাতে তাদের সহযোগিতা করত কুরিয়ার সার্ভিস এসএ পরিবহনের ৫-৭ জন। কুরিয়ার করতে প্রতিটি পার্সেলে অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে নিত এসএ পরিবহনের অসাধু ওই সদস্যরা। তাদের সবার নাম পাওয়া গেছে। ডিসি বলেন, ছেঁড়া কাপড় পাওয়ার পর ক্রেতা টাকা ফেরত চাইলে প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার ও গালাগাল করে ব্লক করে দেওয়া হতো।
সবাই অল্প টাকার পণ্য কিনে প্রতারিত হওয়ায় লজ্জায় কাউকে জানাত না, এমনকি থানায় অভিযোগও করত না। আর এ সুযোগটিই কাজে লাগিয়ে আসছিল চক্রের সদস্যরা। তাদের মোট ২১টি ফেসবুকপেজ শনাক্ত করা হয়েছে। কোনো পেজে যদি ক্রেতারা তাদের প্রতারণার বিষয়টি কমেন্ট করে জানাত, তা হলে চক্রের সদস্যরা সেই পেজ বন্ধ করে দিত। নড়াইলে থাকা এ চক্রের অন্য সদস্যদের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান ডিবি কর্মকর্তা।
ঈদকে ঘিরে অনলাইন প্রতারকরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, এটি মনিটরের জন্য আলাদা সেল রয়েছে। এ বিষয়গুলো তারাই বলতে পারবে।
Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছেঁড়া কাপড় পার্সেল পাঠিয়ে মাসে আয় ৩৫ লাখ টাকা

আপডেট সময় ১২:৩৮:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ এপ্রিল ২০২২
অনলাইনের বিভিন্ন পেজে কম দামে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পণ্যের বিজ্ঞাপন দেখে অর্ডার করত ক্রেতারা। ক্যাশঅন ডেলিভারির নামে আগেই টাকা নিয়ে এসএ পরিবহনের মাধ্যমে পাঠানো হতো পার্সেল। ক্রেতা পার্সেল গ্রহণের পর দেখত তাকে নিম্নমানের ছেঁড়া অব্যবহারযোগ্য কাপড় পাঠানো হয়েছে। পরে অনলাইন পেজটিতে যোগাযোগ করলে ক্রেতাকে ব্লক করে দেওয়া হতো।
এভাবে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন ক্রেতাকে ঠকিয়ে মাসে ৩০-৩৫ লাখ টাকা আয় করা একটি চক্রের ৫ সদস্যকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. বাপ্পি হাসান, মো. আরিফুল ওরফে হারিসুল, মো. সোহাগ হোসেন, মো. বিপ্লব শেখ ও নুর মোহাম্মদ। গত রোববার রাজধানীর হাজারীবাগ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যবহার অযোগ্য ও অতি নিম্নমানের পুরনো ছেঁড়া শাড়ি, লেহেঙ্গা, থ্রি পিসসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী উদ্ধার করা হয়।
গতকাল সোমবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি লালবাগ বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. রাজীব আল মাসুদ জানান, চক্রটি ৫-৬ বছর ধরে ছেঁড়া অব্যবহারযোগ্য কাপড় পার্সেল পাঠিয়ে মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিল। পার্সেল পাঠাতে তাদের সহযোগিতা করত কুরিয়ার সার্ভিস এসএ পরিবহনের ৫-৭ জন। কুরিয়ার করতে প্রতিটি পার্সেলে অতিরিক্ত ৫০ টাকা করে নিত এসএ পরিবহনের অসাধু ওই সদস্যরা। তাদের সবার নাম পাওয়া গেছে। ডিসি বলেন, ছেঁড়া কাপড় পাওয়ার পর ক্রেতা টাকা ফেরত চাইলে প্রচণ্ড দুর্ব্যবহার ও গালাগাল করে ব্লক করে দেওয়া হতো।
সবাই অল্প টাকার পণ্য কিনে প্রতারিত হওয়ায় লজ্জায় কাউকে জানাত না, এমনকি থানায় অভিযোগও করত না। আর এ সুযোগটিই কাজে লাগিয়ে আসছিল চক্রের সদস্যরা। তাদের মোট ২১টি ফেসবুকপেজ শনাক্ত করা হয়েছে। কোনো পেজে যদি ক্রেতারা তাদের প্রতারণার বিষয়টি কমেন্ট করে জানাত, তা হলে চক্রের সদস্যরা সেই পেজ বন্ধ করে দিত। নড়াইলে থাকা এ চক্রের অন্য সদস্যদের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গোয়েন্দা নজরদারিতে রাখা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হাজারীবাগ থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে বলেও জানান ডিবি কর্মকর্তা।
ঈদকে ঘিরে অনলাইন প্রতারকরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, এটি মনিটরের জন্য আলাদা সেল রয়েছে। এ বিষয়গুলো তারাই বলতে পারবে।