ঢাকা ০২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেরানীগঞ্জে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যা

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৭:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

সিএনএমঃ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে খালার বাসা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া তানজিলা (১৭) নামে এক কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের গদারবাগ গ্রিন সিটি-সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকা থেকে তানজিলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বাঘৈর রাজেন্দ্রপুর এলাকার মৃত হাবিব মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে তানজিলা নিজ বাড়ি থেকে কালিন্দীতে খালা জরিনা বেগমের বাসায় যান। দুপুরে সেখানে খাবার খেয়ে বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তবে এরপর তিনি আর বাড়িতে পৌঁছাননি।

সন্ধ্যা পর্যন্ত তানজিলা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাতভর অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়রা গদারবাগ গ্রিন সিটি-সংলগ্ন বালুর মাঠে এক কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের মা নাছিমা বেগম ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি তার মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাছিমা বেগম বলেন, সকালে খালার বাসায় যাওয়ার পর দুপুরে বাড়ির উদ্দেশে বের হয়েছিল তার মেয়ে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সারা রাত খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. মামুন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতের চলাফেরা, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর হত্যার কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

CrimeNews Media24

কেরানীগঞ্জে কিশোরীকে গলা কেটে হত্যা

আপডেট সময় ০৭:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

সিএনএমঃ

ঢাকার কেরানীগঞ্জে খালার বাসা থেকে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে নিখোঁজ হওয়া তানজিলা (১৭) নামে এক কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে কেরানীগঞ্জের কালিন্দী ইউনিয়নের গদারবাগ গ্রিন সিটি-সংলগ্ন বালুর মাঠ এলাকা থেকে তানজিলার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি বাঘৈর রাজেন্দ্রপুর এলাকার মৃত হাবিব মিয়ার মেয়ে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে তানজিলা নিজ বাড়ি থেকে কালিন্দীতে খালা জরিনা বেগমের বাসায় যান। দুপুরে সেখানে খাবার খেয়ে বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। তবে এরপর তিনি আর বাড়িতে পৌঁছাননি।

সন্ধ্যা পর্যন্ত তানজিলা বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ও সম্ভাব্য স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাতভর অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়রা গদারবাগ গ্রিন সিটি-সংলগ্ন বালুর মাঠে এক কিশোরীর গলা কাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে নিহতের মা নাছিমা বেগম ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি তার মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাছিমা বেগম বলেন, সকালে খালার বাসায় যাওয়ার পর দুপুরে বাড়ির উদ্দেশে বের হয়েছিল তার মেয়ে। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিল। সারা রাত খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার সকালে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার এসআই মো. মামুন বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। নিহতের চলাফেরা, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর হত্যার কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।