ঢাকা ০৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে শুটিং

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৫:৩৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সিএনএম ডেস্কঃ

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডে পা রাখা অভিনেত্রী দিয়া মির্জা একাধিক সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। গ্ল্যামারাস চরিত্রের পাশাপাশি ভিন্নধর্মী অভিনয়েও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মহব্বত হ্যায়’ গানটি দিয়াকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। ইমরান হাশমির সঙ্গে তার নাচ দর্শকের নজর কাড়লেও গানটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল তার জন্য বেশ কঠিন।

সম্প্রতি ‘বলিউড বাবল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান দিয়া। তিনি বলেন, গানের একটি দৃশ্যের শুটিংয়ে সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে অভিনয় করতে হয়েছিল তাকে।

দিয়া জানান, এমন দৃশ্যে কাজ করার আগে স্বাভাবিকভাবেই তার মধ্যে দ্বিধা ছিল। বিশেষ করে সে সময় নিজের শরীর নিয়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়। ওই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।

দিয়ার ভাষায়, ‘এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যা আমি কখনো আশা করিনি।’

শুটিংয়ের কঠিন দিক তুলে ধরে দিয়া বলেন, ‘একজন মেয়ে হিসেবে সম্ভবত এটাই আমার করা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ সেটে শত শত পুরুষের সামনে আমাকে প্রায় নগ্ন হতে হয়েছিল, অর্থাৎ অন্তর্বাস পরে শুট করতে হয়েছিল।’

তবে সেটের পরিবেশ তাকে অস্বস্তিতে ফেলেনি বলে জানান দিয়া। নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টসহ পুরো দলের সহযোগিতায় নিজেকে নিরাপদ অনুভব করেছিলেন তিনি।

কেন শেষ পর্যন্ত ওই দৃশ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেন অভিনেত্রী। তার মতে, একজন অভিনয়শিল্পীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্রের সত্য উপলব্ধি করা এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ করা হচ্ছে, তা বোঝা।

দিয়া বলেন, ‘বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ সেই সময়ের মধ্যে আমি বুঝে গিয়েছিলাম, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের সত্যিটা খুঁজে বের করা জরুরি।’

এমনকি সেটে ৫০০ কিংবা ১ হাজার মানুষ থাকলেও একসময় বিষয়টি আর তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না বলেও জানান তিনি।

হায়দ্রাবাদে রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠা দিয়া নিজের শরীর নিয়ে একসময় যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। তবে ‘তুমসা নেহি দেখা’র কাজ সেই ধারণা বদলে দেয় বলে জানান তিনি।

দিয়ার ভাষায়, ‘আমি হায়দ্রাবাদের মেয়ে। খুব রক্ষণশীল পরিবেশে বড় হয়েছি। নিজের শরীর নিয়েও তখন খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না। কিন্তু ওই সিনেমাই আমাকে নিজের শরীর নিয়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল।’

তার কাছে ‘মুঝে তুমসে মহব্বত হ্যায়’ শুধু একটি গান নয়, বরং নিজের ভেতরের সংকোচ কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে শুটিং

আপডেট সময় ০৫:৩৯:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬

সিএনএম ডেস্কঃ

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মঞ্চ থেকে বলিউডে পা রাখা অভিনেত্রী দিয়া মির্জা একাধিক সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন। গ্ল্যামারাস চরিত্রের পাশাপাশি ভিন্নধর্মী অভিনয়েও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি।

২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘তুমসা নেহি দেখা’ সিনেমার ‘মুঝে তুমসে মহব্বত হ্যায়’ গানটি দিয়াকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে আসে। ইমরান হাশমির সঙ্গে তার নাচ দর্শকের নজর কাড়লেও গানটির শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল তার জন্য বেশ কঠিন।

সম্প্রতি ‘বলিউড বাবল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান দিয়া। তিনি বলেন, গানের একটি দৃশ্যের শুটিংয়ে সেটে উপস্থিত শত শত পুরুষের সামনে অন্তর্বাস পরে অভিনয় করতে হয়েছিল তাকে।

দিয়া জানান, এমন দৃশ্যে কাজ করার আগে স্বাভাবিকভাবেই তার মধ্যে দ্বিধা ছিল। বিশেষ করে সে সময় নিজের শরীর নিয়ে খুব একটা আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা তার প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক হয়। ওই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে তার আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও ভূমিকা রাখে।

দিয়ার ভাষায়, ‘এই শুটিংয়ের অভিজ্ঞতা আমাকে এমনভাবে মুক্ত করেছিল, যা আমি কখনো আশা করিনি।’

শুটিংয়ের কঠিন দিক তুলে ধরে দিয়া বলেন, ‘একজন মেয়ে হিসেবে সম্ভবত এটাই আমার করা সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। কারণ সেটে শত শত পুরুষের সামনে আমাকে প্রায় নগ্ন হতে হয়েছিল, অর্থাৎ অন্তর্বাস পরে শুট করতে হয়েছিল।’

তবে সেটের পরিবেশ তাকে অস্বস্তিতে ফেলেনি বলে জানান দিয়া। নৃত্যপরিচালক বৈভবী মার্চেন্টসহ পুরো দলের সহযোগিতায় নিজেকে নিরাপদ অনুভব করেছিলেন তিনি।

কেন শেষ পর্যন্ত ওই দৃশ্যে কাজ করতে রাজি হয়েছিলেন, সেটিও ব্যাখ্যা করেন অভিনেত্রী। তার মতে, একজন অভিনয়শিল্পীর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্রের সত্য উপলব্ধি করা এবং সেই চরিত্রের মাধ্যমে কী প্রকাশ করা হচ্ছে, তা বোঝা।

দিয়া বলেন, ‘বিষয়টি অস্বস্তিকর হতে পারত। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। কারণ সেই সময়ের মধ্যে আমি বুঝে গিয়েছিলাম, একজন অভিনেতার জন্য চরিত্রের সত্যিটা খুঁজে বের করা জরুরি।’

এমনকি সেটে ৫০০ কিংবা ১ হাজার মানুষ থাকলেও একসময় বিষয়টি আর তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল না বলেও জানান তিনি।

হায়দ্রাবাদে রক্ষণশীল পরিবেশে বেড়ে ওঠা দিয়া নিজের শরীর নিয়ে একসময় যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। তবে ‘তুমসা নেহি দেখা’র কাজ সেই ধারণা বদলে দেয় বলে জানান তিনি।

দিয়ার ভাষায়, ‘আমি হায়দ্রাবাদের মেয়ে। খুব রক্ষণশীল পরিবেশে বড় হয়েছি। নিজের শরীর নিয়েও তখন খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম না। কিন্তু ওই সিনেমাই আমাকে নিজের শরীর নিয়ে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছিল।’

তার কাছে ‘মুঝে তুমসে মহব্বত হ্যায়’ শুধু একটি গান নয়, বরং নিজের ভেতরের সংকোচ কাটিয়ে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা।