ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিস্ফোরকসহ যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৯:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতারকৃত ইমন লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম এবং অপরাধের সময় পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে মজুত করা ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিকেলে মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসা থেকে ককটেল তৈরির কস্টিক সোডা ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, সালফার ১ কেজি ৬০০ গ্রাম, স্প্লিন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য ৫ কেজি মারবেল ও ২ কেজি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর লাল ও কালো কস্টেপ এবং উপাদান গুঁড়ো করার ব্লেন্ডার মেশিন উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ৩ কার্টনে মোট ৯ হাজার কাগজের মুখোশ এবং মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক উদ্ধার করে পুলিশ।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার জানান, উদ্ধারকৃত মুখোশগুলো বিভিন্ন মিছিল বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সময় অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখার জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাতপরিচয় এক ভ্যানচালকের সাহায্যে এই মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং পরবর্তীতে নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণের জন্য তিনি এগুলো বাসায় সংরক্ষণ করেছিলেন।

ইমন আরও স্বীকার করেছেন যে, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দিয়ে ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করার কথা ছিল। অন্য এক ব্যক্তি তার বাসায় এসে বিস্ফোরক গুঁড়ো করে ককটেল বানাতেন। এক বড় নেতার নির্দেশেই তিনি এই নাশকতার কাজে যুক্ত হন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে হওয়া ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইমনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং সামনে বড় ধরনের কোনো নাশকতার শঙ্কা রয়েছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ বা ছোট ছোট যেসব মিছিল হচ্ছে, তার সঙ্গে নিষিদ্ধ দলের কেউ কেউ জড়িত। তবে ভবিষ্যতে এর সম্ভাবনা কতটুকু, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সচেতন রয়েছে এবং প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

বিস্ফোরকসহ যুবলীগ নেতা গ্রেফতার

আপডেট সময় ০৯:২৭:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিএনএমঃ

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জাহিদ হাসান ইমন (৩০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বাগাশুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতারকৃত ইমন লালবাগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক।
এ সময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম এবং অপরাধের সময় পরিচয় গোপন রাখার উদ্দেশ্যে মজুত করা ৯ হাজার কাগজের মুখোশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বিকেলে মিন্টু রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম প্রিভেনশন-সাউথ) মো. তোফায়েল আহমেদ মিয়া এসব তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর যাত্রাবাড়ী থানার সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তদন্তের একপর্যায়ে জাহিদ হাসান ইমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় শ্যামপুর মডেল থানা পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
পরবর্তীতে ইমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসা থেকে ককটেল তৈরির কস্টিক সোডা ১ কেজি ৫০০ গ্রাম, সালফার ১ কেজি ৬০০ গ্রাম, স্প্লিন্টার হিসেবে ব্যবহারের জন্য ৫ কেজি মারবেল ও ২ কেজি তারকাঁটা, ককটেল মোড়ানোর লাল ও কালো কস্টেপ এবং উপাদান গুঁড়ো করার ব্লেন্ডার মেশিন উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ৩ কার্টনে মোট ৯ হাজার কাগজের মুখোশ এবং মুখোশ পরার ৩০ প্যাকেট ইলাস্টিক উদ্ধার করে পুলিশ।

ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার জানান, উদ্ধারকৃত মুখোশগুলো বিভিন্ন মিছিল বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সময় অপরাধীদের পরিচয় গোপন রাখার জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমন জানিয়েছেন, লালবাগের এক নেতার মাধ্যমে অজ্ঞাতপরিচয় এক ভ্যানচালকের সাহায্যে এই মুখোশগুলো তার কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং পরবর্তীতে নেতাকর্মীদের মাঝে বিতরণের জন্য তিনি এগুলো বাসায় সংরক্ষণ করেছিলেন।

ইমন আরও স্বীকার করেছেন যে, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দিয়ে ককটেল তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় ব্যবহার করার কথা ছিল। অন্য এক ব্যক্তি তার বাসায় এসে বিস্ফোরক গুঁড়ো করে ককটেল বানাতেন। এক বড় নেতার নির্দেশেই তিনি এই নাশকতার কাজে যুক্ত হন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীতে হওয়া ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাগুলোর সঙ্গে ইমনের জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন এবং সামনে বড় ধরনের কোনো নাশকতার শঙ্কা রয়েছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তোফায়েল আহমেদ মিয়া বলেন, ককটেল বিস্ফোরণ বা ছোট ছোট যেসব মিছিল হচ্ছে, তার সঙ্গে নিষিদ্ধ দলের কেউ কেউ জড়িত। তবে ভবিষ্যতে এর সম্ভাবনা কতটুকু, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সচেতন রয়েছে এবং প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছে।